প্রচ্ছদ

নূরে মোস্তফার বাস্তব উপলব্ধির আহ্বানে গাউসুল আজম কনফারেন্স

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩২

329

মুহাম্মদ রাশেদ হায়দার মহিউদ্দিন :; বিশ্ব সৃষ্টির অনিন্দ্যসুন্দর রূপ রহস্যের নেপথ্যে যা রয়েছে তা হলো, খোদায়ী নূরের প্রেমরূপ শিল্পায়ন। জ্ঞানের গভীরে সুন্দরের নিবিড়ে নূরে মোহাম্মদীর অপরূপ আয়োজন, ধূলির ধরণি থেকে আরশে আজমের মহাসফরে এ নূরের ভীষণ প্রয়োজন। স্রষ্টা সৃষ্টির প্রেমের সেতুবন্ধ সূচিত হয় প্রিয় রসুলের নূরে পাকের মায়াবী সংযোগে, তাওহিদ রিসালতের মর্মবোধ লুকানো এ নূরের অনুরাগে। ইমাম কুস্তালানি (রহ.) রচিত ‘আল্ মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ’তে উল্লেখ আছে- হজরত জাবের (রা.) প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সর্বপ্রথম সৃষ্ট বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে জাবের! নিশ্চয় আল্লাহ সব বস্তুর আগে তোমার নবীর নূরকে তাঁর নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ এ নূরের আকর্ষণে আকর্ষিত হচ্ছে সৃষ্টির সর্বত্র, এ নূরের পরশে খোদায়ী প্রেমের জয়গানে হয় কলব পবিত্র।

নবীজির আপাদমস্তক ছিল নূরে জাহেরার অলঙ্কারে অলঙ্কৃত আর অভ্যন্তরভাগ ছিল নূরে বাতেনায় সমাদৃত। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) নবীজিকে কাছে পেয়ে দুই ধরনের নূরের সুধাই আস্বাদন করেছেন। নবীজির সেই সোনালি যুগের পর নূরে জাহেরার অমৃত সুধার আস্বাদন পাওয়ার সুযোগ না হলেও রয়েছে নূরে বাতেন কলবে নিয়ে খোদার গোপন অস্তিত্ব অনুভবের বিরল সুযোগ। এ নূর আমানত থাকে সেই বান্দাদের সিনা মোবারকে; যাদের ধমনি শিরায় প্রবাহিত হয় নবীজির রক্ত মোবারক, অধিষ্ঠিত থাকেন গাউসিয়াতের মকামে, ধরণিতে যাদের পরিচয় হয় কুতবুল আকতাব তথা গাউসুল আজম উপাধিতে। একবিংশ শতাব্দীর মাহেন্দ্রক্ষণে খোদা নবীর দয়ায় চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়ার পাক জমিনে আমরা পেয়েছি এমন একজন কালজয়ী রাহবারকে যিনি সিনা-ব-সিনা তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে সেই নূর বিতরণ করে যাচ্ছেন পুরুষদের সামনাসামনি বসিয়ে তাওয়াজ্জুহ-বিল-হাজেরের মাধ্যমে আর মহিলাদের শরিয়তের বিধিবিধান মেনে পর্র্দার যথাযথ আইন অনুসরণ করে তাওয়াজ্জুহ-বিল-গায়েবের মাধ্যমে। যেখানে মহিলাদের আসতে হয় না গাউসুল আজমের সামনে, গাউসুল আজমকেও যেতে হয় না মহিলাদের সামনে। নবীজির এ নূর তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে কলবে নিলে ঠাণ্ডা, গরম, ভারী বা কম্পন যে কোনো এক অবস্থা অনুভব হলে কলব যে আল্লাহর স্মরণে মশগুল হয় তার প্রমাণ বহন করে। আর যে পদ্ধতিতে এ নূর অনুভব করা যায় তার নাম হলো মোরাকাবা বা আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকা। নবীজির কাছে নূরে কোরআন এলে অনুরূপ অনুভূতির সঞ্চার হতো। এ নূর গ্রহণকারী ব্যক্তির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উপলব্ধির কারণে বিশেষ কিছু বাহ্যিক পরিবর্তন সাধিত হয়। মিশকাতের ৪৪৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হাদিসের ভাষ্যমতে, এ নূর গ্রহণকারী ব্যক্তি (১) দুনিয়ার অনিয়ম মায়া মোহ থেকে দূরে সরে যায়; (২) পরকালের দিকে ধাবিত হয়; (৩) মৃত্যুর আগেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
নবীজির এ নূর অশান্ত হৃদয়কে করে শান্ত, দিশাহারা জীবনকে করে প্রেমময় প্রশান্ত। আল্লাহর ভয়ে হয় ভীত, আশেকে রসুলরূপে হয় স্বীকৃত। তাকওয়া তাওয়াক্কুলে করে জীবন অতিবাহিত, নবীকে দেখার লাগি দুই নয়নে হয় অশ্রু প্রবাহিত। অতীতের পাপের জন্য হয় অনুতাপে জর্জরিত, ইনসানিয়তের অনুভূতি হয় হৃদয়ে জাগ্রত। এভাবেই পরকালের প্রস্তুতিকে করে আরও শানিত, নূরে মোহাম্মদীর রওশনে হয় আঁধার জীবন আলোকিত। যে আলোয় মেলে সিরাতুল মুস্তাকিমের ঠিকানা, লা মকানের অভিযাত্রার হয় শুভ সূচনা। পরিশেষে হয় আলোকিত মানুষ হওয়ার উপাখ্যান রচনা। আর লাখ লাখ সত্যিকারের আলোকিত মানুষ তথা ইনসানে কামিল সৃষ্টির মহারূপকার কাগতিয়া আলিয়া গাউসুল আজম দরবারের মহান মুরশিদ হজরত গাউসুল আজম; যাঁর কালজয়ী দর্শনে নূরে মোহাম্মদীর আহ্বানে পথহারা মানবতা পেল সুপথের সন্ধান, মারেফাতের ইলম তথা অমূল্য ইহসান। যার পথ ধরে বইবে শান্তির সুবাতাস চির অমলিন, ধূসর এ ধরণি হবে নূরে মোহাম্মদীর রূপেতে রঙিন, হৃদয়ে হৃদয়ে বইবে শান্তি সীমাহীন। এভাবে বদলে যাবে ব্যক্তি, বদলে যাবে দেশ, সম্প্রীতির বাহুডোরে বাঁধা রবে সামাজিক পরিবেশ, অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠবে প্রিয় স্বদেশ।

আরাধ্য শান্তির পয়গাম নিয়ে নূরে মোহাম্মদীর বাস্তব উপলব্ধির প্রত্যয় সামনে নিয়ে ১৪ জানুয়ারি, সোমবার দুপুর ১টা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক গাউসুল আজম কনফারেন্স। আসুন শামিল হই গাউসিয়াতের প্রেম মঞ্জিলে, যেখানে খোদাকে পাওয়ার নবীকে দেখার স্বপ্ন এঁকে দেওয়া হয় নিভৃতে নিরলে, রহস্যজগৎ পড়বে চোখে দেখে যদি ভালোবাসার দৃষ্টি মেলে। তবে দূর হবে দুনিয়ার মোহ, কলবে মিলবে জান্নাতি শান্তি সুষমা অহরহ, জীবনে বইবে প্রেম নূরের প্রবাহ, হৃদয়ে দুলিবে হেদায়তের আবহ।
সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক