প্রচ্ছদ

ষড়যন্ত্রকারীরা হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে পারবে না
সিলেট জেলা হাসপাতাল নির্মাণ হবেই : সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত

১৪ মার্চ ২০১৯, ১৪:০৭

sylnewsbd.com

আল মুক্তাকিম কবির সোহান : সিলেটে পরিত্যক্ত আবুসিনা ছাত্রাবাসের স্থলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মানের ব্যাপারে মুখ খুললেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ।

অর্থমন্ত্রী বলেন ১৯৩৬ সালে যেখানে হাসপাতাল ছিল।সেই হাসপাতাল টি ই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল নির্মান করছে সরকার । এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট বিভাগের সর্ব স্তরের মানুষের সু-চিকিৎসা এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই উদ্দোগ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার।

সুতরাং আজকে যারা আবুসিনা ছাত্রাবাসকে সংরক্ষণের দাবি তুলে হাসপাতাল নির্মাণ বানচাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি বলেন যেকোনো মূল্যে এখানে হাসপাতাল নির্মাণ হবে এবং এটাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে এরই ধারাবাহিকতায় ২৫০ সজ্জা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন হাসপাতালের নিমান কাজ শুরু হয়েছে হাসপাতাল হবেই হবে।

এটা নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশফাক আহমদের নির্বাচনী গণসংযোগে খাদিমনগর ইউনিয়নের বড়শালা নতুনবাজারে সমাবেশ শেষে সাংবাদকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, আবুসিনা ছাত্রাবাসকে বিভাগীয় মিউজিয়াম গড়ে তোলার দাবি জানালো সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট নামের একটি সংগঠন। বুধবার আবুসিনা ছাত্রাবাস বহাল রাখার দাবি এবং জেলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মানের প্রতিবাদে এই সংঘঠন মানব বন্ধন চালিয়ে গেলেও বুধবার বোল পাল্টিয়ে মিউজিয়াম বানানোর দাবি তুলেছে সংগঠনটি। বুধবার ৫ টা থেকে পরিত্যক্ত আবু সিনা ছাত্রাবাসের সামনে সংগঠনটির অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তাছাড়া, জেলা হাসপাতাল নির্মানের সরকারি সিদ্বান্তটিকেও স্বাগত জানান তারা।

সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় আসাম প্যাটার্নের ‘ইউ’ আকৃতির একটি একতলা ভবন। দেখলেই মনে হয় পুরনো জমিদার বাড়ি। সম্প্রতি প্রাচীন এই ভবনটি এই প্রজন্মের নগরবাসীর কাছে ‘আবু সিনা ছাত্রাবাস’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধসহ আর বহু ইতিহাসের সাক্ষী পুরনো এই ভবনটি সম্প্রতি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই ভবন ভেঙ্গে নির্মাণ করা হচ্ছে আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল। ইতিমধ্যে ভবনের একাংশ ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অপর একটি পক্ষ পরিত্যাক্ত ছাত্রাবাসের স্থলে মিউজিয়ামের দাবি তোলে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

গেলো মঙ্গলবার সরকারি সিদ্বান্তের বিরোধিতা করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল অন্য স্থানে নির্মানের দাবি জানিয়ে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তাদের দাবি ১৮৭৬ সালে সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’ প্রকাশিত হয় এই ভবন থেকেই। পরে ১৯৩৬ সালে এ বাড়িতে মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ছোট পরিসরে একটি হাসপাতাল চালু করা হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এ হাসপাতালের বর্ধিতাংশে বার্মা-ইংরেজ সৈনিকদের চিকিৎসা দানের লক্ষ্যে মিলিটারি হাসপাতাল চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে এ ভবনে মেডিকেল শিক্ষাদানের জন্য নির্মাণ করা হয় ‘লাইসেন্সড মেডিকেল ফ্যাকাল্টি’ (এলএমএফ)। ১৯৬২ সালে এটিকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৪৮ সালে এ ভবনের দেয়াল নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাড়িটি রক্ষা পায়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৮-৭৯ সালে হাসপাতালটি কাজলহাওরে পরিপূর্ণভাবে স্থানান্তরিত হলে ভবনটি ‘আবু সিনা ছাত্রাবাস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

জানাগেছে, অপর পক্ষের দাবি-প্রায় দুই বছর যাবত এই ছাত্রাবাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা বলেন, সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবী পূরণে কাজ করেছেন বর্তমান সরকার। জন-মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় নিশ্চিত করতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের পাশাপাশি নির্মিত হচ্ছে জেলা হাসপাতাল। এই হাসপাতালে সমাজের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সিলেটের সাধারণ মানুষ। সিলেটের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মোহিত সদর উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট শাহপরাণ(র:) হাসপাতাল, খাদিমপাড়া, কান্দিগাঁও ও হাটখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মানের মধ্য দিয়ে গোটা সিলেটের স্বাস্থ্যখাতের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাছাড়া, জেলা হাসপাতাল নির্মানের মাধ্যমে নগরবাসী ও জেলার সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত লোকদের চিকিৎসাসেবার নিশ্চয়তায় গুরুত্বারোপ করেন। এরই অংশ হিসেবে সিলেটের পরিত্যক্ত আবুসিনা ছাত্রাবাসকে ভেঙ্গে একই স্থানে জেলা হাসপাতাল নির্মানের ঘোষণা আসে। কিন্তু ঘোষণার পর আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন এমনকি সিলেটের সুশীল সমাজ থেকে হাসপাতাল নির্মানের পক্ষের দাবি-বেসরকারী হাসপাতালকে সুযোগ-সুবিধা দিতে একটি কুচক্রিমহলকে দিয়ে হাসপাতাল নির্মান কাজ বাধাগ্রাস্থ করতে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে মদদ প্রদান করা হচ্ছে। তারা বলেন, ৪ মাস পূর্বে যখন এই স্থানে হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু করা হয়, তখন আন্দোলনকারীদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ওই পক্ষে দাবি-সিলেটবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। আওয়ামী সরকার সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে সমগ্র দেশব্যাপী কমিনিউটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন। চিকিৎসা সেবা দিতে রিতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে সিলেট বিভাগের একমাত্র হাসপাতাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এ ব্যাপারে জাগো সিলেট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো বলেন, আবুসিনা ছাত্রাবাস থেকে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। এখানে মারা যায়নি কোনো মুক্তিযোদ্ধা। শুধুমাত্র একটি পত্রিকার প্রকাশনার অজুহাত তোলে মিউজিয়ামের দাবি উঠানো এক ধরনের গুয়ার্তুমি। তাছাড়া, আন্দোলনকারীদের কারণে হাসপাতাল নির্মান বন্ধ করা হলে জাগো সিলেট গোটা সিলেটের কোটি মানুষকে নিয়ে আবারো রাজপথে হাজির হবে। যে আন্দোলনের অগ্নিদাহ থেকে কুচক্রিরা রক্ষা পাবেনা। তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সিলেটে একটি বিভাগীয় মিউজিয়ামের ঘোষণা দিয়েছেন ২০১২ সালে। আজ অর্থমন্ত্রীর সুযোগ্য ছোট ভাই পররাস্ট্রমন্ত্রী আবুল মোমেন সেই মিউজিয়ামের বাস্তবায়ন ঘটাবেন-এই বিশ্বাস সিলেটবাসীর।

মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী প্রথমেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সদরের আশপাশ চারটি এলাকায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করেছেন। কিন্তু গোটা জেলার স্বাস্থ্য সেবায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিমশিম খাচ্ছে। সেই অবস্থার পরিত্রাণে এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণে জেলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মানের বিকল্প নেই। তিনি আবুসিনা ছাত্রাবাসের স্থলেই এই হাসপাতাল নির্মানের দাবি তোলেন।
সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেটবাসী দীর্ঘদিন থেকে অভিভাবক শুণ্য। তাই সিলেট নগরীতে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মান হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই স্থানে হাসপাতাল চাইনা, মিউজিয়াম চাই ’।
এ বিষয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন সেভ দ্য হেরিটেজ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর আব্দুল হাই আল-হাদি জেলা হাসপাতাল নির্মানে সিলেটবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমরাও হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই, যেহেতু আবুসিনা ছাত্রাবাস অনেক পুরাকীর্তির স্মৃতি বহন করে , অতএব, এইস্থানে হাসপাতালের পাশাপাশি মিউজিয়ামের জন্য একটু স্থান রাখা দরকার ’।
বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর করিম কিম বলেন, ‘আবুসিনা ছাত্রাবাসেই সিলেটের বিভাগীয় মিউজিয়াম নির্মান হোক। জেলা হাসাপতাল অন্য কোনো স্থানে নির্মান করা হলে আমাদের তাতে কোনো বাধা থাকবেনা’।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    47
    Shares

সর্বাধিক ক্লিক