অগ্নিঝরা মার্চ : ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া কোথাও পাকিস্তানি শাসন ছিল না

প্রকাশিত: ৯:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২১

অগ্নিঝরা মার্চ : ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া কোথাও পাকিস্তানি শাসন ছিল না

অনলাইন ডেস্ক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে শেকল ছেঁড়ার অদম্য নেশায় দুরন্ত দুর্বার হয়ে ওঠে বীর বাঙালি।

প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, বিদ্রোহ, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। ছাত্র-জনতার সঙ্গে পেশাজীবীরাও রাজপথে নেমে আসে। লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পূর্ব বাংলার শাসক।

১৯৭১ সালের মার্চের ১২তম দিনে এসে ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ করলে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তানে শাসনব্যবস্থা বলে কিছুই ছিল না। ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া বাংলাদেশের সবকিছু পরিচালিত হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে।

সরকারি, আধা-সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থল বর্জন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা, সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসগৃহ ও যানবাহনে কালো পতাকা ওড়ানো অব্যাহত থাকে। ভেতরে ভেতরে বাঙালি প্রস্তুতও হতে থাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য। লক্ষ্য একটাই-স্বাধীনতা। কারণ ততদিনে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, পশ্চিম পাকিস্তানি বেনিয়া দুর্বৃত্ত শোষকগোষ্ঠী বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার কোনোদিনই দেবে না। তাই তাদের বিরুদ্ধে শুধু সংগ্রাম, মিছিল-সমাবেশই নয়, করতে হবে চূড়ান্ত লড়াই।

লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে গণ-ঐক্য আন্দোলনের প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, দোষ করা হলো লাহোরে; কিন্তু বুলেট বর্ষিত হলো ঢাকায়। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলের জনসাধারণ সমান অধিকার নিয়ে থাকতে চায়, পশ্চিমাঞ্চলের দাস হিসাবে নয়। পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য একটিমাত্র পথ খোলা রয়েছে। আর তা হচ্ছে-শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। লাহোরে ন্যাপের মহাসচিব সিআর আসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান সংকটের জন্য একচেটিয়া পুঁজিপতি ও আমলারাই দায়ী। ভুট্টোও এ ব্যাপারে নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ভুট্টোর হুমকিপূর্ণ মনোভাব ও ক্ষমতার লিপ্সাই রাজনৈতিক সংকটকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। জাতীয় পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত খেতাব বর্জন করেন।

এদিন রাওয়ালপিন্ডিতে এক সরকারি ঘোষণায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের নির্ধারিত সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ, খেতাব বিতরণ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।

ময়মনসিংহে এক জনসভায় ন্যাপ প্রধান আবদুল হামিদ খান ভাসানী সাত কোটি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমি জানি শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। আপনারা শেখ মুজিবের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন। প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের জন্য প্রেরিত খাদ্যবোঝাই মার্কিন জাহাজের গতি বদলে করাচি প্রেরণের ঘটনায় উৎকণ্ঠা ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বল প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ নিষ্ফল ও বিপজ্জনক হবে।

এদিন সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে সারা আলীর তোপখানা রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত মহিলা পরিষদের এক সভায় পাড়ায় পাড়ায় মহিলা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ