প্রচ্ছদ

দোয়ারায় বিএনপি সমর্থকদের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট,মিলনের নিন্দা

০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২৬

329

 

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপি সমর্থকদের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউরা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা তোফায়েল, ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল, ব্যবসায়ি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আওয়ালীগের অন্তত ৫০জন নেতাকর্মী দেশিয় অস্ত্র নিয়ে এসব ভাংচুর চালায়। এসময় তারা স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও দরজা জানালা ভাংচুর করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগিরা। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে, নির্বাচনের পরের দিন,দোয়ারা বাজার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ টি গ্রামে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা।বিএনপি নেতাকর্মী দের বাসাবাড়িতে হামলা,ও অগ্নিসংযোগ করে। এমন কি মহিলারা ও সেই হামলা থেকে রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।এ ঘটনায় তিনি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।              খবর পেয়ে শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে ও  কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, ছুটে যান দোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে, প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কথা বলে শান্তনা দান করেন।   গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মী দের পরিবারে সাথে দেখা করেন এবং দোয়ারা উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মী দের সাথে মত বিনিময় করেন।

সরেজমিন গেলে কলাউরা গ্রামের মাদ্রাসা পাড়ার শাহ আলম মেম্বারের ভাইদের ঘর, আবুল হোসেন ওরফে খলিফা হোসেন, আব্দুস সোবহান, তোরাব আলী, আবুল হোসেন, বাবুল মিয়া, হাফিজ উদ্দিনের ছেলেদের ঘর ভাংচুর, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, তার ভাই রুহুল আমিন, জহির ডাক্তার ও তার ভাইদের ঘরের মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে ভূক্তভোগিরা জানান।

একই কায়দায় ওই ইউনিয়নের উত্তর কলাউরা গ্রামের ইউপি সদস্য ওমর ফারুক, জুবায়ের মাস্টার, মৌলভী বাড়ির সকল ঘর, পারুল আক্তার, ফক্কু ভূঁইয়া ও মনিরা বেগমের ঘর ভাংচুর করে। নদীর পূর্বপারের চাচু মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।

হামলার শিকার উত্তর কলাউরার ফয়জুল হক বলেন, আমার বাড়ির বাহিরে থাকা একটি অটো বাইকসহ তিনটি ঘরের দরজা জানালা ভাংচুর করে এবং আমার চাচার ঘরে ঢুকে ড্রয়ার ভেঙে টাকা লুটে নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

কলাউরা মাদ্রাসা পাড়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে আলমারি থেকে একটি স্বর্ণের নেকলেস ও কানের দুল নিয়ে যায়, ঘরের সবকিছু ভাংচুর করে, আমার ভাইয়ের ঘরের ফ্রিজ, সোলারের ব্যাটারিসহ সকল আসবাবপত্র ভাংচুর করে থাকে। এতে আমাদের প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলার শিকার ওই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমর ফারুক বলেন, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের সবকিছু ভাংচুর করে স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেব।

জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা তোফায়েলসহ গংরা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনী ফায়দা হাসিল করতে না পেরে স্বাধীনতার দোসররা অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ভাংচুরের কিছু আলামত দেখতে পাই। ভূক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি।

সর্বাধিক ক্লিক