প্রচ্ছদ

নিজের দুর্বলতার কথা বললেন তামিম

১২ জুন ২০১৯, ২০:৪৯

sylnewsbd.com
তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহিত।

খেলা ডেস্ক :: বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন তামিম ইকবাল ।২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে এখন পর্যন্ত তামিমের সেই চিরচেনা ‘ঝাঁঝ’ দেখা যায়নি এখন পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত খেলা তিনি ইনিংসে তামিমের রান যথাক্রমে ১৬, ২৪ ও ১৯। পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, শুরু পেয়েও ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন দেশসেরা এই ওপেনার।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম আউট হয়েছেন যথেষ্ট দৃষ্টিকটু উপায়ে, বাজে শট খেলে। তামিমও জানেন তার দুর্বলতা কোথায়। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তামিম বলেছেন, ‘ নিজের প্রতি আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষাই বাড়তি চাপ তৈরি করছে।’

প্রস্তুতির কোনো ঘাটতিকে টানা তিন ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখেন না অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তামিম বলেন, ‘প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই এখানে, আমি খারাপ সিদ্ধান্তের কারণে আউট হয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। ফেলুকায়োর বলটা দারুণ ছিল। কিন্তু অন্য দুইটি ম্যাচে আমি বাজে শট খেলে আউট হয়েছি। যদি আমার ওই দুই ইনিংসের দিকে ভালোভাবে তাকান, আমি কেবল দুটিমাত্র ভুল করেছি, আর দুটিতেই দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়েছি।’

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তামিম। ভারতের দেয়া ১৯২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে তামিমের ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসে সেদিন ভালো সূচনা পায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত সাকিব ও মুশফিকের আরও দুই ফিফটিতে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে ঘরে ফেরে হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। তবে তার পর থেকে বিশ্বকাপে বলার মতো কোনো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি তামিম। এর মাঝে খেলে ফেলেছেন আরও দুটি বিশ্বকাপ (২০১১ ও ২০১৫)। 

তবে আইসিসি ইভেন্টের কথা ধরলে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এই ইংল্যান্ডের ময়দানেই ঝড় তুলেছিলেন তামিম। চার ইনিংসে ২৯৩ রান করেছিলেন সেবার, স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে করেছিলেন সেঞ্চুরি, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছিল নব্বই-ঊর্ধ্ব রানের একটি ইনিংস।

তবে এতসব পরিসংখ্যান যে বর্তমানে তার কাছে দলের চাহিদার কাছে কিছুই নয়, সেটিও ভালো করেই বোঝেন তামিম। তার মতে, ‘ক্রিকেটে ‘যথেষ্ট’ বলে কিছু নেই। আমি আপনাকে সহজেই আমার শেষ ৫০ ম্যাচের রেকর্ড দেখাতে পারি। কিন্তু এসব কেউ মনে রাখে না। বর্তমানটাই সব কিছু।’

তবে অতীতটা মনে রাখাও জরুরি তামিমের মতে। ৩০ বছর বয়সী চট্টগ্রামের ছেলে তামিম জানালেন, ‘আমি যদি ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে উঠতে চাই, আমি আগে কি করেছি সেটা আমাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। আমি কঠিন পরিশ্রম করছি, কিন্তু এও আশা রাখি; আমি যেন নিজের ওপর বেশি চাপ না দেই। পরের দুই ম্যাচের একটিতে ভালো স্কোর করতে পারলে আমি ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দলের হয়ে ভালো কিছু করার জন্য তামিমের হাতে আছে আর ৫ ম্যাচ। এই যাত্রায় প্রথম তিনি পাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ১৭ জুন টন্টনে ক্যারিবীয়দের মোকাবেলা করবে টাইগাররা। এবার পারবেন কি তামিম?

সর্বাধিক ক্লিক