অজানা পথে- ৩৩: শাখাওয়াত হোসেন শফিককে সিলেটে সু-স্বাগতম

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

অজানা পথে- ৩৩: শাখাওয়াত হোসেন শফিককে সিলেটে সু-স্বাগতম

লতিফ নুতন: সিলেটে এসেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যেশে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির নামে শ্লোগান শুনতে সিলেট আসিনি। দলের জন্য দলীয় সভানেত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সিলেট সফরে এসেছি। সিলেটে এসেছি দলের কাজ করার জন্য, দলকে সুসংগঠিত করার জন্য। কোনো ব্যক্তির সাথে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করতে আমার সিলেটে আগমন নয়। তাই, কোনো ব্যক্তির নামে শ্লোগান না দিয়ে শ্লোগান দিতে হবে দলীয় সভানেত্রীর নামে, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নামে। সিলেট ওসমানী আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জের বাহিরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, সিলেটে কোনো গ্রুপিং এবং বিভাজন দেখতে চাইনা। শৃঙ্খলভাবে দলকে পরিচালনা করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, দলীয় প্রধানই দলের একমাত্র প্রাণশক্তি। দলের নেতাও হলেন শেখ হাসিনা। দলে থাকতে হলে দলীয় সভানেত্রীর নামে শ্লোগান দিয়ে দলের কাজ করতে হবে। সম্প্রতি দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত দ্বীপ হত্যাকান্ড নিয়ে বিস্তারিত জানলেন। সিলেটে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক কে শাহাজালালের পূণভূমিতে সু-স্বাগতম।

সোমবার দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে এসে পৌছেঁন। এ সময় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে এই নেতাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ:) ও শাহপরান (রহ:) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সফর কর্মসূচি শুরু করেন।

বিমানবন্দরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী। তিন দিনের সফরে তিনি বিভাগের চার জেলায় দলীয় কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ করবেন।

গত ৮ জানুয়ারি ২০২০ইং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিক। সিলেট বিভাগে দলকে পুনর্গঠনের অংশ হিসাবে সোমবার তিনি এই প্রথম সিলেট সফর করছেন। সিলেটে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। ১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে ও ১২ ফেব্রুয়ারী হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার সাংগঠনিক সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।

প্রিয় নেতা শাখায়াত হোসেন শফিক বলতে চাই বিগত দুই যুগ ধরে সিলেট আওয়ামী লীগ ছিল একটি সিন্ডিকেটের কাছে বন্ধি। যে কারণে বিগত সিলেট সিটি কর্পোরেশন,উপজেলা,ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। যার একমাত্র কারণ ছিল দলীয় গ্রুপিং। দলীয় গ্রুপিং এর কারণে বিগত দুই যুগ সিলেট আওয়ামীলীগ ছিল রাহুর কবলে। ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ইং সিলেটবাসীর জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পূরন হয়েছে কর্মীদের। দলের দুর্দিনের কর্মীদের এখন মূল্যায়ন হবে। কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হল। দুনীতিবাজ, টেহুারবাজ, অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়ও প্রশয়দাতারাদের কবর রচনা হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কাঁদলেন শুধু দলের বিপদগামী নেতারা। মায়ের কোলে ফিরে গেল উৎফুল্ল মাননীয় নেত্রী আপনার সূর্য মায়ের সন্তানরা। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের স্মরন কালের আওয়ামী লীগের বৃহত্তম মিলন মেলা দেখে নেতাদের আত্মশুদ্ধি হতে পারে। আর কর্মীদের মাঝে আশার আলো ফিরে পায়।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান নির্ভেজাল নেতা। সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান কর্মী বান্ধব নেতা। ৯২ সালে আমার সুযোগ হয়েছিল নাসির ভাই ও আমি সিলেট শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম। হাঁটি হাটি পা পা করে সিলেট শহরে নাসির ভাই ও আমরা ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছি। জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক জাকির হোসেন ছাত্রলীগকে ঘূরে দাঁড়াতে বিরামহীন ভাবে কাজ করেছেন। আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল সভাপতি আর নাসির উদ্দিন খান জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক থাকা কালে সিলেট ছাত্রলীগের প্রাণ ফিরে পেয়েছিল।

আজ সিলেট আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান হয়েছে। সিলেট জেলা কমিটি থেকে আমাদেরকে মানসিক ভাবে শেখার অনেক কিছু আছে। সিলেটবাসী আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দুরদূর্শি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ও অভিনন্দিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী যে বঙ্গবন্ধু’র কন্যা আজ আবার প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক প্রিয় নেতা আপনাকে সিলেটের সাংগঠনিক বিষয়ে কঠোর হতে হবে। সাবেক ছাত্রনেতাদের কে নিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পুনাঙ্গ কমিটি চাই। তৃর্ণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আপনার সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে আমাদের প্রত্যাশা পূরন হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ