প্রচ্ছদ

গোয়াইনঘাটে মাদরাসার নামে জবারুতের চাঁদাবাজি, এলাকায় তোলপাড়

১২ জুন ২০১৯, ২৩:০৫

sylnewsbd.com

নিজস্ব প্রতিেবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের উত্তর লাঠি গ্রামের মৃত. আব্দুল খালিক কালাই মুল্লা’র পুত্র গোলাম জবারুত মাদরাসার নামে চাঁদাবাজি করে বাড়ী গাড়ী জমি ক্রয় সহ টাকার পাহাড় করছেন।

জানা গেছে, উনি হাফেজ বা মাওলানা কিছুই নন। ছোটবেলা মাদরাসায় কিছু লেখাপড়া করেন। এর পর থেকেই তার প্রধান ব্যবসা হচ্ছে মাদরাসা মসজিদের নামে চাঁদাবাজি করে বাড়ী গাড়ী জমি ক্রয় ইত্যাদি।

দীর্ঘদিন গোয়াইনঘাটের ঐতিহ্যবাহী মদিনাতুল উলূম কালিজুরী মাদরাসার নামে জাল রশিদ ছাপিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করেন। পরবর্তীতে কালিজুরী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবগত হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এবং তাকে এলাকায় বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হলে সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বেশকিছু দিন পর এলাকায় যায়। আবার কালিজুরী মহিলা মাদরাসা নামে রশিদ ছাপিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি শুরু করে। অথচ কালিজুরী মহিলা মাদরাসা নামে কোন প্রতিষ্ঠানই সেই এলাকায় নেই।

এ বিষয় ও এলাকায় জানাজানি হলে ব্যর্থ হয়ে উনি বৈধ ভাবে চাঁদাবাজি করার জন্য ছোট একটি টিনসেট ঘর করে লাঠি আল-মদিনা মাজিদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা নাম দিয়ে শহরে বন্দরে শুরু করেন বৈধ চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজি করে বিশাল বাড়ী ছেলের জন্য মোটরসাইকেল জমি ক্রয় সহ টাকার পাহাড় করেছে। অথচ মাদরাসাটি নাম মাত্র।

বৈধ মাদরাসা করার কিছুদিন পূর্বে মেয়ের বিয়েতে একটি গরুর দরকার বলে বিছনাকান্দির এক শিল্পপতির নিকট একটি গরু চাদা করে পরবর্তীতে যেদিন শিল্পপতির নিকট টাকা আনতে যায় শিল্পপতি তাকে সামনে রেখে পিরের বাজারের দুই তিন জন ব্যবসায়ীকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন যে জবারুতের মেয়ের বিয়ে কবে? সবাই অবাক জবারুতের তো কোন মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত না। তখন শিল্পপতি এসব শুনে তাকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে তারুখাল গ্রামের হাফিজ লুৎফুর রহমানের অনুরোধে তার মাথা নেড়া করে ছাড়া হয়।

মাত্র তিন মাস আগের ঘটনা সিলেটের নগরীর হোটেল আল ফয়েজে রাত্রি যাপন করে গোলাম জবারুত সকালে পাশের রুমের একজন ওয়াশ রুমে গেলে উনার ফোনটি চুরি করে গোলাম জবারুত। পরে হোটেল আল ফয়েজ কর্তৃপক্ষ তাকে মারপিট করে ছেড়ে দেয়। বিস্তারিত হোটেল আল ফয়েজের ম্যানেজার শহির মিয়া সহ অন্যান্যের কাছ থেকে
আলাপকালে জানা যায়।

সিলেট শহরে মোবাইল চুরি ও বিভিন্ন জায়গায় ভূয়া চাঁদাবাজ জানাজানি হয়ে যাওয়াতে এখন সে ভিজিটে দুবাই গিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ তার বিচার করতে নারাজ কারণ সে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে অভ্যস্থ। কাউকে হাটতে অযথা গালিগালাজ করে। এই গালিগালাজের একটি ভিডিও ক্রাইম সিলেট অফিসে জমা আছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে এখনও একটি বিচার চলছে।
এ ব্যাপারে গোলাম জবারুতের মোটোফনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। বিদায় তাহার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক ক্লিক