প্রচ্ছদ

বাহুবলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত শতাধিক ৫২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ, আটক ১৫

০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:১৭

329

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার বাহুবলে সরকারি বিল দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদের বাহুবল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪৮ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও ১৩ রাউন্ড গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ দাঙ্গাবাজকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোহারুয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার গোহারুয়া গ্রামে একটি সরকারি বিল দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের একটি পক্ষ ভোগদখল করে আসছে। ইদানিং একই গ্রামের অপর একটি পক্ষ ওই বিলটি দখলের পায়তারা করলে দু’পক্ষে মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। এর একঘন্টা পর দুপুর ১২টার দিকে ফের উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে উল্লেখিত সংখ্যক লোক আহত হয়।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মৃত মনফর উল্লাহর পুত্র সাজিদ মিয়া (৩৫), মৃত রশিদ উল্লাহর পুত্র নসর উদ্দীন (৫০), ফজলুল হকের পুত্র লিটন মিয়া (২২), মৃত আনফর উল্লার পুত্র মর্তুজ আলী (৪৪), হাসান উদ্দিনের পুত্র জাকারিয়া (২২), আব্দুস সাত্তারের পুত্র সাজিদ মিয়া (৩৫), হাফিজ উদ্দিনের পুত্র রাজু মিয়া (১৭), ফজল মিয়ার পুত্র আল আমিন (২০), মৃত দরছ মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৬০), ফাকু মিয়ার পুত্র অলি মিয়া (২৫), নূর মিয়ার পুত্র মোতাহির (২৫), রশিদুল্লাহর পুত্র মনির মিয়া (৭০), হাছন আলীর পুত্র নোমান মিয়া (২৮), শামসু উদ্দিনের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম (৪০) কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও আইয়ুব আলীর পুত্র সিদ্দিক মিয়া (৩৫), নছর উদ্দিনের পুত্র বজলু (৩০), মৃত করিম উল্লাহর পুত্র আহাদ আলী (৪৫), রশিদল্লাহর পুত্র গেদু মিয়া (৭০), তৈয়ব উল্লার পুত্র ইউনুছ মিয়া (৫৫), আনফর উল্লাহর পুত্র আফতাব আলী (৪০), দরবেশ আলীর পুত্র সিরাজ মিয়া (২২), আশ্রব উল্লাহর পুত্র আব্দুল্লাহ (২৭), আব্দুর রশিদের পুত্র মানিক মিয়া (৩৫), সাজিদ মিয়ার পুত্র রায়হান (১৩), আব্দুল মুনিমের পুত্র রুবাইব (১৭), ফাকু মিয়ার পুত্র দেলোয়ার হোসেন (১৬), আব্দুল মান্নানের পুত্র আব্দুল হক (৪৫), আব্দুল হামিদের পুত্র জয়নাল মিয়া (৪০), মৃত আব্দুল্লাহর পুত্র ফয়সল (২০), সবুজ মিয়ার পুত্র মহিবুর রহমান (১৬), শফিক মিয়ার পুত্র জামাল আহমেদ (১৬), আব্দুস সাত্তারের রাজন (১৮), মৃত সফর উল্লাহর পুত্র আফরোজ (৫০), মৃত নাছির উদ্দিনের পুত্র সাজেদুর রহমান (৩৫), মৃত আব্দুল কাদিরের পুত্র আবিদ মিয়া (৪০), মনফত উল্লাহর পুত্র মোস্তফা (৪০), আবরু মিয়ার পুত্র জসিম (২৫), রহিম উদ্দিনের পুত্র বাবুল মিয়া (৩২), সিরাজ মিয়ার পুত্র এনামুল (১৯), মৃত আব্দুল্লাহর পুত্র সবুজ মিয়া, গেদু মিয়ার পুত্র বিংরাজ মিয়া (৩০), মৃত শামছুদ্দিনের পুত্র সবুজ মিয়া (৫০), নাছির উদ্দিনের পুত্র শফিক আহমেদ (৫০), আব্দুন নূরের পুত্র ফরিদ মিয়া (৪০), আব্দুল আলীমের পুত্র রেনু মিয়াকে (২৭) বাহুবল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর কবির, এসআই সজিব (৩০), এসআই রহিম (৪০), কনস্টেবল রাজু (২৬) ও রাজিবসহ (২৫) অন্যান্য আহতদের বাহুবল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বাহুবল মডেল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ দাঙ্গাবাজকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

1 বার পঠিত
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

সর্বাধিক ক্লিক