প্রচ্ছদ

দোয়ারাবাজারে বন্যা : পানিবন্দি লাখো মানুষ

১১ জুলাই ২০১৯, ২৩:৩৬

sylnewsbd.com

 দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গত ৫দিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০ গ্রামের লাখো মানুষ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ দিকে উপজেলার কনসখাই, নাইন্দা, বন্দেহরি, পান্ডারখাল, গৌরিপুর, হিঙ্গিমারি, শান্তিপুর, গোয়ারাই, বড়ঝাই, কানলা ও দেখার হাওর তলিয়ে গেছে। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে শতাধিক হেক্টর উঠতি আউশ-ইরি, সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ মাঠঘাট ও গোচারণ ভূমি। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমার অতিক্রম করে অফিসপাড়াসহ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকছে। উপজেলা পরিষদের সম্মুখস্থ পাকা সড়কসহ নদীপাড়ের অব্যাহত ভাঙনে রাতদিন আতঙ্কে রয়েছেন দোকানিরা। ইতিপূর্বে দোয়ারাবাজার-সুরমা লাফার্জ সড়কের মাস্টার পাড়া এলাকায় দীর্ঘ রাস্তা ও দোকানপাটসহ ৭টি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ও পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সুরমা, বগুলা, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার সদর ছাড়াও বাকি চার ইউনিয়ন ক্রমশ প্লাবিত হচ্ছে। এ দিকে দোয়ারাবাজার-ব্রিটিশ সড়কের সংস্কারকাজে উভয় পাশে ইটের গার্ডওয়াল বসানোর ফলে অন্তত দুই কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দে হাটুপানি লেগে থাকায় এবং দোয়ারাবাজার-বগুলা সড়কে মহব্বতপুর (মামনপুর) এলাকার মোকামের কাছে শতাধিক ফুট প্রশস্ত ভাঙনসহ রাস্তাজুড়ে হাটুসমান কাঁদা থাকায় উপজেলা সদরের সাথে চার ইউনিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চিলাই নদী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আকন্দ (সাব্বির) জানান, সুষ্ঠ তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাাচারিতায় বগুলা ইউনিয়নস্থ চিলাই নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢোকায় উভয় তীরের শতাধিক হেক্টর আউশ-ইরি ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। উপজেলার টেংরা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি আবদুর রহিম বলেন, পরপর দু’দফা পাহাড়ি ঢল ও বর্তমান সৃষ্ট বন্যার তোড়ে এলাকার শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় আমরা খামার মালিকগন চোখে সর্ষেফুল দেখছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা, ওসি আবুল হাশেমসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোলরুম খোলা ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি মওজুদ রয়েছে বলে ইউএনও সোনিয়া সুলতানা এ প্রতিবেদককে জানান। ইতিমধ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে তালিকা প্রেরণের জন্য সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সর্বাধিক ক্লিক