প্রচ্ছদ

দলীয় সভানেত্রীর ডাকের অপেক্ষায় মনোনয়ন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্য

১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:১৪

329

বিশেষ প্রতিবেদক:আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ডাকের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন  মনোনয়ন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্য।আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা তাদের ডেকে দলীয়  মনোনয়ন চুুুড়ান্ত  করবেন।

এতে সুনামগঞ্জ ১,আসনের প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। কপাল পুড়তে পারে  ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এম পির।  সুনামগঞ্জ ৪ আসনটি ইতিমধ্যেই জোটের স্বার্থে জাতীয় পার্টির এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিছবাহকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বুধবার। তবে মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারগুলো সাধারণত যেভাবে অনুষ্ঠিত হয় এ বার তেমন কিছু হয়নি। সাক্ষাৎকার প্রার্থীদের সামনে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূলত দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় দলটির মনোনয়ন কমিটির নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন কোন বিষয়ের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে, শরিকদের জন্য কত আসন ছাড় দেওয়া হবে সেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে দলটির মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তিন ধরনের দলের আলাদা আলাদা সাক্ষাৎকার গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে একটি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিশেষভাবে বসবেন।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির জন্য আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশীকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। তাঁদেরকে শরিকদের জন্য আসন ছেড়ে দিতে হবে। শরিকদের জন্য যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না, তাঁরা হচ্ছেন সাক্ষাৎকার পর্বে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রথম দল। তাদের ডেকে বৃহত্তর স্বার্থে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের নির্দেশ দেওয়া হবে।

একই আসনে একাধিক যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী থাকলে কৌশলগত কারণে একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। কৌশলগত কারণে যাঁদেরকে বাদ দেওয়া হবে তাঁরা সাক্ষাৎকার পর্বের দ্বিতীয় দল। এখানেও তাদের সান্ত্বনা দেওয়া হবে এবং দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য অনুরোধ করা হবে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ ও সিনিয়র নেতা আছেন যাঁদের বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সিনিয়র নেতাদের এই দলটি তৃতীয় দল।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, শরিকদের জন্য এবার আওয়ামী লীগ ৫০টি থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেবে। এর মধ্যে এমন কিছু আসনও আছে যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাঁড়ালে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত ছিল। কিন্তু তারপরও বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আওয়ামী লীগ এসব আসনে নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে শরীকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেবে। যেসব জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না তাঁদেরকে মনোনয়ন বোর্ড ডাকবে এবং এলাকায় শরীক দলগুলোর প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার জন্য ও তাঁদের সমর্থনে কাজ করার জন্য অনুরোধ করবে।

এছাড়া একই এলাকায় সমান সংখ্যক জনপ্রিয় দুজন প্রার্থী থাকলে কৌশলগত কারণে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে ভালো করবে সে বিবেচনায় তুলনামূলক শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যে মনোনয়ন প্রত্যাশীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না তাঁকে ডেকে সম্মানিত করা হবে এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বোঝানো হবে।

প্রবীণ নেতাদেরও এবার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। যেহেতু আসন্ন নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে প্রতিনিধিত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন এবং তরুণদের ভোট হতে যাচ্ছে এবারের নির্বাচনের বড় একটি ফ্যাক্টর, তাই কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে এবার মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই বাদ পড়া প্রবীণদের প্রধানমন্ত্রী নিজে ডেকে সম্মানিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করবেন এবং নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য অনুরোধ করবেন।

সর্বশেষ জরিপে জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল পর্যায়ে  ভোটের হিসাবে  যারা মনোনয়ন লাভের দৌড়ে এগিয়ে আছেন,তারা হচ্ছেনঃ

সুনামগঞ্জ -১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-মধ্যনগর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসন রতন। এই আসনে বিভিন্ন কারণে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। এমপি রতন মনোনয়ন না পেলে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে নারী নেত্রী, হাওর কন্যা শামীমা শাহরিয়ার , রঞ্জিত সরকার ,সৈয়দ রফিকুল ইসলাম মনোনয়ন পাবেন বলে জানাগেছে।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) প্রয়াত সাংসদ বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তে’র সহধর্মিণী ডঃ জয়া সেন গুপ্তের উপরই আস্থা রেখেছেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী  ।

সুনামগঞ্জ -৩ (জনন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ) আসনে সফল মন্ত্রী এম এ মান্নানের মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশম্বরপুর) আসনে জাতীয় পার্টির  বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মনোনয়ন পাচ্ছেন। যেহেতু জোটগত ভাবে আগামী নির্বাচন হবে,তাই জোটের স্বার্থে এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে  ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ -৫ (ছাতক-দোয়ারা বাজার) আসনে  বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত।

এ আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।নবম জাতীয় নির্বাচনে সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে তিনি লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সর্বাধিক ক্লিক