প্রচ্ছদ

ছাতকে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় শামীম চৌধুরীসহ ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, কামাল ও জামাল চৌধুরীসহ ২৮ আসামি জেল হাজতে

১৬ মে ২০১৯, ০০:২০

sylnewsbd.com

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাই কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন দুই গ্রুপের সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ওসি মােস্তফা কামালসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে দেখতে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছেন পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান। এসময় তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই উপর মহলের তদবিরে ছাড় না দিতে জেলা পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন ‘শান্তি ভঙ্গকারি কেউ জনগনের উপকারে আসেনা, তারা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর, আমরা শান্তি চাই এবং কোন অপরাধিকে ছাড় দেইনা, তারা যতাে বড় ক্ষমতাবানই হােক না কেনাে আইন ভঙ্গ করে সন্ত্রাসীকর্মকান্ড চালানাের জন্য তাদের শাস্তি পেতে হবে’। মঙ্গলবার(১৪ মে)রাতে ছাতকে এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আনতে ২ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায় পুলিশের কয়েকটি টিম। এসময় ১৬৩রাউন্ড রাবার বুলেট চার্জ করে পুলিশ। পাশাপাশি দাঙ্গা দমনে ৫২ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করাহয়। পুলিশের এই অভিযানে কোনঠাসা হয়ে পরে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া ক্ষমতাসীন দলের উভয় পক্ষ। পুলিশের তাৎক্ষনিক অভিযানে গ্রেফতার করা হয় কামাল চৌধুরী ও জামাল চৌধুরীসহ উভয় পক্ষের ২৮জনকে। রাতভর শামীম চৌধুরী ও কালাম চৌধুরীসহ অন্যান্যদের ধরতে বাসায় বাসায় তল্লাশী চালায় পুলিশ। পােশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি দফায় দফায় অভিযান চালায় গােয়েন্দারা। পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান সুনামগঞ্জ২৪.কম কে বলেন আমরা কাউকে ছাড় দেবােনা, এদের বৈধ অস্ত্রও অবৈধভাবে ব্যবহার করার দায়ে সকল লাইসেন্স বাতিল করা হবে, অবৈধ কোন অস্ত্র থাকলেও সেগুলাে উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলছে, জনগনের শান্তি নষ্ট করে কেউ ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে চলতে পারবেনা, আইন সবার জন্য, এই অভিযানে পরিস্থিতি শান্ত করতে আমাদের ৯জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরলেও ৬জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, পুলিশ এসল্ট মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, আমরা জড়িতদের আরও গ্রেফতারে অভিযান চালাবাে,বর্তমানে ছাতক শান্তিপুর্ণ রয়েছে’।

বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়,  মঙ্গলবার তারাবী নামাজ চলাকালে ছাতক-সিলেট রোডের জালালিয়া আলিম মাদ্রাসার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ মুহুর্তের মধ্যে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শহরের আসা লোকজন ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়। শহরের বাসষ্ট্যান্ড থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা পরিনত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ব্যাপক ইট-পাটকেল, পেট্রল বোমা নিক্ষেপসহ শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ কয়েক শ’ রাউন্ড টিআরসেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বড় ভাই, চাচাসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় একাধিক সত্র জানায়, নদীপথে চাঁদাবাজী নিয়ে পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই ব্যবসায়ী আহমদ শাখাওয়াত সেলিম চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহীন চৌধুরী পক্ষের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে ৭-৮দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার বিকেলে সুরমা নদীতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের নৌকা থেকে জোর পূর্বক টাকা ছিনিয়ে নিলে দু’পক্ষের লোকজন সন্ধ্যা থেকেই সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকে। শাহীন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাগবাড়ী মহল্লার একাংশ শহরের বাগবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক পক্ষ এবং অপর পক্ষ অবস্থান নেয় পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনের সামনে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংঘর্ষ না হওয়ার জন্য একাধিকবার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। রাত ৯ টার দিকে বাগবাড়ী স্কুলে শাহীন চৌধুরী পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় মুরুব্বী। এ সময় অপর পক্ষের সিংচাপইড় ইউনিয়নের বরখাস্থকৃত চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল ও যুবলীগ নেতা খোকন মিয়া মোবাইল ফোনে গালাগালসহ কর্কশ ভাষায় সংঘর্ষের আহবান জানালে মুহুর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন এক রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে ঠেলা চালক শাহাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল, ওসি(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সদস্য ফাইম, সজীব ইসলাম, তফাজ্ঝুল হক, ইমরান, সাকির, সহ ৪০ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত ওসি মোস্তফা কামাল, মেয়রের বড় ভাই কামাল চৌধুরীসহ ফরহাদ চৌধুরী, আবুল খয়ের টুটুল, সোহাগ দাস, সবরুল হোসেন সাজুকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুরাদ মিয়া চৌধুরী, শিবলু মিয়া, শাহরাজ মিয়া, দিলবর আলী, আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যি আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা ভর্তি ও দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়রের বড়ভাই জামাল আহমদ চৌধুরী, কামাল চৌধুরী, চাচা ইলিয়াছ মিয়া চৌধুরীসহ পল্টু দাস, দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাদমান মাহমুদ সানি, যুবলীগ নেতা রহিম আলী, ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, কামরুল ইসলাম শাওন ব্যবসায়ী আশরাফ রাজা চৌধুরীসহ ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রাতে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বাসভবনে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল বিল্লাল আহমদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িত কয়েক জনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। থানায় ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ এসল্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযোগ না পেলে পুলিশ বাদী হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

সর্বাধিক ক্লিক