প্রচ্ছদ

সংরক্ষিত আসন দখলের লড়াইয়ে সিলেটে একাধিক নারি

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২

329

দেবব্রত রায় দিপন : সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে সরকারি দলে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই মনোনয়ন প্রত্যাশিরা কেন্দ্রের সাথে লবিং শুরু করেছেন। সংরক্ষিত আসনের জন্য তপশীল ঘোষণা করা না হলেও ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৩ ডজন প্রার্থী।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী একজন দলীয় সদস্য জানান, ধানমন্ডিস্থ কার্য্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার সর্বশেষ তারিখ ছিলো ২৬ জানুয়ারি।

সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত কোটায় দুটি আসন নির্ধারিত। দশম জাতিয় সংসদ নির্বাচনের পর এই দুটি আসন থেকে যথাক্রমে কেয়া চৌধুরী এবং শাহানা রব্বানী প্রতিনিধিত্ব করেন। এইবার এই দুটি আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৩ডজন প্রার্থী।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের তালিকায় রয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এডভোকেট শামসুন নাহার শাহানা রব্বানী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদিকা ব্যারিস্টার সীমা করিম, সিসিকের প্যানেল মেয়র ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহানা বেগম, দলের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডা.নাজরা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি’র সদস্য শিততুল মুনা (মুনা চৌধুরী), জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজনীন হোসেন, রুবী ফাতেমা ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমদ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মাধুরী গুন,মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান,১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য কবি সাবিনা আনোয়ার, জেলা পরিষদ সদস্য রওশন জেবীন রুবা, সাবেক সংসদ সদস্য সায়েরা মহসীন, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হোসনে আরা ওয়াহিদ, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জোহরা আলাউদ্দিন, কৃষিবিদ ফেরদৌসী আরা পারভিন, সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হোসনা হুদা, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, মোনতাকিন রিতু ও সুনামগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের সানজিদা আক্তার ডায়না, জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী নাজনীন আক্তার কনা, সাবেক কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন, সহ আরো অনেক প্রার্থী।

সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানান, অনেক প্রার্থীই সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারী সংরক্ষিত আসনের তপশিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, বিভাগের ৪ টি জেলা থেকে মোট কতোজন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ/জমাদান করেছেন , তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
দশম জাতিয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে কেয়া চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ থেকে এডভোকেট শাহানা রব্বানী দলীয়ভাবে মনোনীত হলেও এবার সিলেট থেকেই সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে – এমনটাই ধারণা করছেন অনেকেই।
তবে এবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের তালিকায় বেশিরভাগ প্রার্থীই দলীয়ভাবে অনেকটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে দলের দু:সময়ে এবং মাঠে ময়দানে সরব থেকে বারবার মুজিব আদর্শের জানান দিয়েছেন, সর্বাপেক্ষা প্রবীণ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেসা হক। বয়সকে বরাবরই তুচ্ছ জ্ঞাণ করে এখনও মাঠে সরব রয়েছেন এই নেত্রী।
মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরানও দলের জন্য এক নিবেদিত প্রাণ কর্মী। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় তিনি ছিলেন অগ্রগন্য।
দলের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমের সহধর্মীনি নাজনীন হোসেনও একইভাবে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন গেলো সংসদ নির্বাচনে। একইভাবে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে রুবী ফাতেমা ইসলামও বিগত দিনে মহিলাদের সংগঠিত করে দলীয় কার্যক্রম বেগবান করণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমদ গেলো সিসিক নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী বিজয়ে পুরোটা সময়ই ব্যস্থ ছিলেন।দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গভীর রাত পর্যন্ত উঠোন বৈঠক নিয়ে মাঠে সরব ছিলেন তিনি।
উইমেন্স চেম্বার সভানেত্রি স্বর্ণলতা রায়ের অবস্থানও অনেকটা পাকাপোক্ত। গৃহিনী থেকে আপন কর্মদক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র তিনি পরিচালক। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশ ভ্রমণ করেছন তিনি। বিভিন্ন দেশ সফর করে একজন সফল নারি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে প্রিয় নাম ডা. নাজরা চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকেই মাঠে থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় বিশেষ ভুমিকা পালন করেন।
মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর আনোয়ার আলাওর এর সহধর্মীনি মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের ১ম যুগ্ম সম্পাদক কবি সাবিনা আনোয়ার গেলো সংসদ সদস্য নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে বিরাট ভুমিকা পালন করেন। মুজিবাদর্শের একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে সরব তিনি।

জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের ১ম যুগ্ম সম্পাদক মাধুরী গুনও দলের পরিক্ষীত একজন ত্যাগী নেত্রী। সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের মিলনায়তন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা যুব মহিলালীগের সভানেত্রি ও কেন্দ্রীয় সদস্য নাজনীন আক্তার কনা ছাত্র জীবন থেকেই মুজিবাদর্শের লড়াকু সৈনিক হিসেবে সমধিক পরিচিত। নাজনীন আক্তার কনা সিসিকের দুই মেয়াদে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন মাঠ কাঁপানো কর্মী হিসেবে দলীয়ভাবে পরিচিত। জোট সরকারের আমল এবং সরকার বিরোধী সকল আন্দোলন সংগ্রামে অনেক নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন সাবেক এই কাউন্সিলর।

মন্তব্য জানতে চাইলে সিলেট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি কাউন্সিলর নাজনীন আক্তার কনা জানান, “দলের প্রয়োজনেই রাজপথেই সময় কাটিয়েছি। সেই ছাত্রজীবন থেকেই লক্ষ্যভ্রস্ট হইনি। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রি সবকিছু মূল্যায়নের মাধ্যমে আমার মনোনয়ন চুড়ান্ত করবেন।”
সাবেক কাউন্সিলর শামীমা স্বাধীন বলেন, “দলের প্রয়োজনেই মাঠে থেকেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি। শত নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন নিয়েও হাল ছাড়িনি। তিনি বলেন, শামীমারা দলের প্রয়োজনে লড়তে জানে, মরতে জানে। সুতরাং তাদেরকেই দলীয় স্বার্থে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান বলেন, দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি । তিনি বলেন, দলীয় সভানেত্রী সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে মনোনয়ন চুড়ান্ত করবেন। আশা করি-নেত্রী ত্যাগী দলীয় কর্মীদের যথাযথভাবেই মূল্যায়ন করবেন।
ডা. নাজরা চৌধুরী বলেন, “সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই। মুজিবাদর্শের রাজনীতি বুকে ধারণ করে কৈশোর বয়স থেকেই স্বপ্ন দেখি । এখন যৌবন যার,যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ট সময়। তাই সুযোগ এবং সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দেশবান্ধব আওয়ামী সরকারের কল্যাণের রাজনীতিতে সামিল হয়ে কিছু করতে চাই”।
মুনা চৌধুরীর স্বামী ইমরুল মহসিন। তিনি ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি উপসচিব হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন। মুনার বাবা শওকত হোসেন চৌধুরী এবং শ^শুড় জনাব মোহাম্মদ মহসিন দু’জনেই একাত্তরের রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা। ইমরুল মহসিন এর বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের মনতলা রেলওয়ে স্টেশনে সহকারি স্টেশন মাস্টার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং তিনি বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন। মুনার দেবর রিদওয়ানুল মহসিন টিপু বহরা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১১ সালে জামাত শিবিরের কতিপয় দুঃস্কৃতিকারীর হামলায় তার নিজ বাড়িতে নিহত হন।
মুনা চৌধুরী বলেন, পরিবারের রাজনৈতিক ত্যাগের ধারায় সৃষ্টিশীল কাজের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছি দেশবান্ধব রাজনীতিতে। মুজিবাদর্শের রাজনীতির হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কাঙ্খিত সোনার বাংলা বিনির্মানে জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগি হতে চাই।
মৌলভীবাজার জেলা থেকে মোট কতোজন মহিলা সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক
মিছবাহুর রহমান বলেন, কেউ তো আমাদের অবগত করে ফরম সংগ্রহ করেনি, তাই এর সঠিক তথ্যটি বলা সম্ভবপর নয়।
একই প্রশ্নের জবাবে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন জানান, সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে মনোনয়ন সংগ্রহকারীদের সংখ্যা ৫/ ৬ জনের বেশি হবেনা।

0Shares

সর্বাধিক ক্লিক