প্রচ্ছদ

মোল্লা খলিলের আমলনামা
জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চাঁদাবাজ করলেন চাঁদা দাবির মামলা!

১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০৭

sylnewsbd.com

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিভিন্নভাবে লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি করতেন তিনি। চাঁদার জন্য হয়রানিও করতেন তার টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে। এজন্য তিনি ব্যবহার করতেন ফেসবুকের নামে-বেনামে আইডির। তবে এবার তিনি চাঁদা না পেয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধেই আনলেন চাঁদাবাজীর অভিযোগ।

অভিযোগে তিনি বললেন – ওই ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। আর চাঁদা না পেয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন আড়াই লক্ষ টাকা। এ মামলা করতে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

গত ২১ মার্চ সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক নাজমুল কবীর পাভেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর দরখাস্ত মামলা (নং- ৪৪৯/২০১৯ইং) দায়ের করেন খলিলুর রহমান ওরফে মোল্লা খলিল। তিনি সিলেট নগরীর সাগরদীঘিরপার সুবিধবাজারের ৩৩/৭ বাসার বাসিন্দা মৃত আজব আলীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পেশাজীবি ও ইংল্যান্ড প্রবাসী ছেলে এবং কানাডা প্রবাসী মেয়ের বাবা পরিচয় দিয়ে খলিল বলেন, নাজমুল কবির পাভেলসহ অজ্ঞাত নামা ৩/৪জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক ডিজিটাল গণমাধ্যম সোস্যাল মিডিয়া অপপ্রচারের ভয়ভীতি দেখাইয়া বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করিয়া থাকে। পাভেলের পরিচালিত সিলনিউজবিডি ডটকমে ও তার নিজের একটি ফেইসবুক আইডি রহিয়াছে। চাঁদা চাহিনা না পাইলে সে ও তাহার সহযোগিরা উল্লেখিত অনলাইন পোট্রাল ও ফেইসবুক আইডির মাধ্যেমে লোকজনের বিরুদ্ধে না অপপ্রচার চালাইয়া মান সম্মানের হানি ঘটায়। ৫ মার্চ জিন্দাবাজাব সহির প্লাজের সমনে পাভেল আমাকের এই মর্মে হুমকি দেয় ২ দিনের মধ্যে আমি থাকে ৫ লক্ষ টাকা না দিলে তাহার পরিচালিত অনলাইন পোর্টাল ও ফেইসবুকের হুন্ডি ব্যবসায়ী বলে সংবাদ প্রকাশ করিবে। আমার মান সম্মানের হানি ঘটাবে। আমি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে পাভেল আমাকে জানায় কি ভাবে চাঁদা আদায় করিয়ে নিতে হয় তাহা ভাল করে যানে সে। ৭ মার্চ আমি খলিলুর রহমান ব্র্যাক ব্যাংক জিন্দাবাজার শাখা হইতে আমি খলিলের নামীয় পিন কোডে প্রেরিত রেমিটেন্সের ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তলন করিয়া জিন্দাবাজার সরকারী প্রাথমিকি বিদ্যালয়ের সমানের ফুতপাতে বিকাল ৪টায় পৌছা মাত্র পাভেল ও অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জন সহযোগি আমার গতি রোধ করিয়া আমার কাছে পূণরায় ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অপারগনা প্রকাশ করিলে পাভেল ও তার সহযোগিরা আমার দিকে দারালো অস্ত্র তাক করিয়া ত্রাস সৃষ্টি করে এবং পাভেল আমার সাইট ব্যাগে থাকা রেমিটেন্সর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি এই মর্মে হুমকি দেয় এই ঘটনা মামলা করিলে সে ও তার সহযোগিরা আমাকে খুন ও লাশ গুম করিয়া ফেলিবে। মামলাটি আদালত পিআইবিকে তদন্ত করে ২০ মে প্রতিবেদন জমা প্রদানের আদেশ প্রদান করেছেন।’

এই মামলায় পর্যালোচনা করে খলিলুর রহমান আদালতে যে ফিরিস্তি দাখিল করেছেন তার ৪ নং জমা কৃত ব্র্যাক ব্যাংকের রশিদের দেখা যায় রেমিটেন্সর আড়াই লক্ষ টাকা উত্তলনকারী ব্যক্তির নাম মুফুজল আলী (গটঋঔঅখ অখও) মোবাইল নং- ০১৭৮৫৮৮৬০৫৭, পাসপোর্ট নং- বিকে০২৮৬২৫১, পিন কোর্ড- ৩১১১৬৪৩৫২৬১৪৩সি, প্রেরক- ফখরুল ইসলাম ইউনাইটেড কিংডম (ইউকে)। খলিলুরের রহমানের মামলায় উল্লেখিত ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন এই মুফুজল আলী। যা ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। মামলায় খলিলের দাখিলকৃত ব্র্যাক ব্যাংকের রশিদের রেমিটেন্সর মালিক মাহফুজ আলী। খলিলুর রহমান নিজ দাখিল কৃত তথ্যে ফেসেঁ যাচ্ছেন। যা থেকে প্রমাণিত তিনি ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে সাংবাদিক পাভেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলার নাটক সাজিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাজমুল কবির পাভেল বলেন, ‘চলতি বছরের ৫ মার্চ মোল্লা খলিল ‘লোকান্তর ভালবাসা, লোকান্তর ভালবাসা’ আইডি থেকে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট কিছু লিখা পোষ্ট করেন। আমি ঐ দিন রাতেই এসএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি খলিলের বিরুদ্ধে। ৭ মার্চ খলিল তার একজন লোক পাঠায় আমার কাছে মধ্যস্থতা করার জন্য। ৮ মার্চ সন্ধ্যার পর রংমহল টাওয়ার একটি স্থানীয় দৈনিকের অফিসে মধ্যস্থতাকারীসহ খলিলের সাথে বৈঠক হয ৬৭ মিনিটের। খলিল আমাকে বলেন এই ‘লোকান্তর ভালবাসা, লোকান্তর ভালবাসা’ এই আইডি তিনি নিজে ও তার ডারলিং পরিচালনা করে থাকেন। এরপর খলিল আমাকে জানান ৫ হাজার টাকা তিনি তার ডারলিংকে দেন। আমি যদি খলিলকে ৫ হাজার টাকা দেন তা হলে আর কোন লিখালিখি হবে না। তিনি যে গুলো লিখেছেন সবগুলো মুছে ফেলবেন। এরপর ৯ মার্চ তথ্য প্রমাণ সহ র‌্যাব-৯’র অধিনায়ক বরাবর খলিলের বিরুদ্ধে আমি একটি অভিযোগ দাখিল করি। খলিল ২ এপ্রিল আমার কাছ থেকে টাকা না পেয়ে তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি নিউজ ক্লাব থেকে আবারও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মানহানি কর মনগড়া লিখালিখি শুরু করে। ৩ এপ্রিল আবারও খলিল আমার বিরুদ্ধে লিখালিখি শুরু করে।’

উল্লেখ্য এ ঘটনায় চলতি বছরের ৫ মার্চ খলিলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন পাভেল। পরবর্তীতে সাংবাদিক পাভেল মোল্লা খলিলের বিরোদ্ধে ৯ মার্চ র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক বরাবরে তথ্য প্রমান উপস্থাপন পূর্বক দ্রুত আইনানুগ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানই এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্তে রয়েছেন। এছাড়াও পাভেল চলতি বছরের ২ এবং ৩ এপ্রিল এসএমপি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন-যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী এসআই আওলাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্ত চলছে।

পাঠকদের জন্য সিলনিউজ বিডি পাভেলের কাছে মোল্লা খলিলের চাঁদা চাওয়ার অডিও বক্তব্য তুলে ধরলো।

78Shares

সর্বাধিক ক্লিক