প্রচ্ছদ

ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান বকুল চৌধুরীকে নিয়ে তোলপাড় চলছে

২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৫৫

329

নিজস্ব প্রতিবেদক:ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে তোলপাড় চলছে।  সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । বহুরূপী হিসাবে ছাতকের রাজনৈতিক মহলে পরিচিত এই জন প্রতিনিধি     ছাতক দোয়ারা বাজার থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি  মুহিবুর রহমান মানিকের বোনের জামাই। বেকায়দায় পড়ে গত ২৭ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক মানিকের পাশে দাঁড়ান বকুল চৌধুরী।লোক দেখানো নৌকার টানে দীর্ঘ দু’বছর পর এমপি  মানিকের সহযোগিতায় মাঠে নেমেছেন ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান  বাংলাদেশ উপজেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।বিভিন্ন  কারণে দু’বছর ধরে  এমপি মানিক থেকে দুরে ছিলেন তিনি। গত ক’দিন ধরে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মহলের অনুরোধে, ৩০ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী করতে ২৭ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামেন অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।  মাঠে নেমে চালাচ্ছেন নৌকার প্রচার-প্রচারনা।

অপর একটি সুত্র জানায়, নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে যখন  ছাতক দোয়ারা আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ তখন  বকুল চৌধুরী বিএনপির প্রর্থীর পক্ষে গোপনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে বহিষ্কারাদেশ এড়াতে তিনি নৌকার পক্ষে মাঠে নামেন।

বিভিন্ন সুত্রে আরো জানাযায় ৯১ সালের পর থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কেন্দ্রীয় যুবদলনেতা আশিকুর রহমান আশিকের  ঘনিষ্ঠজন হিসাবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কাছে অনেক সমাদর ছিলো।  সংসদ সদস্য মানিকের সাথে আত্বীয়তা করার পর উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার বায়না ধরেন। এমপি মানিকের হাত ধরে যোগদেন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে এমপি মানিকের ঐকান্তিক চেষ্টায় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে বকুল চেয়ারম্যানের স্ত্রী,এমপি মানিকের বোন নুরুন নাহার চৌধুরী চিনু এমপির ঐকান্তিক চেষ্টায় জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বকুল চৌধুরী এমপি মানিকের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ভাগ বসাতে শুরু করেন। এমপির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিজের  বলে প্রচার করেন। এছাড়া বিভিন্ন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। ছোট বোনের জামাই হিসেবে এমপি মানিক তা নিরবে  সয়ে যান। এক পর্যায়ে কৌশলে এড়িয়ে চলতে থাকেন। এতে উভয়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বকুল চেয়ারম্যান এমপির কাছে পাত্তা না পেয়ে, প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এমপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করেন।  চেয়ারম্যান বকুলের বড় ভাই আশরাফ চৌধুরীকে দিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান  ও বাড়ির পাশের এক কাদা মাঠির রাস্তায় ধান চারা রোপণ করে এমপির ব্যর্থতার চিত্র এলাকাবাসীর কাছে তুলে ধরতে চেষ্টা করেন।  এতে হিতে বিপরীত ঘটে। তুমুল সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় বকুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।                                                              শিক্ষাখাতে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান খেতাবধারী বকুল চৌধুরী  উপজেলার কোথাও চোখে পড়ার মত কোন উন্নয়ন কাজ করেননি।স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দকৃত  সম্পাদিত উন্নয়ন কাজ গুলোর দাবি করে নিজের কৃতিত্ব জাহির করেন। উপজেলার ছোট বড় গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলা চলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

(রাস্তায় ধান চারা রোপণ করে বক্তব্য রাখছেন চেয়ারম্যানের ভাই আশরাফ চৌধুরী)

এমন কি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাঁর বাড়ির পাশে গোবিন্ধ গঞ্জ বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের রাস্তাটি পেক কাদাজলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের আপন ভাই আশরাফ চৌধুরী এলাকাবাসীকে নিয়ে উক্ত রাস্তায় ধান চারা রোপণ করে  ফেসবুকে লাইভ করে প্রতিবাদি বক্তব্য দেন।

এ ব্যাপারে বকুল চেয়ারম্যান নিজের ব্যর্থতার কথা সিলনিউজ বিডির কাছে স্বীকার করেছিলেন। এ ঘটনার পর চেয়ারম্যান তুমুল সমালোচনায় পড়েন।নিজের ব্যর্থতার দায়ভার স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপর চাপিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চান।

অতিসম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মানিকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছাতক উপজেলার ৫১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে। এই অনুমোদনে নিজের কৃতিত্ব  দাবি করে আবারো সমালোচনার জন্মদেন উপজেলা চেয়ারম্যান বকুল।প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান মোহাম্মদ নুরুন্নবী স্বাক্ষরিত সরকারী এক পরিপত্রে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করতে থাকেন।প্রকৃৃত পক্ষে নুরুন্নবী স্বাক্ষরিত পরিপত্রে আর কারো স্বাক্ষর ছিলনা ।সূত্র আরো জানায়, শিক্ষাক্ষেত্রে নিজের অবদান ও উন্নয়নের দাবি সাধারণ জনগণের কাছে প্রচার করতেই তিনি নুরুন্নবীর স্বাক্ষরিত পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

অপরদিকে, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যানের অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ৪ লাখ টাকার প্রকল্পে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে ।ছাতকে ৪ লাখ টাকার প্রকল্পে উপজেলা চেয়ারম্যানের ২লাখ টাকা ঘুষ দাবির ঘটনা নিয়ে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় হয় ।  উপজেলা পরিষদে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮অর্থ বছরে হাট-বাজার উন্নয়ন তহবিলের আওতায় জাউয়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের আঙ্গিনা ও রাস্তায় মাঠি ভরাটের জন্যে কোটেশনের মাধ্যমে ৪লাখ ৯৯হাজার ৮১টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক মেসার্স সাদিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজের নামে প্রদত্ত কার্যাদেশের পর গত ১১ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনসুর মিয়া প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের গুনগতমান সন্তেুাষজনক থাকায় চুড়ান্ত বিল পরিশোধের সুপারিশ করেন। পরে ১৯ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান প্রকল্প তদন্ত করে বিল প্রদানের সূপারিশ করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে চরম বিপত্তি ঘটে উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে। দীর্ঘদিন ঠিকাদার উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসে ধর্ণা দিলেও তিনি প্রায় দেড়মাস পর ১০এপ্রিল তিনি নোট শীটে আলোচনা করুন’ লিখে দেন। পরবর্তিতে ঠিকাদার জাউয়াবাজার ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে ১২এপ্রিল ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন পরিষদে থাকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাহাদাত মো. লাহিন, ইউপি সদস্য আব্দুল হক ও আঙ্গুর মিয়াকে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরি বকুলের কাছে গিয়ে বিল পরিশোধের ব্যাপারে সূপারিশ করেন। এসময় তিনি চুড়ান্ত বিল পরিশোধের জন্যে ২লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানান। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন উপস্থিত সাংবাদিক ডেকে এসব অভিযোগ করেছিলেন।

 

 

 

সর্বাধিক ক্লিক