প্রচ্ছদ

উখিয়ার হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূজোর আমেজ

০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৪

329

অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন উৎসবের আমেজ। প্রাণভয়ে পৈতৃক বসতভিটা ছেড়ে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া এই মানুষগুলো গত বছর দুর্গোৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু এ বছর তাদের সেই দুঃখ ঘুচছে। ওই শিবিরে প্রথমবারের মতো পালিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আয়োজনে জৌলুস হয়তো তেমন থাকবে না, কিন্তু ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বরণ করতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

কক্সবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রঞ্জিত দাস বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন নিজেই হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্গাপূজা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেই আমরা ওই ক্যাম্পে এ বছর দুর্গাপূজার আয়োজন করতে যাচ্ছি।

মো. কামাল হোসেন বলেন, বাস্তুহারা হয়ে রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু রোহিঙ্গা যারা আছেন তাদেরও নিজ ধর্ম উদযাপনের অধিকার আছে। এ জন্যই ওই ক্যাম্পে পূজা উদপানের প্রস্তুতি চলছে।

পূজার বাজেট কেমন হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজেট বড় নয়। আমাদের লক্ষ্য আনন্দপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করা। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত করব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ক্যাম্পে চলছে অস্থায়ী মন্ডপ তৈরির কাজ। সেই সঙ্গে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন উখিয়ার প্রতিমা কারিগররা। প্রতিমা তৈরির বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে আনা হবে ঢুলি। চোখ ধাঁধানো না হলেও থাকবে আলোকসজ্জা। পূজা দেখতে আসবেন বিদেশি অতিথিরাও। কলকাতা টিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজার কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য ক্যাম্পের মাঝি (প্রধান) সুমন্ত রুদ্রকে আহ্বায়ক এবং মধুরাম পালকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতার জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কক্সবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা বলেন, ক্যাম্পের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা কাজ করছি। ক্যাম্পের লোকেরা যেহেতু ক্যাম্পের বাইরে বের হতে পারবে না; তাই আমরা ক্যাম্পের লোকদের দিয়ে একটি এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের দিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা পূজার সময় ক্যাম্পের বাইরে যেসব কাজ থাকবে সেগুলো করবে। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। পূজা শেষে বিসর্জনের সময়ও রাখা হবে বিশেষ নিরাপত্তা। প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় হিন্দুরা ক্যাম্প থেকে প্রতিমা বের করে সমুদ্রসৈকতে বিসর্জন দেবেন।
গত বছর ২৫ আগস্টের সহিংস ঘটনার পর মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসে ৫২৩ জন হিন্দু রোহিঙ্গা। তাদের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে রাখা হয়। গত বছর দুর্গাপূজার সময় ওই হিন্দু পরিবারের ২৭ জন পূজা দেখতে যাওয়ার কথা বলে অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে বের হন। তারা আর ক্যাম্পে ফিরে আসেননি। ক্যাম্পে এখন রয়েছেন ৪৯৬ হিন্দু রোহিঙ্গা।

সর্বাধিক ক্লিক