প্রচ্ছদ

সিলেটের ডিজিটাল চাঁদাবাজীতে তৎপর মোল্লা খলিল ! (অডিওসহ)

১২ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৯

sylnewsbd.com

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উপাধি মাওলানা। শিক্ষকতা করেছেন মাদ্রাসায়। আরবী মুসলা দিতে গিয়েও তিনি সিদ্ধহস্থ। তবে , এই মাওলানা পরিচয় দিয়ে যথেষ্ট শারীরিক ও আর্থিকভাবে হৃষ্টপুষ্ট হলেও মাওলানার অবয়ব বরাবরই এই ব্যক্তির মধ্যে অনুপস্থিত। তিনি মাওলানা খলিলুর রহমান। সিলেটে মোল্লা খলিল নামে তিনি সমধিক পরিচিত। সিলেটের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করেছেন বলে বেড়ান তিনি। আবার সাংবাদিকদের সংগঠন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তথ্য সন্ত্রাসের দায়ে তিনি বহিস্কৃত হন।

কোথায় কবে তিনি টাইটেল পাশ করেছেন, কিংবা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন-সিলেটের মানুষ না জানলেও মোল্লা খলিলের কাছে প্রতিদিন ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। পিছনে কারণ একটাই-তিনি প্রতারণা এবং জালিয়াতির বিষয় সম্পর্কে জানার ক্ষমতা বেশি রাখেন। তাই কারো বিরোদ্ধে প্রতারণা কিংবা জালিয়াতি মামলা করতে গেলেই অনেকের ভরসাস্থল সিলেটের ভয়ংকর মোল্লা খলিল । প্রতারণা এবং জাল নাটক তৈরি করে দেওয়ার মধ্য দিয়েই মোল্লা খলিল হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। আবার যারা এই প্রতারণার সংবাদ কিংবা অভিযোগ লিখতে আসেন, তাদেরকে পরবর্তীতে ফাসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
মাওলানা হলেও (স্বঘোষিত) নৈতিকতা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজ ছেলে এবং মেয়েকে বিদেশ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন-এমনটি দাবি করেছেন মোল্লা খলিলের মাধ্যমে নির্যাতিত যারা।

পোষাক পরিচ্ছদে তিনি একজন আধুনিক এবং নিজেকে বিভিন্নজনের কাছে স্মার্ট পরিচয় দিয়ে বেড়ান।

অন্যের ঠিকা দ্রুত বাস্তবায়ন করার গুণ হিসেবে তিনি অনেকের কাছে ডিজিটাল সন্ত্রাসী বা মোল্লা খলিল নামেও ব্যপক পরিচিতি লাভ করেন।

চাঁদাবাজিতেও সমান পারদর্শী ভয়ংকর এই মোল্লা খলিল। মোল্লা খলিলের চাহিদা না মেটালে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্দীষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রদান করে সামজিকভাবে হেয় করার প্রয়াস চালান। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ ফটোগ্রাফার ও সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও বাংলাদেশ ফটো জার্ণালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সিলেট বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুল কবির পাভেলের কাছে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রদান করে সামাজিকভাবে হেয় করেন। সাংবাদিক পাভেল এ ঘটনায় চলতি বছরের ৫ মার্চ কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক পাভেল মোল্লা খলিলের বিরোদ্ধে ৯ মার্চ র‌্যাপিড এ্যকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক বরাবরে তথ্য প্রমান উপস্থাপন পূর্বক দ্রুত আইনানুগ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দুটি প্রতিষ্ঠানই এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্তে রয়েছেন। এছাড়াও পাভেল চলতি বছরের ২ এবং ৩ এপ্রিল এসএমপি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন-যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এই অভিযোগ শুধু পাভেলের নয়, মোল্লা খলিলের প্রতারণার শিকার হওয়া অনেক ভুক্তভোগীর দাবি-দুস্কৃতিকারী এই মাওলানাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

পাঠকদের জন্য সিলনিউজ বিডি মোল্লা খলিলের অডিও বক্তব্য ৬৭ মিনিটের মধ্যে ১৩ মিনিটের বক্তব্য তুলে ধরলো।

539Shares

সর্বাধিক ক্লিক