খাবারের মান চিনুন রেস্তোরাঁর রঙে

ফেব্রুয়ারি ২১ ২০১৮, ১১:৩৮

অনলাইন ডেস্ক :: রাজধানীর অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রেস্তোরাঁগুলোর কোনটির মান কেমন তা না খেয়ে বোঝার উপায় নেই। এতে অনেকেই নিম্নমানের খাবার খেয়ে যেমন প্রতারিত হন, তেমনি অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটে হরহামেশা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, রেস্তোরাঁগুলোতে লাল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন রঙের স্টিকার লাগানো হবে। রং দেখে রেস্তোরাঁর খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। স্টিকারগুলো অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রেস্তোরাঁয় সহজে দৃশ্যমান হয়, এমন স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে। যেসব রেস্তোরাঁর খাবারের মান ও পরিবেশ খারাপ, সেগুলোতে লাল রঙের স্টিকার টানানো থাকবে। যেসব রেস্তোরাঁর খাবারের মান ও পরিবেশ ভালো, সেগুলোতে সবুজ রঙের স্টিকার দেওয়া হবে। আর যেসব রেস্তোরাঁ খাবারের গুণগত মান ও পরিবেশ রক্ষার সব শর্ত পূরণ করতে পারবে না, সেগুলোতে হলুদ রঙের স্টিকার লাগানো হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি প্রকল্পের আওতায় এই কাজ করা হবে। প্রাথমিকভাবে মতিঝিল, দিলকুশা ও তোপখানা এলাকার ১০০-১২৫টি রেস্তোরাঁ এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁগুলোতে জরিপ করা হবে। জরিপের মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোতে কী কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করা হবে। খাবারের মান ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কী কী করতে হবে, সেসব সুপারিশ ঠিক করা হবে। এরপর রেস্তোরাঁর মান অনুযায়ী উপযুক্ত রংসংবলিত স্টিকার লাগানো হবে।

সবুজ স্টিকার পাওয়ার অন্যতম শর্ত হলো রেস্তোরাঁয় বাসি-পচা খাবার বিক্রি করা যাবে না। তোয়ালে বা ন্যাকড়ার পরিবর্তে টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে। খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশনকারীকে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। রান্নাঘর হতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। রান্নাঘর ভোক্তার কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। হাত ধোয়ার বেসিন ও শৌচাগারে আলাদা সাবান থাকতে হবে।

উদ্যোগটি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির বলেন, জরিপের কাজ এ মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। মতিঝিল, দিলকুশা ও তোপখানায় পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে অন্য এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। তাঁদের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মঞ্জুরুল হক। তিনি বলেন, তিনি মতিঝিলে চাকরি করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানেই থাকতে হয়। মাঝেমধ্যেই তাঁকে দুপুরের খাবার রেস্তোরাঁ থেকে কিনে খেতে হয়। মঞ্জুরুল হক বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সবাই ভালো ও খারাপ রেস্তোরাঁ সম্পর্কে জানতে পারবেন। খারাপ রেস্তোরাঁয় কেউ খেতে চাইবেন না। এতে বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর মালিকেরা খাবারের মান ও রেস্তোরাঁর পরিবেশ উন্নয়নের দিকে নজর দেবেন।



এ সংবাদটি 764 বার পড়া হয়েছে.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

sylnewsbd.com

Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ খবর

………………………………….

বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত

....................................................................................... ..........................................

add area

Post Archive

November 2018
S S M T W T F
« Oct    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

সিলেট আরও