প্রচ্ছদ

গুজরাট দাঙ্গায় বেঁচে যাওয়া দুই ভাই এবার প্রার্থী

২০ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৪

sylnewsbd.com

সিলনিউজ ডেস্ক :: গুলবার্গ সোসাইটিতে যেদিন গুজরাট দাঙ্গার দাবানল ছড়িয়ে পড়ে দুই ভাই সেদিন বাড়িতে ছিলেন না। ফিরোজ সুরাটে আর ইমতিয়াজ ছিলেন ভারুচে, কাজের প্রয়োজনে। মা, দাদা, ভাই, দুই বৌদি, ভাইপো, ভাইজি এবং কাকাসহ নিজেদের পরিবারের মোট দশজনকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারে দাঙ্গাবাজরা।

গুলবার্গে সেদিন মারা যান ৬৯ জন। আজও নিখোঁজ ৩০ জন। গুলবার্গের সেই ভয়ঙ্কর গণহত্যায় ৯৯ জন মৃতের হয়ে এবার লোকসভা ভোটে লড়ছেন দুই ভাই। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০২- ১৭ বছর আগের এই সব হারানো ক্ষত থেকে আজ ঠিকরে বেরোচ্ছে প্রতিশোধ। হিন্দুবিরোধী নয়, বিজেপিবিরোধী ক্ষোভ। মোদিবিরোধী ঘেন্না। গুজরাটের তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আজকের সর্বভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার হুকুমেই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল গুলবার্গের মুসলিম সোসাইটি।

১৭ বছর ধরে পুষে আসছেন সেই দগদগে ঘা। আর এখন যোগ হয়েছে টগবগে ক্রোধ। সেই যন্ত্রণা আর ভাই-বোনসহ পরিবারের দশজনের হত্যার বিচার চেয়ে ভোটে দাঁড়ালেন দুই ভাই, ফিরোজ-ইমতিয়াজ। দুই ভাইয়ের প্রতিপক্ষ একটাই, একজনই- নরেন্দ্র মোদি।

হামলাকারীদের আগুনে সেদিন পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিলেন সোসাইটির বাসিন্দা সাবেক কংগ্রেস সংসদ সদস্য এহসান জাফরিও। আহমেদাবাদ হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের রায়ে সেই গণহত্যার মামলা চলেছে, রায়ও বেরিয়েছে। কিন্তু সেই রায়ে খুশি নন নিহতদের জীবিত পরিজনরা।

তবে এই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তরফে দুই ভাই ‘আপনা দেশ’ পার্টির টিকিটে ভোটে লড়ছেন। বড় ভাই ফিরোজ খান (৪৫) পাঠান প্রার্থী হয়েছেন গান্ধীনগরে স্বয়ং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে। আর তিন বছরের ছোট ৪২ বর্ষীয় ইমতিয়াজ খান পাঠান ভোটে লড়ছেন মধ্য গুজরাটের খেদা কেন্দ্র থেকে। ইমতিয়াজ প্রচারে নেমে গান্ধীনগরের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী অমিত শাহকে টার্গেট করে একের পর এক তীর ছুড়ে চলেছেন।

প্রথমটি যদি হয় সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো সংঘর্ষ মামলা, দ্বিতীয়টি অবশ্যই অমিতপুত্র জয়ের পাঁচ বছরে বিপুল সম্পত্তি কী করে হল? তুলে আনছেন নোটবন্দির সময় অমিত শাহর ঘনিষ্ঠদের সমবায় ব্যাংকের কীর্তিকলাপ। আহমেদাবাদ শহরের দক্ষিণপ্রান্তে রিলিফ রোডের সাইবার ক্যাফে চালান ফিরোজ। স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে বাবা সৈয়দী খান পাঠানও থাকেন।

প্রার্থীর খোঁজ নিয়ে সাতসকালেই পৌঁছে গিয়েছিলাম পাঠান সাইবার ক্যাফেতে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের কারণ জানতে চাইলেই ছোট্ট উত্তর দিলেন, ‘সে ফ প্রতিবাদ। নব্বইজন মানুষকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আদালতে বিচার চাওয়া। যারা সেদিন মারা গিয়েছিলেন তাদের আত্মাকে শান্তি দেয়ার চেষ্টা করছি।’

সর্বাধিক ক্লিক