প্রচ্ছদ

‘ওপারে ভালো থাকিস লিটন’

১২ মে ২০১৯, ১৮:১৫

sylnewsbd.com

দেবব্রত রায় দিপন :: ‘দাদা, বিদেশের একটি আলাপ চলছে। আশা করি হয়ে যাবে। তাই কাল থেকে আর অফিসে আসতে পারছিনা। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকদিনের। আপনার কাছে আমার অনেক ঋণ রয়েছে দাদা। আশা করি বিদেশ যেতে পারলে আপনার ভালোবাসার ঋণ কিছুটা শোধ করতে পারবো। আপনি আমার জন্য শুধু দোয়া করবেন দাদা’।
কথাগুলো প্রায় ছয় মাস আগের। আমি তখন যমুনা নিউজের সিলেট অফিসে কাজ করি। সেখানে আমিই নিয়ে আসি লিটনকে। সপ্তাহখানেক কাজ করার পর হঠাৎই পারিবারিক সিদ্ধান্তে লিটনকে বিদেশের জন্য রাজী করানো হয়। তাই আমার কাছ থেকে বিদায় নিতে এভাবেই আর্তি জানায় লিটন।
পুরো নাম লিটন আহমদ। বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জে। সিলনিউজ বিডিতে কাজ করতে গিয়ে লিটনের সাথে প্রথম পরিচয়। তারপর থেকে সংবাদ সংগ্রহ এবং সংবাদ তৈরির সবটুকুই নিজ হাতে শিখিয়েছি লিটনকে। নিজের ছোটোভাই প্যারিস প্রবাসী থাকায় সেই শুন্যতা পুষেয়েছি লিটনকে পাশে পেয়ে। সেই লিটনের বিদেশ যাবার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে চিরতরে। ইতালীতে যাবার যাত্রকালে ভুমধ্য সাগরেই সলিল সমাধি হয়েছে লিটনের।
লিটন যখন আমার কাছ থেকে বিদায় নিতে আসছিলো, সেদিনও সিলনিউজবিডির প্রতি তাঁর ভালোবাসার জানান দিয়েছিলো। বারবার সম্পাদক নাজমুল কবির পাভেলের নাম উচ্চারণ করে বলছিলো-পাভেল ভাই আমাকে জায়গা না দিলে আমার সাংবাদিকতা শেখা হতোনা এবং আপনার মতো একজন মানুষের সহচর্য মিস হয়ে যেতো। লিটনের মৃত্যু সংবাদ জানার পর থেকে নিজেকে সামলাতে পারছিনা কিছুতেই। বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছি।
অফিসে লিটন প্রতিবেলা নামাজ আদায় করতো। একদিন আমার বড় মেয়েকে নিয়ে আমার সাংসারিক দৈন্যতার জানান দিয়েছিলাম ফেসবুকে। লিটন সেদিন নামাজ আদায় করে বসলো আমার কাছে। তারপর বললো-দাদা আপনার এই অভাব খুব বেশিদিন থাকবেনা, আমি নামাজ আদায় করে বারবার মাবুদের দরবারে আপনার মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন। এমনিভাবে আরো কতো সহজ-সরল বর্ণনা আজ কেবলি দু’চোখে ভেসে উঠছে।
সুবর্না সরকারও ছিলো আমাদের সহকর্মী। বয়সে দুজন কাছাকাছি থাকায় লিটন এবং সুবর্ণার মধ্যে ভাই-বোনের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। সকালবেলা সুবর্ণা আমাকে ফোন দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। সুবর্ণার কান্নায় আমারও কান্নার বেগ বেড়ে গেলো। লিটন তার স্বভাতজাত সারল্যে এমনি করেই প্রতিটি মানুষের অন্তপুরে প্রবেশ করতে পেরেছিলো। আজ লিটনকে নিয়ে আর কিছু লিখতে পারছিনা। আমার দু’চোখ জলে ভরে উঠছে। সবশেষে বলবো-লিটন যেখানেই থাকিস, খুব খুব খুব ভালো থাকিস ভাই আমার।

সর্বাধিক ক্লিক