দোয়া কবুল হয় জুমার দিনে

নভেম্বর ০৯ ২০১৮, ০০:৩০

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী :: মরুপথে হাঁটছে দুজন। আলাদা আলাদা। দুজন আসছে দুই দিক থেকে। দুজনের জীবনপথও আলাদা। একজন ইসলামী জ্ঞানসমুদ্রে বৈঠা হাতে তরী বাইছে। আরেকজন মূসা নবীর দীক্ষিত ধর্মের বড় প-িত। একজনের নাম আবু হুরায়রা (রা.)। আরেকজন হলেন কাব আল আহবার। তাওরাত কিতাবের বিখ্যাত প-িত তিনি। কোরআনে বলা একমাত্র পর্বত তুর পর্বতে এসে দেখা হল দুজনের। কুশল বিনিময় শেষে ধর্মের উচ্চতর আলোচনায় বসলেন দুজনই। কাব আল আহবার বললেন তাওরাত কিতাব থেকে। আবু হুরায়রা (রা.) বললেন আল কোরআন থেকে। আলোচনা এগিয়ে চলছে। রাতও গভীর হচ্ছে। একপর্যায়ে আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, ‘ভাই কাব আল আহবার! তুমি কি জানো জুমার দিনের মাহাত্ম্য কী? আমি শুনেছি, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিন খুবই তাৎপর্যময় একটি দিন। তিনি জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ দিন বলে অবিহিত করেছেন। এদিন আমাদের আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয় এই দিনেই। আর এই বরকতময় দিনে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের পথে রওনা করেন। হে কাব আল আহবার! তুমি কি জানো জুমাবারই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। আবার জুমাবারই পৃথিবী ধ্বংস করা হবে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমাবারে এমন একটি সময় আছে, বান্দা যদি আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, সঙ্গে সঙ্গে তার দোয়া কবুল করা হবে।’

এতক্ষণ পর্যন্ত কাব আল আহবার কিছু বলেননি। চুপ করে শুনছিলেন সব কথা। হাঁ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন আবু হুরায়রার দিকে। চোখের পলক ফেলতেও যেন ভুলে গেছন তিনি। আবু হুরায়রার কথা শেষ হলো। মিষ্টি করে হাসলেন আবু হুরায়রা। কাব আল আহবারকে ধরে হালকা ধাক্কা দিলেন। কাব আল আহবার নড়ে উঠলেন। ঘোর ভাঙল তার। হকচকিয়ে তাকালেন আশপাশে। নির্জন রাত। কোথাও কোনো সাড়া নেই। একটি তাঁবুতে তারা দুজন বসে আছেন। দুই প্রান্তের দুই জ্ঞানী। দুই ধর্মের দুই গুরু।

কাব আল আহবার ব্যাগ হাতড়ে তাওরাত কিতাব বের করলেন। খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে তাকে। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ওল্টাচ্ছেন তিনি। হঠাৎ হঠাৎ থেমে যান। ডুবে যান ভাবনার গভীরে। আবার পৃষ্ঠা ওল্টান। আবার থেমে যান। এভাবে অনেকবার। দীর্ঘ সময় পর কাব আল আহবারের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আনন্দের ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে চোখে। হাত চেপে ধরেন আবু হুরায়রা। চিৎকার করে বলেন, ‘বন্ধু আবু হুরায়রা! দেখ দেখ! আমাদের তাওরাতেও লেখা আছে সে কথা। বলা আছে, জুমাবারের শ্রেষ্ঠত্বের কথা। তোমাদের নবী যা যা বলেছেন, আমাদের তাওরাত কিতাবেও লেখা আছে হুবহু সে কথাগুলোই।’ রাত কেটে ভোর হয়। এবার বিদায়ের পালা। দুজন দুই দিকে চলে যান। আবু হুরায়রা চলে আসেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর কাছে। খুলে বলেন গত রাতের সব কথা। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। বললেন, ‘ভাই আবু হুরায়রা! কাব আল আহবার যা বলেছেন ঠিক বলেছেন। তিনি সত্য লুকাননি। অধিকাংশ ইহুদি যেমনটি করে। তাকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। আচ্ছা আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো জুমার দিনের দোয়া কবুলের সেই সময়টি কখন?’ এবার মাথা চুলকাতে শুরু করলেন এই জ্ঞানী সাহাবি। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন, ‘আমি জানি। সে সময়টি হলো জুমার দিন সূর্য ডুবুডুবু অবস্থায় কেউ যদি আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তাকে তা দেবেন। আমি নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনটি বলতে শুনেছি।’ হে আমার পাঠক ভাই! জুমা শ্রেষ্ঠ দিন। জুমার দিন দোয়া কবুলের দিন। আসুন আমরা বেশি বেশি দোয়া করি। আমাদের অভাব-অভিযোগ আমাদের প্রেমময় প্রভুকে বলি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সব দোয়া কবুল করে নিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি
বিডি প্রতিদিন



এ সংবাদটি 3044 বার পড়া হয়েছে.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares



sylnewsbd.com

Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ খবর

………………………………….

বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত

....................................................................................... ..........................................

add area

Post Archive

December 2018
S S M T W T F
« Nov    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সিলেট আরও