প্রচ্ছদ

‘ফণী’-রাজনৈতিক রূপ না দিয়ে মোকাবেলায় সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত

০৩ মে ২০১৯, ০১:১৯

sylnewsbd.com

 মো.নাঈমুল ইসলাম :: গত দু’দিন যাবৎ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে আল্লাহর সহায় চেয়ে অনেক লিখালিখি হচ্ছে। মানুষের মধ্যে একটি ভয় কাজ করছে। কি হতে চলেছে। ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড় যার নাম ‘ফণী’। মা-বাবা, ভাই-বোন থেকে শুরু করে সবাই অনেক চিন্তিত বিষয়টি নিয়ে। আবহাওয়াবীদরা বলছেন এটি মূলত ভারতে আঘাত হানবে, যদি এর গতিপথ পরিবর্তন হয় তাহলে বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এটি আঘাত হানতে পারে। আমরা সিলেটে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে যদি এরকম ভয়াবহ চিন্তভাবনা কাজ করে যারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করছে তাদের মধ্যে কতটুকু? কিন্ত ধন্যবাদ জানাই সরকারের প্রতি ওই এলাকায় অবস্থানরত সবাইকে সরিয়ে নেয়ার জন্য। তাদের জন্য আগে থেকেই সতর্ক হয়ে আশ্রয়স্থল তৈরি করে রাখার জন্য। কিন্তু এর মধ্যেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল ‘ফণী’-কে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় ‘ফণী’-কে মনিটর করছেন, সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছেন, এমনকি ছাত্রলীগকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশও দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। অন্য কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকলে এর থেকে ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আমি আদৌ বিশ^াস করতে পারিনা। কিন্তু আমাদের সমাজের কতিপয় কিছু লোক যেন স্বীকারই করতে চাননা এসব মহতী উদ্যোগের। ফেসবুক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও তাদের অভিমত প্রকাশ করছেন ‘ফণী’ নিয়ে। সরকার নাকি ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত নয়। ঘন্টায় ২০৫ কিলোমিটারে আঘাত হানতে পারে এই ‘ফণী’। শুনলেই ঘা শিউরে উঠে। আমরা বাঙালিরা হুজুগে চলার চেষ্টা করি। যেকোনো বিষয় হোক ইস্যু খোঁজে এটির সমালোচনা করার চেষ্টা করি। ‘কেনো সেনাবহিনী প্রস্তুত রাখলেন, কেনো প্রধানমন্ত্রী বিদেশ চলে গেলেন উনি নিজের সেইফটি করে নিলেন কিন্তু সাধারণ জনগণের কি হবে।’ এরকম যাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- প্রধানমন্ত্রীকে যদি দেশের সবকিছু তদারকি করতে হয় তাহলে সব ধরনের চাকুরি বন্ধ করে দেওয়া হোক। আবহাওয়া অধিদপ্তরে যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা কখন কাজে আসবেন। শুধু এই বিষয় নয় আমাদের দেশে প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়। আমার প্রশ্ন হলো উনি কি একাই এই দেশের মানুষ। উনি কি একাই সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে, উনি কি একাই সব চাকুরি করছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা সবাই সহযোগিতা করেছি। যাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয় যদি সঠিকভাবে পালন করতে পারেন অবশ্যই এরকম দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব। শুধু এই দুর্যোগ নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রত্যেকটি সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবো এবং ইনশাআল্লাহ সফল হতে পারবো। উপদেশ হিসেবে নয়, সতর্কতা হিসেবে বলতে চাই আমরা যারা অবগত হয়েছি ‘ফণী’ সম্পর্কে আমরা চেষ্টা করবো যদি বন্যা বা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় যাদের সামর্থ্য নেই আমরা যারা বিত্তবান আছি তাদের পাশে যেন দাড়াই। শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া-খই-মুড়ি ঘড়বাড়ি ভেঙ্গে গেলে টিন দিয়ে সাহায্য করতে পারি। এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করতে পারি। মসজিদে-মসজিদে দোয়া করাতে পারি। কিন্তু এসব কাজ না করে আমাদের সমাজের ওই একটি মহল হাসি-ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছে এই বিষয়টি নিয়ে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ ছাত্র সমাজের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি ‘ফণী’ নামক বিষয়টিকে সতর্কতার সাথে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করার জন্য এবং যারা অপপ্রচার করছে তাদেরকে বিষয়টি বুঝানোর জন্য এটি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

মো.নাঈমুল ইসলাম
তরুণ সাংবাদিক ও সংগঠক

সর্বাধিক ক্লিক