যুক্তরাষ্ট্র সেইন্টমার্টিন দ্বীপে নৌ ঘাঁটি স্থাপনে হাসিনার উৎখাত চায়

ডিসেম্বর ৩০ ২০১৮, ০৪:০৫

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সেইন্টমার্টিন দ্বীপে নৌ ঘাঁটি স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে সবচাইতে বড় বাঁধা শেখ হাসিনা। আর সে কারণেই শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সুবির ভৌমিক এ কথা জানায়। সেখানে তিনি আরো জানান, বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে সিআইএ-এর ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন। আর তিনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন সেইন্টমার্টিন দ্বীপে চীন মুখী মার্কিন নৌ ঘাঁটি স্থাপনের স্বপ্ন কখনই পূরণ হবে না।

তিনি লিখেছেন, এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯১ সালে হওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ সেইন্টমার্টিন দ্বীপে সহায়তা প্রদানের নামে নৌ ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরিসংখ্যান করে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিজের উত্তরসূরিদের সেই পর্যবেক্ষণ ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে আলোচনার জন্য মিলার বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সাথে দেখা করতে এতটা মরিয়া। কিন্তু তার এই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচাইতে বড় বাঁধা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেননা তিনি পূর্বেও এমন প্রস্তাাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি চীন সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের প্রস্তাব দিলে সেটিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ধারণ করেন বলেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী প্রতিযোগিতার অংশ হতে চান না। আর সে কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পছন্দের তাবেদার সরকার বাংলাদেশে বসাতে এত কিছু করছে।

কিন্তু কিভাবে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র? এর উত্তর পাওয়া যায় সুবির ভৌমিকের লেখায়। তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরো একবার ব্যবহার করতে চাইছে এএনএফআরইএল সংস্থাটিকে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কম্বোডিয়ায় নির্বাচন বন্ধ করে নিজেদের পছন্দের সরকারকে ক্ষমতায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র। এই সংস্থাটির মাধ্যমেই থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কাজ করেছে।

নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি জানান, এএনএফআরইএল-কে সহায়তা করার জন্য সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আদিলুর রহমান তার সংগঠন ‘অধিকার’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছে যা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হচ্ছে এএনএফআরইএল-এর ওয়েব সাইটে। আদিলুর রহমান, যিনি জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি নিরপেক্ষ নয় বিষয়টি স্পষ্ট হবার পরও যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে ফেলার জন্য- এমনটা জানান সুবির ভৌমিক।

তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকিতে পরিচালিত হচ্ছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল) (প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়)। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সরকার ও নির্বাচন সংষ্টি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপে রেখে ক্ষমতায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল) তার ৩২ পর্যবেক্ষকের ভিসা প্রদানে দেরি হওয়া আওয়াজ তোলে। মিডিয়াকে ব্যবহার করে মিলার তার অ্যাম্বেসি স্টাফদের মাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশে।

২০১৪ সালে ড্যান মজিনাও একইভাবে হাসিনা সরকারকে চাপে রাখতে এবং উৎখাত করতে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন বয়কটের কথা বলেছিল। তাদের ধারণা ছিলো, পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে ১ মাসও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা কাজ করেনি। তাই বলে কি মিলাররা থেমে যাবেন? মোটেও নয়। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন প্রস্তুতি নিয়ে এবার মাঠে নেমেছেন ডেভিড মিলার।

২০১৬ সালে পশ্চিমা গবেষক টনি কার্তালুসসি এএনএফআরইএল-এর কার্যাবলীর পর্দা ফাঁস করে জানান, থাইল্যান্ডের গণভোটকে প্রভাবিত করতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ হিসেবে থাকা থাকসিন সিনাওয়ত্রেকে ক্ষমতায় রাখতে কাজ করে যায় প্রতিষ্ঠানটি। অথচ এ সময় থাইল্যান্ড দীর্ঘ রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল গণভোটের মাধ্যমে। কার্তালুসসি বলেন, সিনাওয়ত্রেকে ক্ষমতায় আনতে তখনকার থাইল্যান্ড সরকারকে অনবরত চাপ প্রয়োগ করে যায় যুক্তরাষ্ট্র। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে একইভাবে বাংলাদেশের হাসিনা সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরো লেখেন, এর মধ্যে রাজনৈতিক আন্দোলনে নিয়োজিত ফ্রন্টগুলির মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উপর পশ্চিমা একচেটিয়া কর্তৃত্ব খাটিয়ে নিজেদের অপছন্দের গোষ্ঠীকে ক্ষমতাশীল ও অন্যায়কারী হিসেবে তুলে ধরা হয়। (.যঃঃঢ়ং://লড়ঁৎহধষ-হবড়.ড়ৎম/২০১৬/০৭/৩০/ঃযধরষধহফ-ঁং-ভঁহফবফ-সড়হরঃড়ৎং-বীঢ়ড়ংবফ/)।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেভাবে পর্যবেক্ষকদের ভিসা না পাওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমে ঠিক তেমনিভাবে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট খবর প্রকাশ করে ব্যাংককের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ন্যাশন’। সেখানে বলা হয়, দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল) জানিয়েছে, বারবার পর্যবেক্ষণের জন্য অনুমতির কার্ড চেয়েও পাচ্ছে না তারা। সেখানে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর মতই ‘দ্য ন্যাশন’ উল্লেখ করেনি এই এএনএফআরইএল প্রতিষ্ঠানটি কে বা কারা পরিচালনা করে, এর অর্থায়ন কোথা থেকে আসে এবং কি উদ্দেশ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ এশিয়া জুরে তাদের ‘পর্যবেক্ষণ’ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য কী?

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে টনি কার্তালুসসি লিখেছেন, এই অঞ্চল থেকে কোন সহায়তা না নিয়ে, পর্যবেক্ষকদের এই সংগঠনগুলো তাদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে যারা ঐতিহাসিকভাবে এশিয়া ও এ অঞ্চলের মানুষকে শোসন করে গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন (স্থানীয় ও বিদেশী) ‘পর্যবেক্ষকেরা’ কাদের লক্ষ্য পূরণ করবে?

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সুবির ভৌমিক জানান, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভারতের পূর্বের রাজ্যগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার। এই আমেরিকা তার বন্ধু সৌদি আরবকে বাঁচাতে জামাল খাশোগী হত্যার মত চাঞ্চল্য কর ঘটনার পরও সৌদি যুবরাজকে সমর্থন করে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের এত আস্ফালন স্পষ্ট প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতে কতটা মরিয়া।

(সূত্র:দৈনিক জনকন্ঠ)



এ সংবাদটি 1548 বার পড়া হয়েছে.
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    31
    Shares



sylnewsbd.com

Facebook By Weblizar Powered By Weblizar

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২৪ খবর

………………………………….

বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত

....................................................................................... ..........................................

add area

Post Archive

January 2019
S S M T W T F
« Dec    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

সিলেট আরও