অজানা পথে

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২০

অজানা পথে

লতিফ নুতন:
ডেডলাইন ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং বিকাল ৪টা দৈনিক সিলেটের দিনকালের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল কবীর পাভেলের ফোন ভাই আপনি কোথায়। এর দুদিন পূর্বে আমি অন্য একটি দৈনিক থেকে অব্যাহতি নেই। নাজমুল কবীর পাভেলের ফোন মানে ভাল খবর। বন্ধু পাভেল বললেন আপনি সন্ধ্যার সাথে সাথে আমাদের দৈনিক সিলেটের অফিসে আসেন। বললাম কেন তিনি বললেন আপনি ইতিহাস হবেন। পূর্ব থেকে বন্ধু পাভেলের সাথে সম্পর্ক তবে তেমন ঘনিষ্ট ছিল না। কোন দিন হাউসে এক সাথে কাজ করেনি। আমি নাজমুল কবীর পাভেলের কথায় ঠিক সন্ধ্যায় স্নেহ বোন পারভিন বেগমের সম্পাদনা আর প্রকাশনায় সিলেটের দিনকাল সিলেটের এশিয়া মার্কেটে আসলাম। মনে হল কেন যেন পাভেল আমাকে নিয়ে এসেছে। এখানে এসে দেখা হয় স্নেহভাজন দৈনিক সিলেটের দিনকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নুরুল ইসলামের সাথে। নূরুল আমাকে দেখা বলে ভাই আপনিতো আমার সাথে কথা বলে আর আসলেন না। আমি নুরুলের কাছে লজ্বা পেলাম।

মনযোগ সহকারে নাজমুল কবীর পাভেল আর নুরুল ইসলাম কম্পিউটারে কাজ করছেন। পাশের টেবিলে স্নেহভাজন নাঈম ইসলাম। পরবর্তীতে পরবর্তী জানলাম স্নেহভাজন নাঈম একজন সংবাদকর্মী হিসাবে কাজ সে আমাদের নুরুলের ছোট ভাই। এছাড়া আমাদের এলাকার সাংবাদিক ফাহাদ,ফটো সাংবাদিক জুনেদসহ সকলে মন ভরে কাজ করছে। তখন আমাকে বলছেন না পাভেল ও নুরুল আমাকে তাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় সিলেটের দিনকালে আমাকে যোগদান করতে হবে। আমি কিছুক্ষনের মধ্যে পত্রিকা সন্ধ্যকালীন সংখ্যা বের হবে সেখানে তাদের সাথে আমাকে দায়িত্ব দিতে হবে। নতুন হাউসে সবাই নতুন একা বসে আছি। হঠাৎ করে আমার রাজনৈতিক অভিবাবক বিজিত চৌধুরীকে ফোন করলেন নাজমুল কবীর পাভেল দাদা আপনাকে এশিয়া মার্কেটে সিলেটের দিনকাল পত্রিকায় আসতে হবে। আপনি আসা জরুরী কারণ। আপনিও ইতিহাসের পাতায় সাক্ষী হবেন। এরপর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ঠার শ্রদ্ধাভাজন বড়ভাই,আমাদের গোলাপগঞ্জের কৃতিসন্তান বদরুল ইসলাম সুয়েবকে একি ভাবে ফোন করলেন সাংবাদিক পাভেল। যাক বার বার রহস্য কাজ করছে কি ব্যাপার।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিজিত চৌধুরী,বদরুল ইসলাম সুয়েব আসলেন। তারা দুজন মিলে গল্পের আড্ডায় জমে উঠলো। আমি অন্ধকার সন্ধ্যায় বসে তাদের কথা গুলো শুনলাম। আট টার দিকে দেখি ফাহাদ সহ আরো একজন সংবাদ কর্মী দৈনিক সিলেটের দিনকালের সন্ধ্যাকালীন সংখ্যা নিয়ে এসেছে। পত্রিকাটি চমৎকার। ভরপুর সংবাদে। প্রিন্টার্স লাইনে আমার নাম আমি প্রধান সম্পাদক। বন্ধুবর এডভোকেট আফসর আহমদ সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি। তাই দেখলেন বিজিত দা ও সুয়েব ভাই। পাভেল ও নুরুলের ক্যারেশ ম্যাটিক কল্পনায় আমি আশ্চর্য হলাম। বার বার মনে পড়ছে আমি এত বড় দায়িত্ব পালন করতে পারবো কিনা ? এরই মধ্যে হাতে এক সাথে দাড়ালাম আমি বিজিত দা,সুয়েব ভাই। আমাদের হাতে দৈনিক সিলেটের দিনকালের সান্ধ্যকালীন সংখ্যা তুলে দেওয়া হল। ফটো সাংবাদিকরা প্রস্তুত আমাদের লাইভ করবেন। বিজিত দা,সুয়েব ভাই তাদের প্রতিক্রিয়া দিলেন। পরিশেষে আমার প্রতিক্রিয়া নেওয়া হল। আমি ওগোছালো কি প্রতিক্রিয়া দেব। তারপর পত্রিকার দায়িত্ব নিয়ে আজ পর্যন্ত একজন সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

দৈনিক সিলেটের দিনকাল এখনো পূর্বের মত সন্ধ্যাকালীন পত্রিকা বের হচ্ছে। আসলেই এঠা একটি ইতিহাস। সিলেট থেকে আরো বেশ ক’টি দৈনিক বের হচ্ছে। তাদের সাথে যুগের সাথে তাল দিয়ে প্রিয় সিলেটের দিনকাল বের হচ্ছে। আমাদের হাত পা বাধাঁ নেই। এই প্রথম দেখলাম যেখানে আমাদের হাত পা বাধাঁ নেই। কোন সংবাদ নিয়ে সংশয় নেই। নেই কোন ভিন্নমত নেই সম্পাদকীয়তে। বিশেষ করে বন্ধু পাভেল ও স্নেহভাজন নুরুল সব সময় বলেন আপনি আমাদে মুবব্বি। দেখলাম ঢাকা সিলেটের অনেকের অনেক দৈনিকে কাজ করেছি। এই প্রথম দেখলাম যেখানে হাত পা বাধাঁ নেই। নেই পাভেল ও নুরুলের ভিন্নমত।

আমরা এখন সিলেটের ব্লু-ওয়াটার মার্কেট থেকে বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়ে স্থানান্তর হয়েছে। আমাদের অনলাইন ভার্সন রয়েছে। এখন আমরা শ্রীহট্র মিডিয়া গ্রুপ করেছি। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিল নিউজ বিডি সর্বমহলে সারা দুনিয়ায় পরিচিত। প্রতিদিন সিলেটের দিনকাল ও সিল নিউজ বিডি থেকে লাইভ অনুষ্টান সরাসরি প্রচার হচ্ছে। আগামীতে আমরা আইপি টিভি নিয়ে শ্রীহট্র গ্রুপের পক্ষ থেকে আসছি। আমাদের শ্রীহট্র মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ যেভাবে একজন সমাজকর্মী তেমনি একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব।

পাশাপাশি একজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব। আজ আমরা সবাই একাকার। আমাদের হাত পা বাঁধা নেই। মন খুলে লিখছি। সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে লিখছি। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরছি। আমাদের কোন ভিন্নমত নেই। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আমরা নিরপেক্ষ নয় আমরা সাধারন মানুষের মুখ্যপাত্র। সবাইকে ধন্যবাদ। বিদায় ২০১৯ সাল স্বাগতম ২০২০সাল। আনন্দময় হউক মুজিববর্ষ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ