প্রচ্ছদ

বাঙালি মুসলমানকে দৃঢ় হতে শেখায় বৈশাখ

১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৩১

sylnewsbd.com

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী :: একটা সময় ছিল যখন এদেশের হাড়হাভাতে মানুষ থেকে শুরু করে ওপর তলার মানুষের দুয়ারেও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসত বৈশাখ। বৈশাখ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে উপচে পড়া আনন্দ। এ উপচে পড়া আনন্দের বড় কারণ হচ্ছে বৈশাখের পয়লা দিন বাঙালি কৃষকরা ঋণভার থেকে মুক্ত হতো। একই সঙ্গে বণিকরা পেত বকেয়াদি। ঋণমুক্তি এবং পাওনা প্রাপ্তির পর নিজের ও পরিবারের জন্য ভালো খাবার-পোশাক কেনার মাধ্যমে বৈশাখকে উদযাপন করত এ অঞ্চলের মানুষ। সম্রাট আকবরের সময় থেকে চলে আসা এ সংস্কৃতি বাঙালির পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। বাঙালি মানেই সে বৈশাখের ঝড়ো হাওয়াই নেচে উঠবে। বাঙালি মানেই বৈশাখের মতো সব ভেঙেচুড়ে গুঁড়িয়ে যাওয়ার পরও আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ শিক্ষাই বৈশাখ আমাদের দিয়েছে যুগে যুগে। তাই তো বাঙালির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বারবার ভেঙেছে, গুঁড়িয়েছে আবার কোমর সোজা করে দাঁড়িয়েছে বাঙালি। এই যে ভাঙার পর নতুন করে দাঁড়াতে পারা এটা যেমন তেমন কথা নয়। একটা জাতির ভিতর কত বড় শক্তি ঘুমিয়ে থাকলে বারবার ভাঙার পরও বারবার সে ওঠে দাঁড়ায়, তা কল্পনা করার ক্ষমতাও অনেকেরই নেই। আমাদের আছে অকল্পনীয় শক্তি, আছে অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা। শুধু নেই উদ্যোগ আর পা বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার হিম্মত। সাহস করে একবার পা বাড়ালে একবার অলসতা ঝেড়ে সামনে এগোলেই যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃষ্টান্ত দেখাতে পেরেছে বাঙালি। এ কথা দূর এবং নিকট অতীতে প্রমাণিত। এত শক্তি এত সম্ভাবনাময় একটি জাতি আজ হারিয়ে গেছে দুর্নীতির চোরাবালিতে। ঘুমিয়ে পড়ছে স্বার্থপরতার চাদর গায়ে জড়িয়ে। দুচোখে লোভের চশমা পরে তারা চিনতে পারছে না নিজেকে। ফলে আজও আমরা কাক্সিক্ষত উচ্চতায় পৌঁছতে পারিনি। আজও আমরা নিজেকে নিজের দেশ-ধর্মকে বিশ্বের দুয়ারে অনন্য পরিচয়ে পরিচিত করাতে পারছি না। রসুল (সা.) মরুসন্তানদের নিয়ে এত অল্প সময়ে একটি উন্নত সভ্যভব্য দেশ গড়তে পেরেছেন শুধু এ জন্য যে, মরুপ্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ফলে তাদের ভিতর যে অপ্রতিরোধ্য শক্তি এবং সীমাহীন সম্ভাবনা ঘুমিয়ে ছিল, রসুল (সা.) শুধু সেখানে ইমান নামক জিয়ন কাঠি ছুঁইয়ে দিয়েছিলেন। আর একেকজন মরুসন্তান হয়ে উঠেছেন সোনার মানুষ। কেয়ামত পর্যন্ত এই মরুসন্তানরাই অনুপম আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবে প্রতিটি মুসলমানের বুকে।

প্রিয় পাঠক! বৈশাখের এই উন্মাদ ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আমি কোরআনের সেই আয়াত পড়ে শোনাচ্ছি- আল্লাহ বলছেন, ‘নিশ্চয়ই! আল্লাহ কোনো জাতিকে উন্নতির শিখড়ে আরোহণ করান না যতক্ষণ না তারা নিজেরা উন্নতির সিঁড়িতে পা রাখে।’ হ্যাঁ পাঠক! এটাই আল্লাহর নিয়ম। আমরা যতই সম্ভাবনাময়ী হই না কেন, সে সম্ভাবনা অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে। যখন আমরা আমাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাব, আমাদের ভিতরের অলসতা, স্বার্থপরতা এবং লোভকে ছুড়ে ফেলতে পারব তখনই বিশ্বের দুয়ারে বাঙালি মুসলমান এক অনন্য পরিচয়ে পরিচিত হতে পারবে। তখন তারা দুর্নীতি কিংবা ট্রাফিক জ্যামে প্রথম হবে না। তারা হবে উন্নতি-অগ্রগতিতে প্রথম। হবে নীতি নৈতিকতায় প্রথম। আমাদের ভিতরের অলসতা-স্বার্থপরতাসহ যত মানবীয় দোষত্রুটি আছে সবকিছু ভেঙে যাক, বৈশাখী ঝড়ে। সব অন্যায়-অসত্য উড়ে যাক, সত্য-সুন্দর আমাদের মাঝে বাসা বাঁধুক এ কামনাই করছি। নতুন বছরে আমাদের নতুন উদ্যমে গড়ে ওঠার তাওফিক দিন হে আল্লাহ।
লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।
সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

0Shares

সর্বাধিক ক্লিক