প্রচ্ছদ

সাংবাদিক যখন আমি

০৬ মে ২০১৯, ০৯:০৩

sylnewsbd.com

মাহবুবুল হক :: ১লা বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ। দিনটি আমার মনে আছে, প্রথম ক্যামেরা ধরে ছিলাম সাংবাদিক হিসাবে। বেশ কছু ছবি তুলে ছিলাম। মেহেরপুরের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ ও ছবি দিয়েছিলাম। সংবাদটি ছাপা হয়নি। সম্পাদক মহদয়ের কাছে পরের দিন গেলাম। আমাকে উনি বসতে না বলে, বললেন তুমি ১ লা বৈশাখের ছবি তুলেছো? আমি বললাম জি। তিনি আমাকে বললেন কেন? আমি বললাম সাংবাদের জন্য। তিনি আমাকে বললেন কার হুকুমে ছবি তুলেছো। আমি বললাম কাউরির হুকমতো নিয়নি। তিনি বললেন বেয়াদব কিসের সংবাদিক। কে সাংবাদিক করেছে। তুই সাংবাদিকতার পরিচয় দিস, এতবড় সাহস। মনটা খারাপ করে চলে এলাম। তার পরেরদিন দৈনিক আযম আফিসে গেলাম। সালাম দিয়ে বললাম সম্পাদক সাহেবের সাথে একটু দেখা করতে চাই। তখন আমি তোজাম্মেল আযম, ভাইকে চিনতামনা। আযম ভাই হেসে বললেন কি সমস্যা বলো। আমি বললাম সম্পাদককে বলবো। তিনি বললেন আমাকে বলো আমি সম্পাদককে বলবো। আমি তখন ভয়ে ভয়ে বললাম সাংবাদিকতা করতে চাই আমি। আযম পত্রিকায় লিখতে চাই। তিনি বললেন আজ থেকেই লেখা শুরুর করো। পরের দিন আমি একটা লেখা নিয়ে গেলাম আবার সেই আযম ভাই, আর কাউকে দেখিনা। উনাকে লেখাটা দিলাম। আমার মনে আছে লেখাটা নিয়ে উনি রেখে দিলেন। আমি কোন প্রশ্ন না করলেও আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো এভাবে রেখেদিলেন। তাহলেকি লেখা হয়নি। আবার তাড়িয়ে দেবে? উনি বললেন বসো। অস্থির মন বসতে দিলোনা। আমি না বসে চলে আসলাম। সেই রাতে আর ঘুম হলোনা। পরের দিন সকালে আযম আফিসে হাজির হলাম। আমার হাতে সেই দিনকার পত্রিকাটা দিয়ে বললেন পড়ো। আমি হাতে নিয়ে আমার সংবাদটা খুঁজতে লাগলাম। সংবাদটা পেলাম‘মেহেরপুর বিএম স্কুলে মা সমাবেশ’। সংবাদটা পেছনের পাতায় বক্সকরে ছেপেছে। আমার জীবনের প্রথম সংবাদ ছাপা আক্ষরে পত্রিকায়। ভাই বললেন চা খাবা আমি কি বলেছিলাম আজ আর মনে নেই। তবে চা খেয়েছিলাম। নতুন ভাবে পরিচয় হলো প্রাধান সম্পাদক ও প্রকাশক তোজাম্মেল আযম ভাই, সম্পাদক আশরাফুল ভাই, স্টাফ রিপোর্টার মিজান ভাই এর সাথে। সেদিন যদি ‘তুই সাংবাদিকতার পরিচয় দিস’ কথাটা না শুনতাম তাহলে হয়তো দৈনিক আযমে যেতামনা আর আজকের আমিও হতে পারতামনা। একজন দুদর দুর করে তাড়িয়ে দিয়ে আশির্বাদ করেছে। আপরজন কাছে টেনেনিয়ে ভালোবাসার স্নেহের পরশে আশির্বাদ বিলিয়েছেন। আসলে সব দেবতার আশিবাদতো একনয়। (চলবে)

সর্বাধিক ক্লিক