প্রচ্ছদ

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়কে যেভাবে অবজ্ঞা করেছে অস্ট্রেলিয়া

০৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৪

329

খেলা ডেস্ক :: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মরণীয় টেস্ট জয়ের বর্ষপূর্তি হলো এক মাস আগে। দেশের মাটিতে টেস্টেও বাংলাদেশ যে সমীহ করার মতো দল, সে তথ্যটা জানিয়ে দিয়েছিল এ জয়। আগের বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয় যে কোনো ফ্লুক ছিল না সেটাও জানিয়ে দিয়েছিল আগস্টের সে ম্যাচ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বাংলাদেশের সে জয়কেও খাটো করে দেখেছে। সে দলের পারফরম্যান্স প্রধানের চোখে বাংলাদেশ দলের অধিকাংশই অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ক্রিকেট খেলারই যোগ্য না!

এ বছরের শুরুতেই অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলগতভাবে পরিকল্পনা করে বল টেম্পারিং করেছে তারা। ক্রিকেটকে লজ্জায় ফেলে দেওয়া এমন কাণ্ডে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও সহঅধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। আর দলের থিংক ট্যাংকের দেওয়া দায়িত্ব পালন করে নয় মাসের শাস্তি পেয়েছেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট। প্রথমে পুরো দল মিলে বল টেম্পারিং করেছে বলে দাবি করেছিলেন ওয়ার্নার। পরে বোলারদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর নিজেদের দোষ মেনে নিয়েছেন ওয়ার্নার। কেন অস্ট্রেলিয়া দল এ কাজ করল, ব্যর্থতা ঢাকতে এত বড় অন্যায় করার চিন্তা কেন মাথায় এল, এ নিয়েই প্রকাশিত হচ্ছে একটি বই, ‘ক্রসিং দ্য লাইন।’ প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা গিডিওন হেইয়ের এ বইয়ের কিছু অংশ টিজার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই ২০১৭ সালের সে সফরের পারফরম্যান্স প্রধান প্যাট হাওয়ার্ডের মনোভাবের কথা জানা গেছে।

দলের হারের পর দেশটির ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে নিজের হতাশার কথা একটি মেইলে জানিয়েছেন হাওয়ার্ড। সেখানেই লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের কাছে প্রথম কোনো টেস্ট হারলাম মাত্র। এখন ঢাকার এক হোটেলের ক্যাফেতে বসে আছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে লজ্জিত এবং এর দায় নিচ্ছি। এর ফলে যে সমালোচনাই করা হোক মেনে নিতে রাজি। আপনাদের মধ্যে যারা ঢাকায় আছেন তারাও ভালোভাবেই জানেন কতটা বাজে ফলাফল এটি এবং কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন।’

হাওয়ার্ডের হতাশার বাণী এখানেই থামলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশকে অপমান করেছেন হাওয়ার্ড, ‘বর্তমানে ক্রিকেট ব্যবস্থা কেমন চলছে সেটা জাতীয় দলের পারফরম্যান্স দেখে বিবেচনা করা হয়। ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন এখন আমাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। আমার মতে সেটা ঠিকই আছে। আমি নিশ্চিত যারা আজ আমাদের হারাল, তাদের অধিকাংশই আমাদের প্রাদেশিক দলগুলোতে জায়গা পাবে না।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় শেফিল্ড শিল্ডের দলেও জায়গা পাবেন না। এমন কথা শুনে পরিচিত ঠেকছে? মনে হচ্ছে আগেও এমন কিছু শুনেছেন? স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাক। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সে সফরের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক অপমানসূচক কথাবার্তা বলা হয়েছিল। একদিনের মধ্যে টেস্ট জেতার টোটকা দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে বিভিন্ন ভুল তথ্যে ভরা প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করে দুটি টেস্টেই ভালো করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসে ফিফটি পেয়েছিলেন হান্নান সরকার। বাংলাদেশের বোলাররা অবশ্য দুই টেস্টেই মাত্র একবার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এর মাঝেই নজর কেড়েছিলেন মাশরাফি। বাংলাদেশ দল থেকে তাই শেফিল্ড শিল্ডে খেলার যোগ্যতা শুধু মাশরাফি ও হান্নান রাখেন বলে শোনানো হয়েছিল। সে সময়ের বাস্তবতায় সেটা সত্য বলেই মেনেছে বাংলাদেশ।

এর পর ১৫ বছর কেটে গেছে। এর মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে। ২০০৫ সালে শেফিল্ড শিল্ডে খেলার অযোগ্য মোহাম্মদ আশরাফুল একাই হারিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। তিন এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট মাশরাফিরা। ২০১৭ সালে আগস্টের সে টেস্ট জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়াকে টপকেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। তবু বাংলাদেশ দলের মান নিয়ে এতটাই সন্দিহান অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য লেখক হেইয়ের চোখে এমন ঔদ্ধত্যই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের এ সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা যখন শ্রেয়তর দল হিসেবে জিতছে, সেটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল বলে তাই বল বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে!

সর্বাধিক ক্লিক