প্রচ্ছদ

ফেঞ্চুগঞ্জের বারোহালে ছাত্রলীগের ফের বালু উত্তোলন !

১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:২৪

sylnewsbd.com

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রশাসনিক অনুমতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন করে চলছে একটি চক্র। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েসের নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বিঘেœ চলছে বালু কাটার মহোৎসব। ঘটনাটি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়াবহর মৌজার বারোহাল গ্রামে ।
অভিযোগ রয়েছে- বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুনেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক এম ফারহান সাদিক। বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত থাকলেও বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের। এর ফলে একদিকে যেমন ভাঙ্গণের কবলে পড়ে গ্রাম ও ফসলী জমি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশ হচ্ছে হুমকীর সম্মুখীন।
প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতিরেকে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলনে প্রশাসনিক অনুমতি পত্র না থাকলেও প্রভাবশালী চক্রের নাম ভাঙ্গিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এর ফলে প্রতিদিন রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এলাকাবাসীর দাবি- অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক।
এর আগেও একই চক্র উপজেলায় কুশিয়ারা নদী থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোল করার নেপথ্যে জড়িত ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুনেদ আহমেদ ও প্রভাবশালী চক্র।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সিলেট জেলা প্রশাসক ও দুদকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে ‘কুশিয়ারা নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটি’।
সরেজমিনে দেখা যায় অভিযুক্ত জুনেদ আহমেদের বাড়ির সামনে কুশিয়ারা নদী থেকে যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এখানে কোন লিজ মহাল নেই। তার উজানে জামান এন্টারপ্রাইজের বৈধ বালু মহাল আছে। জামান এন্টারপ্রাইজের কাগজের ফটোকপি ব্যবহার করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ব্যবসা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, বৈধ এবং অবৈধ বালু মহালের বিষয়টি প্রশাসন অবগত থাকে। এ অবস্থায় কোনো অপশক্তি অবৈধভাবে বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করে থাকলে প্রশাসনের অজনা থাকার কথা নয়।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে আবারো ড্রেজার চালু করায় হতবাক স্থানীয় জনসাধারণ। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীর ডাক দিবেন বলে জানান স্থানীয় জনসাধারণ।
বালু উত্তোলনের দায়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুনেদ আহমদ বলেন, ‘বারোহাল গ্রামে বালু উত্তোলনের সাথে আমি জড়িত নই, তবে-কুশিয়ারা নদীতে আমি বালু উত্তোলন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্তে এসে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন’।
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি উপজেলা ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক বলেন, প্রতি বালু মহালের ইজারা দেওয়া পহেলা বৈশাখ থেকে। এর আগের অনুমতিপত্র দিয়ে কেউ বালু মহালের বৈধতা দাবি করার সুযোগ নেই। যদি কেউ বৈধতা দাবি করে বালু উত্তোলন করে থাকে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0Shares

সর্বাধিক ক্লিক