খেলারাম খেলে যা: রশীদ জামীল

অক্টোবর ২৪ ২০১৮, ২৩:৪৫

খেলারাম খেলে যা
___ রশীদ জামীল

বাইশ বছর থেকে কওমি স্বীকৃতির কথা বলে বলে অনেক গালি খেয়েছি আমরা। তবুও বলেছি। একটি দিন আসবে বলে। এমন একটি দিন, যেদিন কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ২০১৮তে সেই দিনটি এসেছে। আমরা খুশি হয়েছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছি। খালেদা জিয়া স্বীকৃতি নিয়ে টালবাহানা করলেও তিনি করেননি। এ জন্য শেখ হাসিনা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য ছিলেন। আমরা সেটা জানিয়েছি। আগামীতেও জানাব। আমরা অকৃতজ্ঞ নই।

তবে, যে কথাটি আমরা বিশ বছর থেকে বলে আসছি, যে কথাট ছিল বিশ্বাসের বহুবচনের প্রতিপাদ্য, এবং যে কথাটি আগামীতেও বলতে থাকব, সেটিহল, সবসময়ই আমাদের মুরব্বিদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায় এক শ্রেনির ধূর্তরা। এরা গাছেরটাও খায়, গোড়ারটাও ছাড়ে না।

২.
শেখ হাসিনা কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি আমাদের মতো। কওমি কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল তাঁকে অফিসিয়ালি কংগ্রাচুলেট করা। আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো। সেটা হতে পারত ছয় বোর্ডের ছয়জন প্রতিনিধির নেতৃত্বে একটি দল গনভবনে গিয়ে কৃতজ্ঞতাপত্র পেশ করার মাধ্যমে। হতে পারত সংবাদ সম্মিলন করে জাতীয়ভাবে। হতে পারত নিজস্ব স্টাইলে কওমি কনফারেন্স আয়োজন করে লক্ষ লক্ষ কওমি প্রজন্মের মুখ দিয়ে একই সাথে শুকরিয়া ধ্বনি উচ্চারণ করানোর মধ্যদিয়ে। আরো অনেকভাবেই হতে পারত। কিন্তু কোনোভাবেই যা হওয়া কাম্য ছিল না, আমি জানি না কেন; সেটিকেই বেছে নেওয়া হল। পাগড়ি বেধে এক রাকাত নামাজে সত্তর রাকাতের সওয়াব_কথা তো ঠিকাছে। কিন্তু লুঙ্গি ঠিক রাখতে হবে না?

৩.
অতি উৎসাহিরা সবসমই মাছ ধরে কিন্তু পানি ছোঁয় না। তাঁরা তাদের গায়ে পানি লাগতে দেয় না। হাঁসের মতো। হেফাজতের আন্দোলনের সময় আমরা দেখছিলাম। আশ্চর্য আমরা, তবুও বুঝি না। নাকি বুঝতে চাই না?

অবাক করা ব্যাপার হল, খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখানে সংবর্ধনা নিতে চাইছেন না, উপরন্তু বিব্রতবোধ করার কথা জানাচ্ছেন, সেখানে আমরা তাঁকে বিব্রত করবার জন্য আরবা’আ করে নিয়ত করে বসে আছি!

কেন?
কোন স্বার্থে?
কাদের স্বার্থে?

সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবেই দেবে। সোহরাওয়ার্দিতে গেলেও, শুকরিয়া নামে হলেও। মুর্দা জান্নাতমে যায়ে ইয়া জাহান্নামমে, হু কেয়ারস! জরুরত হালউয়া কি। ডায়াবেটিস হলে হোক। লক্ষণ কি সুবিধার মনেহয়?


ভলতেয়ার বলেছিলেন,
I Disapprove of What You Say, But I Will Defend to the Death Your Right to Say It
‘আমি তোমার মতের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু তোমার মতটি প্রকাশ করার অধিকারের জন্য আমি আমার জীবন দিয়ে দেব।’

আমরা যারা কওমি প্রজন্ম, আমাদের রক্তের গ্রুপ ‘Q’ Positive. ষোলবছর কওমি আঙিনায় কাটিয়ে, অন্যদের কথা জানি না, আমি দুটি শিক্ষা নিয়েই বেরিয়েছি।
এক. বড়দের বিরুদ্ধে না দাঁড়ানো।
দুই. সত্যটা বলে ফেলা, সেটা যত তিতাই হোক।

আমার কেন জানি বিশ্বাস করতে ইচ্ছাকরে, কওমি মুরব্বিদের অনেকেই ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে থাকলেও প্রকাশভঙ্গির সাথে একমত হতে পারছেন না। সেটা তাঁরা বলতেও পারছেন না। তাদের অনেক রেস্ট্রিকশন আছে।

আমাদের হারাবার কিছু নাই। সুতরাং, দিনশেষে আমরা এভাবেই বলব, ‘আপনাদের সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত নই। কিন্তু বিরুদ্ধে দাঁড়াব না।

আমাদের মাথা বিক্রি করে যদি আপনাদের উপকার হয়,
তবে তাই হোক। আপনাদের কল্যান হোক।

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া)

লেখক:সাহিত্যিক, কলামিস্ট।



এ সংবাদটি 890 বার পড়া হয়েছে.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares



sylnewsbd.com

Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ খবর

………………………………….

বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত

....................................................................................... ..........................................

add area

Post Archive

December 2018
S S M T W T F
« Nov    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সিলেট আরও