প্রচ্ছদ

বিএনপির সংসদে যাওয়া ছাড়া পথ কোথায়

০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৬

sylnewsbd.com

পীর হাবিবুর রহমান :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধই হয়নি দেশবাসীর সামনে বিস্ময়কর ফলাফল এনে দিয়েছে। এমনকি বিজয়ী আওয়ামী লীগ ও তার প্রধান শেখ হাসিনা দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখলেও এমন ফলাফল প্রত্যাশা করেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলও এমন ফলাফলের জন্য প্রস্তুত ছিল না। যদিও শেখ হাসিনাই আবার গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। নির্বাচনী ফলাফলে বিজয়ীরা যেমন বিস্ময়ের ঘোরে আটকে গিয়ে জয়ের আনন্দ উপভোগ করেননি তেমনি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির শক্তিনির্ভর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ফলাফলের রায় দেখে শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। এই নির্বাচনী ফলাফল কোন দলের জন্য লাভের পাল্লা ভারী করেছে, কার জন্য ক্ষতির পাল্লা বড় করেছে তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তা কোনো সুফল বয়ে আনেনি। মানুষের মনে হতাশা ও বিষাদের ছায়া এনে দিয়েছে। এমনকি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকারই গঠন করতে হয়নি, তার ইমেজ ও তার জোটের শক্তির ওপর উঠে আসা জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দ দলের নেতাদের বিরোধী দলে আসন দিতে হয়েছে। এতে সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতির প্রাণবন্ত সুখ নির্বাসিত হয়েছে। বাইসাইকেলের মতো শক্তিশালী দুই চাকা-নির্ভর সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের চিত্রপট হোঁচট খেয়েছে, আকর্ষণ হারিয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্র তরতাজা চেহারার বদলে বিষণœ রূপ নিয়েছে। জবাবদিহি ও বিতর্কের জায়গা এতে যেমন দুর্বল হয়েছে, তেমনি এ ধরনের বিজয়ের ফলে সুবিধাভোগী নব্য ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক চেহারার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বেপরোয়া করেছে। সরকার সমর্থক অতিউৎসাহী প্রশাসনকে আত্মঅহংকারের জায়গায়ই দাঁড় করায়নি, কেউ কেউ নিজেদের ক্ষমতার উৎস বলে মনে করছেন। এতে এ দেশের জনগণের আজন্ম-লালিত সংসদীয় গণতন্ত্রের আকুতি ও প্রত্যাশা মর্মবেদনায় পুড়ে শেষ হচ্ছে। এমনকি সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অনেকে নিজেদের ভাবছেন।

এ ধরনের নির্বাচন ও ফলাফলের জন্য শাসক দল একাই দায়ী নয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দায় এড়াতে পারে না। নির্বাচনের চ্যালেঞ্জই যখন গ্রহণ করবে তখন দলের ভরা যৌবনে ব্যাপক গণসমর্থনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন ও সহিংস হরতাল-অবরোধের সহিংস প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল উগ্র হঠকারিতা। সেদিনের সিদ্ধান্ত শাসক দলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করেছে। সেদিন দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শক্তিশালী দল ও জনপ্রিয়তা নিয়ে মাঠে ছিলেন। সে নির্বাচন বর্জনের পর শেখ হাসিনা সরকারের এক বছরের মাথায় দল ও জনগণকে প্রস্তুত না করে আচমকা অসহযোগ আন্দোলনে নেমে আগুনসন্ত্রাসের হরতাল-অবরোধের পথ নিলে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হয়। সরকারি দমননীতি মামলার জালে আটকা নেতা-কর্মী ও ব্যর্থ আন্দোলন বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। এমনকি অতিশয় দুর্বল দলে পরিণত হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যখন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট করে নির্বাচনে আসে তার আগে এক বছর ধরে দলকে ও মানুষকে বিভ্রান্তির অন্ধকারে ঠেলে দেয়। কখনো শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়, কখনোবা সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়- এমন কথা বলে দলকে বিভ্রান্তই করেনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী অবস্থায় কার্যত নেতৃত্বহীন দুর্বল বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসে। অন্যদিকে সব মহলের আকুতি উপেক্ষা করে ’৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী ও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে জোটেই টানেনি আসন বণ্টনে সুবিধা দিয়ে বিতর্কিত হয়। একেকটি আসনে দলের একাধিক প্রার্থীকে চিঠি দিয়ে যেমন মনোনয়ন বাণিজ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তেমনি গায়েবি নির্দেশে দলের জাঁদরেল প্রার্থীদের মনোনয়ন না দিয়ে প্রবাসী আনকোরাদের মনোনয়ন দিয়ে দলকে আরও নিষ্প্রাণ করে দেয়। এমনকি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় সেই বহুল আলোচিত তারেক রহমান ভয়াবহ একুশের গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত লন্ডন নির্বাসিত আইনের চোখে পলাতক আসামি। এক অসহায় পরিস্থিতিতে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী লীগ যেখানে নৌকার পক্ষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে গণজাগরণ ঘটিয়ে পরিকল্পিত নির্বাচন করেছে সেখানে বিএনপির ভোটযুদ্ধ ছিল অপরিকল্পিত ও নিষ্প্রাণ। এমনকি তৃণমূলে দল কতটা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডহীন ও জনবিচ্ছিন্ন ছিল সে খবরও কেন্দ্রের কাছে ছিল না। তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করার উদ্যোগও ছিল না। একদিকে রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে অসহায় পরিস্থিতিতে অপরিকল্পিত নেতৃত্বহীন বিএনপির ভোটযুদ্ধ ছিল গণজাগরণহীন। কিন্তু বিএনপির দুর্গগুলোয় করুণ পরাজয়ের ফল এবং হেভিওয়েট নেতার ভোটপ্রাপ্তির করুণ দশা নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট আগের রাতে সরকারি দলের ব্যালট বাক্স ভর্তির অভিযোগের সঙ্গে সুর তুলেছে টিআইবি। সেই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলো সিইসি নূরুল হুদা যখন বলেন, ‘আগের রাতের ভোট বন্ধে ইভিএম পদ্ধতি’- তখন সেই অভিযোগ আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপের নিষ্প্রাণ একতরফা উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরেক ধাপ হলেই উপজেলা নির্বাচন শেষ হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ভোটযুদ্ধ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। বিএনপির অনেকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছিলেন। কয়েকজন জিতলেও দেড় শতাধিক বহিষ্কার হয়েছেন। তৃণমূলের রাজনীতিতে এই একতরফা উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিকভাবে আরেক দফা প্রাণহীন হয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা লড়াই করেছেন। শতাধিক বিনা ভোটে যেমন বিজয়ী হয়েছেন তেমনি অসংখ্য বিদ্রোহীর জয়ের মুখে নৌকার ভরাডুবি ঘটেছে। অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মন্ত্রী-এমপি কোথাও বা স্থানীয় জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা কাজ করেছেন। ইউপি নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিভক্তিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড দলীয় জাগরণের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে উঠলেও উপজেলায় এসে আবার গৃহবিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। উপজেলায় দলের বিরোধ কোথাও কোথাও সংঘর্ষ-রক্তারক্তিতে জড়িয়েছে। ভোটাররা নির্বাচন থেকে যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তার চিত্র ঢাকার উত্তরের মেয়র নির্বাচন থেকে উপজেলা নির্বাচনে গিয়ে ভয়াবহভাবে উন্মোচিত হয়েছে। ভোট এখন আর আমাদের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের উৎসব নয়। ভোট যেন আজ আমাদের গণতন্ত্রের রাজনীতিতে আকর্ষণহীন নানা অনিয়মের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ভোটাধিকারের জন্য আজন্ম আমাদের পূর্বসূরি থেকে বর্তমান সময়ের জাতীয় নেতাদের ডাকে জনগণ নিঃশঙ্কচিত্তে অমিত সাহস নিয়ে লড়াই করতে কার্পণ্য করেননি। সামরিক শাসকদের জমানায় যেখানে ভোট প্রহসনে পরিণত হয়েছিল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সেখানে তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যায় না। অংশগ্রহণমূলক উৎসবের গ্রহণযোগ্য ভোট ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে কোনো দল বা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। সরকারের পাশাপাশি সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকেও দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকেও যার যার জায়গা থেকে নিরন্তর কাজ করতে হবে।

বিএনপির শক্তিনির্ভর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ সংসদে শপথ নিয়ে যোগ দিয়েছেন। জনগণের পক্ষে কথা বলার অঙ্গীকার করেছেন। আজন্ম আওয়ামী লীগার সুলতান মনসুর দীর্ঘদিন দলে উপেক্ষিত হয়ে দুঃসহ যাতনা ভোগ করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করা গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদে এসেছেন। বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগে ছিলেন, আওয়ামী লীগে আছেন। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার স্নেহচ্ছায়ায় ও আস্থায় তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি, ডাকসু ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। দলের নিবেদিতপ্রাণ অনেক কর্মী তিনি তৈরি করেছেন। দেশের রাজনীতিতে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সৎ-আদর্শবান ক্লিন রাজনীতিবিদ হিসেবে। রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকে, সেখান থেকে তিনি কৌশল নিয়ে আবারও প্রত্যাবর্তন করেছেন মানুষের শক্তিতে জয়ী হয়ে। তার রাজনীতির ঠিকানা যে আওয়ামী লীগই হবে তা নিশ্চিত। এককালে আওয়ামী লীগ করা লন্ডনপ্রবাসী মোকাব্বির খান গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট থেকে কপালগুণে এমপি হয়ে এসেছেন। তিনিও সংসদে যোগ দিয়েছেন। তাদের ভোটাররাও চেয়েছেন তারা সংসদে যান এবং ভূমিকা রাখুন। সুলতান মনসুর গণফোরামের রাজনীতি করেননি। নিবন্ধিত দল থেকে মনোনয়ন নিতে হয় বলে তার একসময়ের সতীর্থ ও নেতাদের এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলা গণফোরাম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মাত্র। তিনি সংসদে যাওয়ায় গণফোরাম বহিষ্কার করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে সংসদে শপথ নেওয়ায় মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মানে ইতিবাচক রাজনীতি করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন নতুন নির্বাচন চাইলেও সংসদ বর্জনের পক্ষে নন। আর তাই মনস্তাত্ত্বিকভাবে এ দুজনের সংসদে যোগদানের তিনি হয়তো বিরোধী নন। সংসদে যোগদান ছাড়া তাদের কীইবা করার ছিল?

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল অংশগ্রহণ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ছাত্রত্ব চলে যাওয়া নেতৃত্ব ছাত্রদলে রাখা হয়েছিল। ছাত্রদলের নিয়মিত ছাত্ররা ডাকসু নির্বাচন করায় এখন নির্বিঘ্নে ক্যাম্পাসে পদচারণই করতে পারছেন না, সব ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সহাবস্থানই করছেন না, তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতিতে পরাজিত হলেও ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাত্রদলের জন্য ইতিবাচক ফল এনেছে। আগামীতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবী নতুন নিয়মিত ছাত্রনির্ভর নেতৃত্বের আলোয় সংগঠনকে ঘুরে দাঁড় করাতে পারবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নির্বাচন নিয়ে অনেক অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যানই করেনি সংসদে যোগদান না করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এ নির্বাচন যদি তাদের বিবেচনায় ডাকাতির হয়ে থাকে বা আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে তবু এটাই নির্মম সত্য যে, এর প্রতিবাদে জনগণকে আন্দোলনে নামানো দূরে থাক নেতা-কর্মীদেরই নামাতে পারেনি। মাঝখানে দলের মধ্যে নেতায় নেতায় বিরোধ মতামতগত দ্বন্দ্ব যেমন প্রকট হয়েছে তেমনি নেতৃত্ব বদলের কথাও উঠেছে। আরেকদিকে মাঠ পর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা ও সরকারের দমন-পীড়নের মুখে পতিত হওয়া বিএনপিকে হতাশা চরমভাবে গ্রাস করেছে। এমনকি দলের কারাবন্দী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে যেমন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি তেমনি নানা মহলের আবেদন সত্ত্বেও জামায়াতকে ছাড়তে পারেনি। তারেক রহমানকেও দলের প্রভাব বিস্তার করা থেকে বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ভূমিকা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এমনকি সংগঠনকে ঢেলে সাজিয়ে কর্মী ধরে রাখা বা তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করার কার্যকর দৃশ্যপট দেখা যায়নি। এ অবস্থায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্য সংসদে যোগদান না করে সদস্যপদ হারালে দলীয়ভাবে লাভবান হবে এমন আলামত দেখা যাচ্ছে না। সংসদে না গিয়ে তীব্র সরকারবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তুলবে সে প্রেক্ষাপটও নেই। এ অবস্থায় বিএনপির সংসদে যাওয়া ছাড়া পথ কোথায়? সংসদে গেলে আর যাই হোক সংখ্যায় কম হলেও সদস্যরা নির্বাচন থেকে শুরু করে যেখানে যত অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা তার চিত্রপট তুলে ধরে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে সংসদে বিতর্কের ঝড়ই তুলতে পারবেন না, নেতা-কর্মীদের চাঙ্গাই করতে পারবেন না এমনকি খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দরকষাকষির শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবেন। গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়তে পারবেন। বিএনপিতে শুধু স্বাধীনতাবিরোধী লোকজনই নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরীক্ষিত অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এ রকম জনপ্রিয় একটি দলকে এভাবে ঘরে বসে নির্জীবের মতো শেষ হয়ে যাওয়া মানে নিজেদেরই শেষ করা নয়, গণতন্ত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করা। তাই বিএনপি নেতৃত্বকে সংসদে যোগদানের মধ্য দিয়ে সেখানে বিতর্কের ঝড় তোলা, দল গোছানো, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী দিনের রাজনীতি তথা জনমত পক্ষে টেনে অনুকূলে নিয়ে আসাই বড় চ্যালেঞ্জ।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক