প্রচ্ছদ

হে আল্লাহ! দয়া করুন

১৩ জুলাই ২০১৯, ০২:৩২

sylnewsbd.com

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী :; আঁধার যখন আলোকে ঢেকে ফেলে তখন অন্ধকারে ছেয়ে যায় সব। দিন আর রাতের কোনো পার্থক্য বোঝা যায় না। রাতের আঁধারে লুকিয়ে যে কাজ করতে হয়, সে কাজ যখন দিনের ঝলমলে আলোয় মানুষ করে, তখনই বুঝতে হবে সবকিছু অন্ধকারের দখলে চলে গেছে। খ্যাদ্যে বিষ মেশানো, মানুষ ঠকানো, ব্যবসার নামে ডাকাতি করা, সুদ-ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসবসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা নির্লজ্জের মতো এ দেশের মানুষ করছে না। আফসোস! বহু অনিয়ম এ দেশে নিয়ম হয়ে গেছে। বহু বেআইনি কাজ মানুষ আইন ভেবে করে যাচ্ছে। যুগে যুগে যখনই একটি জাতি এভাবে বেআইনকে আইন বানিয়ে নিয়েছে, আঁধারে ঢোকার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তখনই আল্লাহর আজাব তাদের চোখের পলকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

সূরা আরাফে আল্লাহ বান্দাকে হুঁশিয়ার করে বলছেন, ‘হে মানুষ! জেনে রাখো, অনেক অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারী জাতিকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আমার আজাব তাদের ওপর হামলে পড়েছে গভীর রাতে যখন তারা নিবিড় ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। কিংবা দুপুরের খাবারের পর যখন নিশ্চিন্ত মনে তারা বিশ্রাম করছিল। যখনই আমার আজাব তারা চোখে দেখল তখন তাদের মুখ ফুটে শুধু একটি কথাই বেরিয়েছিল, হায়! আমরা তো চরম অত্যাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।’ সূরা আরাফ, আয়াত ৪-৫। পাঠক! আয়াত থেকে সহজেই বোঝা যায়, আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন, তখন ওই জাতি এটা বলে না, আমরা খুব ভালো ছিলাম তাহলে কেন আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করলেন? তারা এও বলে না, আমরা অল্পবিস্তর খারাপ কাজ করি, কিন্তু একেবারে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো কোনো গুনাহ তো আমরা করিনি। বরং তারা সবাই এটাই বলেছে, হায়! সত্যিই আমরা বড় অত্যাচারী ছিলাম। বড় সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।
আজকে দেশের দিকে তাকান। প্রতিটি মানুষ এ কথা স্বীকার করছে, অন্যায়-জুলুম, দুর্নীতি, ঠকবাজিতে আমরা পৃথিবীর সব জাতিকে ছাড়িয়ে গেছি। শুধু কি তাই, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আমরা প্রথম দিকে আছি। যে যেভাবে পারছি আলো ছেড়ে অন্ধকারে চলছি। এ কথাই তো কোরআনে বলা হয়েছে। মানুষ তার মুখে স্বীকার করবে সে অপরাধের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে গেছে। সে শাস্তির যোগ্য। এমন সময় হঠাৎ দুর্যোগ-মহামারী চলে আসবে। আর পুরো জাতি একসঙ্গে আর্তচিৎকার করে বলে উঠবে, হ্যাঁ এ শাস্তিই আমাদের প্রাপ্য ছিল। একটি জাতি কখন আজাবের উপযুক্ত হয়ে পড়ে সে কথা খুব স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। ডাক্তার যেমন উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করে, বলে দেয় রোগী আর বেশি দিন বাঁচবে না, তেমনি আল্লাহও একটি জাতির মরণব্যাধি ক্যান্সারের উপসর্গ এভাবে বলছেন, আমার প্রাকৃতিক আইনে একটি জাতি তখনই ধ্বংসের দুয়ারে এসে দাঁড়ায় যখন তারা আলো ছেড়ে কালোর রাজত্ব শুরু করে। যখন প্রভাবশালীরা হয় অন্যায় কাজে সেরা। যখন সৎকাজের কোনো সামাজিক মর্যাদা মানুষ দেয় না, সৎপথে মানুষ চলে না, অন্যায়-অনাচার-দুর্নীতিতে তারা হয় চ্যাম্পিয়ন; তখন আল্লাহর আজাব তাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। হজরত নুহ (আ.)-এর পর এভাবে কত যে পাপাচারী জাতিকে প্রভু নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান শুধু হয়তো প্রভুই জানেন। সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১৬-১৭।

কিন্তু হায়! অর্থের লোভ, বড়ত্বের লোভ থেকে কি বেরিয়ে আসতে পারব আমরা? মানবজাতির মানসিকতা সম্পর্কে কোরআন এভাবে বলছে, ‘ধ্বংস হয়ে কবরে না যাওয়া পর্যন্ত তোমাদের লোভ শেষ হবে না।’ সূরা তাকাসুর, আয়াত ১-২। হে আল্লাহ! ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার মিনতি করছি, দয়া করে আমাদের প্রতি দয়া করুন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি
সেওজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক ক্লিক