অজানা পথে-৩৫: সিলেটে ছাত্র শিবিরের হায়েনাদের যত হত্যাকান্ড

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

অজানা পথে-৩৫: সিলেটে ছাত্র শিবিরের হায়েনাদের যত হত্যাকান্ড

লতিফ নুতন :; সিলেটে ছাত্র শিবিরের হায়েনাদের হত্যাকান্ড আজও মনে হলে আকাশ পাতাল কাঁপে। তাদের বর্বরতা আজও অনেক মা কাঁদে। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের হায়েনারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে। তবে তাদের আত্নগোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সিলেটে ছাত্রশিবির যতটি হত্যাকান্ড করেছে ৭১ সালের ববর্বরতাকে হার মানিয়েছে। বেশির ভাগ সিলেটে প্রগতিশীল নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে। সিলেটে শিবিরের খুনের রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। ওইদিন প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের তিন কর্মী,জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মুনির, তপন ও জুয়েল শিবিরের হামলায় প্রাণ হারায়।

এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর সিলেটে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে নেয় শিবির। তিন তরুনকে হত্যার তিন যুগ পেরিয়ে গেলোও এখনো শাস্তির মুখোমুখি হয়নি হত্যাকারীদের। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৪ মে শিবির ক্যাডাররা খুন করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ডা. সৌমিত্র বিশ্বাসকে। এরপর একের পর এক এক হত্যাকান্ড চালিয়ে যায়। ২০০২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর খুন করে মদন মোহন কলেজের ছাত্রদল নেতা হামিদ খান দোয়েলকে। ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট শিবির ক্যাডাররা খুন করে সিলেট ভেটেরিনারি কলেজ (বর্তমান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)-এর ছাত্রদল নেতা রফিকুল হাসান সোহাগকে। এইসময়ে শিবিরের হামলায় আহত হন প্রায় শতাধিক ছাত্রনেতা।

শিবির ক্যাডারদের হাতে ছাত্রদল নেতা দোয়েল খুন হওয়ার পর দোয়েলের লাশ দাফনের পূর্বেই আপোষ করে বসে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। সিলেটে জামায়াত শিবিরেরই আগ্রাসাষনের শুরু স্বৈরাচার এরশাদ শাসনামলে। নব্বইয়ের দশকে। আরও স্পষ্ট করে বললে ১৯৮৭-৮৮ সালে। এসময় তিন ছাত্র নেতাকে খুন করে শিবির। এরপর নিয়মিতই শিবিরের খুনে রাজনীতির বলি হতে হয়েছে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কর্মীকে। এমনকি বিএনপির সাথে জোট করে ক্ষমতায় থাকাকালে খোদ ছাত্রদলের দুই নেতাকে খুন করে শিবির ক্যাডাররা।

প্রশাসনের মদদ পেয়ে ১৯৮৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেটে তান্ডব চালায় শিবির ক্যাডাররা। ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা খসরুজ্জামান খসরু উপর হামলা চালায় শিবির ক্যাডাররা। সেদিন শিবির ক্যাডাররা খসরুজ্জামান খসরুকে ছাত্রী কমন রুমের বাথ রুমের ভেতর আটকিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মৃত ভেবে খসরুজ্জামান ফেলে রেখে যায় ক্যাডাররা। এদিন শিবির ক্যাডাররা কলেজ শিক্ষিকা ও ছাত্রীদেরও লাঞ্ছিত করে। এরপর ৮, ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে শহরময় আতংক সৃষ্টি করে শিবির। তৎকালীন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে অস্ত্র হাতে শহরময় কাপিঁয়ে বেড়ায় শিবির ক্যাডাররা।

১৮ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে শিবির ক্যাডাররা আবার হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর। ১৯ ও ২০ তারিখে এমসি কলেজে ছাত্রলীগকে ঢুকতেই দেয় নি শিবির। সিলেট সরকারী কলেজ ও মদন মোহন কলেজেও এ কয়দিনে তান্ডব চালায় শিবির ক্যাডাররা। বন্ধ করে দেয়া হয় সিলেটের সবগুলো কলেজ। আজ শিবির ক্যাডাররা আত্নগোপন করেছে। স্বাধিনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের তান্ডবে ৯০ দশক ছিল আতংকিত। সিলেটের সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্তাক্ত করেছে। তাদের হাত থেকে তাদের মিত্র বিএনপি ছাত্রদলের কর্মীরাও রেহাই পায়নি। আমি তখন সিলেট সরকারী কলেজের ছাত্রলীগের কর্মী। মাত্র কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র শিবিরের তান্ডব মনে হলে বুকে কাঁপন ধরে। আজ যুদ্ধাপরাধি জামায়াত-শিবিরের ৭১ এর খুনীদের মানবাধিকতা বিরোধী অপরাধে বিচার হয়েছে। আরো হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রহরী আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতায়। আল বদর রাজাকারদের বিচার হচ্ছে। বিচার আরো হবে। সিলেটে জুয়েল, মুনির ও তপন হত্যাকান্ড সহ শিবিরের হাতে নিহত সকল হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ