প্রচ্ছদ

ছাতকে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা
ছাতক পৌরসভার ৯ কাউন্সিলর ৩ সপ্তাহের আগাম জামিন পেলেন

২১ মে ২০১৯, ০১:২৮

sylnewsbd.com

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ছাতকে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় ছাতক পৌরসভার ৯ কাউন্সিল ৩ সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।  সোমবার ২০ মে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটের হাইকোটের মাননীয় বিচারপতি মো.আব্দল হাফিজ ও আহমেদ সোহেলের যৌথ ব্যান্সে ৯ কাউন্সিলার কে ৩ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আসামীপক্ষের আইনজিবী ছিলেন ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এডভোকেট মঈনুল ইসলাম।

ছাতক পৌরসভার কাউন্সিলার সুমেন আগাম জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুকে কটুক্তি’র জের ধরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের বন্দুক যুদ্ধে ১ জন নিহত এবং ৯ পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহতের ঘটনার পর এখন সুনসান নিরব ছাতক পৌর এলাকা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া তিন মামলায় প্রায় সাড়ে ৪ শ’ আসামী। পুলিশ ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে মেয়র কালাম চৌধুরীর ভাই শামীম চৌধুরী সহ ফের  ৯৮ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে বৃহস্পতিবার রাতে। ঐ মামলায় ২০০ জন থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন এসআই দেলোয়ার হোসেন।

বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ছাতক থানার ওসিসহ ৯ সদস্য আহত হবার ঘটনায় বুধবার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম চৌধুরীসহ ৯৫ জনের নামোল্লেখ করে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পুলিশ এসল্ট মামলা হয়।  একইভাবে বিস্ফোরক  মামলায় শামীম চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে তাঁর দেশে থাকা ৫ ভাই শাহীন চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, জামাল চৌধুরী ও কামাল চৌধুরী, ভাতিজা সম্রাট চৌধুরী ও মাহির চৌধুরী এবং চাচা জয়নাল চৌধুরী এবং এই পরিবার ও তাঁদের স্বজনদের কমপক্ষে ২০ জন আসামী হয়েছে।
ছাতকের অন্য আরেক প্রভাবশালী পরিবার শামীম চৌধুরী’র বড় ভাই ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী’র সমর্থক হিসাবে পরিচিত সুনু মিয়া চৌধুরী’র পরিবারেরও অনেকেই এই মামলায় আসামী হয়েছেন। এই পরিবারের মধ্যে সুনু মিয়া চৌধুরী’র ছেলে সুমন চৌধুরী, সুনু মিয়া চৌধুরী’র ভাতিজা (এই অংশের নেতা) ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহীন চৌধুরী, কুহিল চৌধুরী, তানভির চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীকেও আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভার ৯ কাউন্সিলর এই মামলার আসামী। এরা হলেন- তাপস চৌধুরী, জসিম উদ্দিন সুমেন, সুদীপ দে, আখলাকুল আম্বিয়া সোহাগ, লিয়াকত আলী, ধন মিয়া, আছাব মিয়া, দেলোয়ার হোসেন ও নওশাদ মিয়া।
বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ঠেলাগাড়ী চালক শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী  ফাতেমা বেগমের বুধবার রাতে দায়ের করা মামলায় ১২ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
নামোল্লেখকৃতরা হলেন- ছাতকের সিংছাপইড়ের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল, দোলোয়ার হোসেন, গৌছ মিয়া, এমদাদ হোসেন খোকন, শিপলু মিয়া, রুবেল তালুকদার জনি, লিটন, আব্দুল কাদির, আফিক আলী, সুজন, সবিরুল হোসেন সাজু ও আকাশ দাস।
ছাতক থানার ওসি (অপারেশন) গোলাম মোস্তফা জানালেন, তিন মামলার আসামীদেরই গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
ছাতকের একজন জ্যেষ্ঠ বালু- পাথর ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার নদীতে চাঁদাবাজ দেখা যায়নি। সারাবছর চলন্ত যানবাহন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করতো।
মঙ্গলবার রাতে ছাতক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, দুই সহোদর ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম চৌধুরী’র সমর্থকরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং থানার ওসিসহ ৯ পুলিশ গুলিবিদ্ধ হন। উভয়পক্ষের আহত হয় কমপক্ষে ৫০ জন।

সর্বাধিক ক্লিক