প্রচ্ছদ

কোরআন পাঠের ফজিলত অসীম

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:১৬

329

মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী :: কোরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এই কিতাব নাজিল হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন নবী-রসুলের ওপর যেসব কিতাব আল্লাহ নাজিল করেছিলেন, কোরআন নাজিলের পর সেগুলোর বিধান অকার্যকর হয়ে যায়। সেহেতু সেগুলো আর অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা নেই। কিয়ামত পর্যন্ত কোরআনের বিধান মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। কোরআনের আলো মানুষকে সত্য-সুন্দরের পথ দেখাবে। কোরআন পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবনযাপনে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। কোনটি সঠিক আর কোনটি মিথ্যা সে বিষয়টি মানুষের উপলব্ধিতে আসে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের অন্তরেও মরিচা পড়ে যায়, যেমন লোহায় পানি লাগার কারণে মরিচা পড়ে।’ জিজ্ঞাসা করা হলো ইয়া রসুলুল্লাহ! তা পরিষ্কার করার উপায় কী? তিনি বললেন, ‘মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা ও কোরআন তিলাওয়াত।’ বায়হাকি, শুয়াব।

মানুষ যখন ভুল পথে চলে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশিত পথ থেকে সরে এসে গুনাহে লিপ্ত হয় তখন তার মনে মরিচা পড়ে। এ মরিচা দূর করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হলো মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। মৃত্যুর কথা মানুষ যখন বেশি বেশি স্মরণ করে তখন দুনিয়ার ওপর তার মোহ কেটে যায়। তার অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়। এ ভয় তার মনের মরিচা দূর করে। সে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশিত পথে চলার জন্য উম্মু খ হয়। একইভাবে কোরআন পাঠের মাধ্যমে সে নিজেকে শুধরে নেওয়ার পথ খুঁজে পায়। মনের আয়না পরিষ্কার হলে তার সামনে আখেরাতের চিত্র স্পষ্ট হয়। দুনিয়ার জীবনের জন্য আখেরাতের জীবন নষ্ট করা যে মহা বোকামি সে বিষয়টি তার উপলব্ধি হয়। হজরত আবুজর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরজ করলাম আমাকে কিছু নসিহত করুন। তিনি বললেন, ‘তাকওয়া অবলম্বন কর। কারণ তা সব নেক আমলের মূল।’ আমি আরজ করলাম আরও কিছু নসিহত করুন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কোরআন তিলাওয়াতের এহতেমাম কর। কারণ তা দুনিয়ায় তোমার জন্য নূর ও আখেরাতে সঞ্চিত ধনভান্ডার।’ ইবনে হিব্বান।

উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে তাকওয়া অবলম্বন ও কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব কতটুকু। তাকওয়া বা পরহেজগারি বান্দাকে পাপমুক্ত থাকার শক্তি জোগায়। যার মধ্যে এই সৎ গুণের সৃষ্টি হয়, পাপ তার ধারেকাছে ভিড়তে পারে না। একইসঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত দুনিয়ার জীবনে পাপমুক্ত জীবন-যাপনের যেমন পথনির্দেশ করে তেমন আখেরাতের জীবনের জন্য সঞ্চয় সৃষ্টি করে, যার বদৌলতে জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআন পাঠ ও এই মহাগ্রন্থের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের সামগ্রিক জীবনে অনুসরণের তাওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
বিডি প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক