প্রচ্ছদ

নেপালে ধ্বংসস্তূপের ছাই ঢাকায় আশার জ্বালানি

২১ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০০

sylnewsbd.com
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফুটবলাররা (ফাইল ছবি)

খেলা ডেস্ক :: সংবাদ সম্মেলনে বারবার ঘুরেফিরে এল নেপালে সাফ ফুটবলের ব্যর্থতার গল্প। গত মাসে বিরাটনগরে নারী সাফ ফুটবলের গ্রুপ পর্বে নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হারা বাংলাদেশ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হজম করেছিল ৪ গোল। এমন এক টুর্নামেন্টের প্রায় এক মাস পর দরজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এর আগে নেপালে ভরাডুবির সেই প্রসঙ্গ ওঠাই অনুমেয়। তবে ব্যর্থতাকেই আসন্ন অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্যের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ।

পরশু থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ছয় জাতি বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট। আজ ফুটবল ফেডারেশনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দল শুনিয়েছে সম্ভাবনা ও প্রস্তুতির গল্প। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন থেকে শুরু করে অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমি, সহ–অধিনায়ক মারিয়া মান্দার বক্তব্যকে প্রকাশ করা হয় এক কথায়, নেপালে ধ্বংসস্তূপের ছাই ঢাকায় আশার জ্বালানি।

২০ মার্চ সাফ ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। সেই দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ছাড়া বাকি সদস্যদের সঙ্গে নতুন তিনজন যোগ করে অনূর্ধ্ব-১৯ দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। দিনপঞ্জির পাতা ঘুরে আজ ২০ এপ্রিল। মাঝের এ সময়ে নেপালের ভুলগুলো নিয়েই কাজ করেছে দলীয় কোচিং স্টাফ। রক্ষণভাগের ভুলত্রুটি মেরামতের সঙ্গে ফরমেশনেও পরিবর্তন এনেছেন কোচ। সাফে রক্ষণাত্মক ধাঁচে খেললেও বঙ্গমাতায় দেখা যাবে আক্রমণাত্মক এক দল। তাই ৫-৪-১ ছক বদলে বাংলাদেশ ফিরে গিয়েছে ৪-৩-৩ ছকে।

সোমবার আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বঙ্গমাতা মিশন শুরু করবে স্বাগতিকেরা। অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সীদের এই টুর্নামেন্টে পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ ফেবারিট হলেও শিরোপা জয়ের কথা সরাসরি বলেননি কেউ। ম্যাচ ধরে ধরে খেলে ফাইনালে ওঠার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ ছোটন, ‘নেপালে টুর্নামেন্টের পর খেলোয়াড়দের যে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ওঠার প্রয়োজন ছিল, তা হয়েছে। মাঠের খেলায় যে ভুলত্রুটি করেছিল খেলোয়াড়েরা, তা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। খেলোয়াড়েরা এখন টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে ফাইনাল খেলতে চাই। প্রথমত, গ্রুপের দুটি ম্যাচ জিততে চাই। এরপর সেমিফাইনালে জিতে খেলতে চাই ফাইনাল। টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশেই ট্রফি রেখে দিতে চাই আমরা।’

সাফ, এএফসিসহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত খেলছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু এবারই প্রথম দেশের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলবেন তাঁরা। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফিটা যদি দেশবাসীর হাতে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে আঁখি-মৌসুমিদের জন্য সেটি হবে সোনায় সোহাগা। আর বঙ্গমাতায় বিদেশি যে দলগুলো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ তাতে অনায়াসেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকে। অতীত পরিসংখ্যানও তাই বলছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আরব আমিরাত। গত বছর সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া জাতীয় দল বিচারে লাওস ও মঙ্গোলিয়া ভালো দল হলেও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কুলিয়ে ওঠার কথা নয়। কারণ, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলটি জাতীয় দলই।

তবে কোচের মতো আগেভাগেই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখাতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক মিসরাত জাহান, ‘প্রথমবারের মতো দেশে বড় একটি টুর্নামেন্ট। নেপালের সাফ ও মিয়ানমারের অলিম্পিক বাছাইপর্ব থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, ঢাকার টুর্নামেন্টে তা কাজে লাগাতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।’ বাংলাদেশ ও আরব আমিরাত ছাড়া এই টুর্নামেন্টের বাকি চারটি দল মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও লাওস। গ্রুপ ‘বি’–তে বাংলাদেশ ও আমিরাতের সঙ্গে কিরগিজস্তান।

সর্বাধিক ক্লিক