প্রচ্ছদ

মুক্তি প্রার্থনা

১৬ মে ২০১৯, ০০:৫৩

sylnewsbd.com

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ :; আজ মাহে রমজানের প্রথম দশক শেষ হবে। কাল শুরু হবে রমজানের দ্বিতীয় দশক। হাদিস শরিফে উল্লিখিত হয়েছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনার জন্য এই দশ দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত যে, মাহে রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন নাজাতের অর্থাৎ দোজখের আগুন তথা যাবতীয় ঐহিক পারত্রিক দাবদাহ বা যন্ত্রণা হতে মুক্তি প্রার্থনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত রমজান মাসে চারটি কাজ গুরুত্বসহকারে করা আবশ্যক- আল্লাহর একাত্ম ও তার বান্দা হওয়ার কথা বারবার আন্তরিকতার সঙ্গে স্বীকার ও ঘোষণা করা অর্থাৎ কলেমা তৈয়েবা ও কলেমা শাহাদত বেশি বেশি পাঠ করা, তাঁর নিকট ক্ষমা ও মাগফিরাতের প্রার্থনা করা; ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে পরিত্রাণ লাভের জন্য দোয়া করা এবং উভয় জীবনে যাবতীয় দাবদাহ যন্ত্রণা হতে মুক্তি প্রার্থনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দার নিকট হতে প্রার্থনা বা মোনাজাত শোনা এবং কবুল করা পছন্দ করেন। আল-কোরআনের ৬ষ্ঠ সূরা আল আন আমের ৬৩-৬৪ আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে- ‘বলুন, কে তোমাদের ত্রাণ করেন যখন তোমরা স্থলভাগের ও সমুদ্রের বিপদে কাতরভাবে এবং গোপনে তাঁর নিকট অনুনয় কর এ ভাবে- আমাদের এই বিপদ হতে ত্রাণ করলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। বলুন আল্লাহই তোমাদেরকে বিপদ হতে ও সব দুঃখ কষ্ট হতে পরিত্রাণ করে। এতদসত্ত্বেও তোমরা তাঁর শরিক কর।’ বিপদে পড়লে মানুষ বিপদ হতে মুক্তির প্রার্থনা করে কাতর স্বরে কিন্তু বিপদ হতে মুক্তিলাভের পর প্রায়শ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না বরং বিপদ হতে মুক্ত পাওয়ার জন্য আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও সাহায্যের কথা কখনো কখনো স্মরণ করে থাকে। এটা চরম অকৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর সঙ্গে অপরকে শরিক করবার মতো গর্হিত অপরাধ। বস্তুত যাবতীয় সাহায্য আসে আল্লাহর তরফ হতেই তিনি তার কোনো বান্দার অসিলায় বা মাধ্যমে তা সম্পাদন করান। আল্লাহ যাকে অন্যের উপকার করবার ক্ষমতা দেন তারও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। উপকারী ব্যক্তির অন্যের প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতা বা প্রতিদান প্রত্যাশা না করা উত্তম। তবে বিপদ হতে পরিত্রাণ লাভকারী বা উপকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি আল্লাহকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে এবং সেই সঙ্গে উপকারীর প্রতি বিনয় ও কৃতজ্ঞ প্রকাশ করবে তাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কোনো অবস্থাতেই উপকারী ব্যক্তিকে আল্লাহর শরিক বা বিকল্প সাব্যস্থ করা যাবে না। আল কোরআনের ৪র্থ সূরা আন নিসার ৪৮ ও ১১৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্টতই উল্লিখিত হয়েছে- ‘আল্লাহ তার শরিক করবার আপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহকে শরিক করে সে এক মহাপাপ করে।’

লেখক : সাবেক সচিব ও এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান।

সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক