প্রচ্ছদ

৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে মোস্তফা সেলিমের সঙ্গে ছিল অন্তরঙ্গ আড্ডা

১২ জুন ২০১৯, ০১:৫৩

sylnewsbd.com

আবিদ ফায়সাল ::  ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে মোস্তফা সেলিমের সঙ্গে ছিল অন্তরঙ্গ আড্ডা। আড্ডান্তে সারদা হলের গেটে কবি তুষার কর, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, পুলিন রায় আর আমাকে দাঁড়ানো দেখে ধ্রুব গৌতম বললেন, চলেন কোথাও চা খাবো। পুলিনদা সম্মতি দিলেন। তুষারদাও অরাজি নন। আমি আর বিধুদা তাঁদের অনুসরণ করলাম। পাশেই সুরমা মার্কেট। প্রচণ্ড গরম পড়েছে। একটা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁর কক্ষে নিয়ে উঠলেন ধ্রুবদা। হয়ত এমন পরিকল্পনা আগেই করে রেখেছিলেন। চানাস্তার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে আঁচ করি। তিনি কাউকে টাকা দিতে দেননি। হোটেল বয়ও অন্যের টাকা নেয়নি। গরমে শীতল পরিবেশ পেয়ে এটা সেটা প্রশ্নের ছুতো ধরে তুষার কর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন। তাঁর বন্ধুতার, ঘনিষ্ঠতার স্মৃতি। কবি শামসুর রাহমান ও কবি দিলওয়ারের সঙ্গে ছিল তাঁর সৌহার্দ্যসম্পর্ক। দহরম-মহরম পর্যায়ের। ১৯৬৪ সালে তিনি সিলেটের রাজা জি সি হাইস্কুলে পড়তেন। তাঁরা তখন দিলওয়ার রচিত একটি গান সমবেত কণ্ঠে গাইতেন। গানটি এরকম : মহতী আলোর দীপ্ত মশাল / রাজা জি সি হাইস্কুল / ফোটায় জ্ঞানী পদ্মফুল। এই গানকে ক্ষেত্র করে তিনি ছিলেন দিলওয়ারগ্রস্ত। তাঁকে দেখার একটা আকুল আগ্রহ মনে জাগ্রত ছিল। এবং আচমকা একদিন কবির সাক্ষাৎ পেয়েও গেলেন। দিলওয়ার একটি সাইকেল চালিয়ে কিনব্রিজ দিয়ে শহরে প্রবেশ করছিলেন। এই ব্রিজেই তাঁর সঙ্গে প্রথম মোলাকাত। তার পর দীর্ঘপথ চলা শুরু হয়। সমস্বরে যোগ দেন তুষারদা। এই সূত্রে যৌবনের কবিসত্তা আর যুদ্ধের আমল নিয়ে কথা বলেন। একাত্তরে আকাশবাণী থেকে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কবি দিলওয়ারের যে কবিতাটি আবৃত্তি করতেন, তুষার কর তা পাঠিয়েছিলেন। দিলওয়ারও একই খামে ভরে তাঁর কবিতার সঙ্গে তুষার করের ছড়া-কবিতা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পাঠাতেন। মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর সতত চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। আর কবিতা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে আয়ুধ। সাহিত্যচর্চায় ও জীবনযাপনে তাঁর একটা স্বকীয় নৈতিক চরিত্র তিনি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি নির্মোহভাবেই যে-কাউকে চাওয়ামাত্র তাৎক্ষণিক ছড়া-কবিতা লিখে দিতেন। তুষার করের কবুলতি, এমন বিরল শক্তির অধিকারী কবি সচরাচর দেখা যায় না।

শামসুর রাহমান বাংলাভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ছিলেন রুচিতে ও প্রীতিতে অনন্য। তাঁর সঙ্গে ছিল তুষার করের হার্দিক সম্পর্ক। তিনি ছাড়া তুষারের বিরূপ শহর ঢাকা। কবির বাসভবনই ছিল তাঁর একটা ঠিকানা। নিয়মিত যোগাযোগ হত তাঁর সঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের। সিলেটে যখনই এসেছেন দিলওয়ারকে দেখার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। একবার তিনি তুষার করকে নিয়ে খান মঞ্জিলে যাবেন, বেবিটেক্সিতে পা রাখবেন, এমন সময় একজন বললেন, কবি ত আপনার ওপর খ্যাপে আছেন। কথা শুনে শামসুর রাহমান বললেন, তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয়, অনুজ। খ্যাপার কথা নয়! তুষার করকে বললেন, না যাব না। যদি দিলওয়ারের স্নায়ুজনিত কষ্ট হয়।
তুষার কর বলেন, এ দুই কবির মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক। অযোগাযোগের কারণ আমার জানা নেই। শামসুর রাহমান যেমন ছিলেন, ‘নিঃসঙ্গ শেরপা ‘, দিলওয়ারও ছিলেন স্বকালে নিঃসঙ্গ। তাঁদের মাপের কবির বড়ো অভাব।
সিলেট, ১০ জুন ২০১৯

সর্বাধিক ক্লিক