প্রচ্ছদ

যখন আমি সাংবাদিক-২

০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:৫৭

sylnewsbd.com

মাহবুবুল হক :: সাপ্তাহিক পরিচয় ও দৈনিক আযমে আমার হাতে খড়ি। যেগুরুর আশির্বাদে আজ আমি। সেই গুরুর কাছে আমার একটা না পাওয়া বেদনা রয়েগেছে। গুরুর ভালোবাসার কোন কমতি না থাকলেও কেন জানিনা তিনি আমাকে কখনও সাংবাদিকতার কাড দেননি। এ যন্ত্রণার অনুভূতি আমার কাছে গোলাপ ফুলের কাঁটার মতো। কিছু দিনের মধ্যে উঠাবসা শুরুর করলাম মেহেরপুর প্রেসক্লাবে আমার গন্ডি বৃদ্ধি পেলো, চাহিদা বাড়তে থাকলো। যশ খ্যতি, মানুষের ভালোবাসা কেনা চাই? মনে হলো এবার জাতীয় পত্রিকায় কাজ করার সময় এসছে।১৯৯৩ সাল, প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের প্রথম কালর সহ বিভিন্ন নতুন নতুন বিভাগ নিয়ে(আমার জানামতে) দৈনিক আলমুজাদ্দেদ। লেখা শুরু করলাম।প্রেসক্লাবে সে সময় আমি সকলের ছোট ছিলাম্ সবাই সাহায্য করলো। তবে সবচেয়ে বেশী সাহ্য করেছেন দুজন ব্যক্তি একজন মরহুম আতিকুর রহমান টিটু ভাই (ওপারে ভালো থাকুন ভাই) অপরজন গুরু তোজ্জামেল আযম ভাই।লিখতে লিখতে ১ বছর কেটে গেলো। গুরু হঠাৎ একদিন একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে বললেন, পত্রিকায় পাঠিয়ে দাও।আমি বিজ্ঞাপনটি পাঠিয়ে দিলাম। বিজ্ঞাপন প্রকাশ হলো। এর পর আমার এক সিনিয়র সাংবাদিক বিজ্ঞাপনের বিল নিজের নামে করে এনে ঐ বিজ্ঞাপন দাতাকে বিল পরিষোধের জন্য চাপাচাপি করতে লাগলো। প্রতিষ্ঠানটি আমাকে ডেকে বিজ্ঞাপনের টাকা দিয়ে দিলেন। সেই সিনিয়র সাংবাদিক মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কাছে ঐ প্রতিষ্ঠনের নামে লিখিত অভিযোগ দিলেন। আমি টাকাটা নিয়ে ঢাকায় আলমুজ্জাদ্দে আফিসে গেলাম। বিজ্ঞাপন শাখায় দেখা করলাম।বিজ্ঞাপন বিভাগ বিজ্ঞাপনের ফাইল বের করে বললো আমার দেওয়া কোন বিজ্ঞাপন তারা ছাপেনি।আমার আক্কেল গুড়ুম। আমি বলেই ফেললাম আপনারাতো চিটার-বাটপার।আপনারা চোর, আপনাদের সম্পাদক সালা চোর।আরো আনেক কথা সেদিন বলেছিলাম। এসময় একজন বয়বৃদ্ধ ব্যক্তি আমার পাশে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি আমার কথাগুলি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। আমার কাছে এসে বললেন নামকি? আমার নাম বললাম।তিনি বললেন সম্পাদক সালাকে তুমি চিনো। আমি বললাম না। তুমিকি সম্পাদকে এভাবে বলতে পারবে? আমি বলম, পেলো হতো, উনাকে পাওয়া যাবে।তখন অফিসের অন্যরা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, তিনি ইশারায়র তাদের থামিয়ে দিলেন। আমাকে বললেন চলো সালার কাছে আগে যায়. তার পর তোমার সাহস দেখবো। আমাকে দামী কাঁচের ঘেরা একটি এসি রুমে নিয়েগেলেন তিনি। উনি একটি চেয়ার দেখিয়ে বললেন এখানো বসো, উনি আছেন। আমি দাড়িয়ে থাকলাম্।এবার বললেন বাঘ না বিড়াল তুমি? ভয়কি বসো। উনি দাড়িয়েই থাকলেন আমি বসলাম।একজনকে ডেকে নাস্তা দিতে বললেন। একটি মাটির মালসাই নাস্তা ও কাপে চা দেওয়া হলো। উনি বললেন খেয়ে নাও রাগ কমবে।আমি বললাম সম্পাদক?উনি বললেন তোমার সাথেই আছেন খেয়ে নাও।এবার আমি চমকে উঠলাম আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে পড়েছি।উনি মৃদ হেসে বললেন আমিই সালা।আমি কাঁপছি, থর থর করে আমার পা কাঁপছে। গা দিয়ে ঘাম ঝরেছে। উনি আভায় দিয়ে বললেন. বসো ভয় নেই।আমি বসলাম।কিছুক্ষন আমাকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিলেন উনি। তার পর আবার বললেন খবারটা খাও তার পর কথাবলো।ঝগড়া করার শক্তি পাবে। আমি খুব কস্টে কতক্ষনে খেয়ে ছিলাম জানিনা।খাওয়া শেষ হলে উনি আমাকে বললেন শান্ত হয়ে ধীরে ধীরে তোমার সমস্য খুলে বলো। আমি বললাম আমি একটা বিজ্ঞাপন পাঠিয়েছিলাম তা ছাপা হয়েছে।আমি টাকা দিতে এসেছি। উনারা বলছে বিজ্ঞাপনটি আমি দেইনি ওটা মেহেরপুরের আবুলায়েস লাবলু দিয়েছে।আমি আমার প্রমান স্বরুপ বিজ্ঞাপনের ফটো কপি, কুরিয়া সার্ভিসের ডকুমেন্ট দিলাম। তিনি সেগুলো দেখে বিজ্ঞাপন বিভাগকে ডেকে বিজ্ঞাপনের ফাইল আনতে বললেন। ফাইল আসলো বিজ্ঞাপনের নিচে যেখানে আমার নাম লিখা ছিলো সেই অংশটা ছিড়ে ফেলা হয়েছে তার ওপরে আবুলায়েসের নাম লেখা হয়েছে। তিনি জানতে চাইলেন বিজ্ঞাপনটি এভাবে ছিড়া কেন। বিজ্ঞাপন বিভাগ কোন সদুত্তর দিতে পারলোনা।বিজ্ঞাপনের টাকা নিয়ে আমার কমিশন বুঝিয়ে দিতে বললেন। বিজ্ঞাপন বিভাগে পুতুলের মতো তাই করলেন।এবার ডাক পড়লো মফস্বল সম্পাদকের। তিনি আসলো । তাকে জিজ্ঞাসা করলেন মেহেরপুর থেকে কেকে লিখে? 2 জনের নাম করলেন তিনি। এবার সম্পাদক মহদয় মফস্বল সম্পাদককে বললেন আমাকে মেহেরপুরের জেলা প্রতিনিধির কাড তখনই দিয়ে দিতে। আর বললেন আবুলায়েসের লেখা যেন আর কখনও ছাপা না হয়। তাকে এখানে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেন। আমাকে কাড দেওয়া হলো মেহেরপুরের জেলা প্রতিনিধি হিসাবে। শরু হলো জাতীয় পত্রিকায় পথচলা।(চলবে)

সর্বাধিক ক্লিক