প্রচ্ছদ

বাংলাদেশের গর্ব বিশ্ব ইজতেমা

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২১

329

মাওলানা মুহম্মাদ সাহেব আলী :; টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক। আল্লাহ বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক হওয়ার সুযোগ দান করে বাংলাদেশের মুমিন বান্দাদের এ গর্ব দান করেছেন। আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ মুসলমান অংশ নেবেন। দাওয়াতি কার্যক্রম, জিকির এবং ইবাদত বন্দেগিতে তারা সময় কাটাবেন। নিজেদের জানমাল এবং সময় ব্যয় করে আপন আপন উদ্যোগে একমাত্র হেদায়েত প্রাপ্তি এবং দুনিয়াব্যাপী হেদায়েত প্রসারিত করার মহৎ উদ্দেশ্যে মেহনতকারী মুসলমানরা আল্লাহর প্রেমিকদের ইজতেমায় যোগ দেন। মানুষকে দীনের পথে দাওয়াত করা এক কঠিন কাজ। এ দায়িত্ব যারা পালন করেন তাদের ধৈর্যশীল হতে হয়। মানুষকে ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসার শক্তি দিয়ে অপরের হৃদয় জয়ের চেষ্টা করতে হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনাও তাই। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার কর, রূঢ় আচরণ কর না, সুসংবাদ দাও, ভীত সন্ত্রস্ত কর না।’ (বুখারি ও মুসলিম)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাকো হিকমত বা কৌশল সহকারে ও উত্তম নসিহতের মাধ্যমে এবং বিতর্ক কর উত্তম পন্থায়।’ (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)। যারা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে, অসত্য থেকে সত্যের কাফেলায় যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে তারা আল্লাহর নেক বান্দাদেরই অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা বলেনÑ ‘তার কথার চেয়ে উত্তম কথা কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নেক আমল করে এবং সে বলে, নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা হা-মীম আস-সাজদা, আয়াত-৩৩)। এদেশে আজ তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমার যে ফল্গ–ধারা প্রবাহিত হচ্ছে, তার প্রভাবে দুনিয়ায় বাংলাদেশ বিশ্ব ইজতেমার দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দাওয়াতি এই কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেওবন্দের হজরত মাওলানা ইলিয়াসের (রহ.) নাম। পবিত্র কোরআন ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের আলোকে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার দীনি মিশন তাবলিগের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯২৬ সালে ভারতের মেওয়াত থেকে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তাবলিগি দাওয়াতের মেহনত শুরু করেন। তাবলিগের এ মেহনতই এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৩৭ সালে হজরত ইলিয়াস (রহ.) দাওয়াতের কাজে জড়িত মেওয়াতবাসীকে জামাতবদ্ধ করে অন্যান্য শহরে পাঠাতে আরম্ভ করেন। ১৯৪১ সালে মেওয়াতের নূহ অঞ্চলে এক বিশাল ইজতেমার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু ১৯৪৪ সালে। ১৯৪৬ সালে প্রথম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় কাকরাইল মসজিদে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনের পর ১৯৬৬ সাল থেকে তুরাগ পাড়ে মুমিনদের এই বৃহৎ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বিশ্ব ইজতেমার সৌরভ ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়ার সব দেশের আল্লাহ প্রেমিকদের মধ্যে।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক