অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ লিখতে যে-বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ লিখতে যে-বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার

মুহিত চৌধুরী

ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন একঝাঁক যোগ্য এবং দক্ষ অনলাইন সংবাদকর্মীর। যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আর সে জন্য সংবাদ লিখতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে।

১.তথ্য যাচাই:

একটি সংবাদ তৈরীর আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে আলাপ-আলোচনা করে যখন আপনি বুঝতে পারবেন তথ্যটি সঠিক তখনই নিউজ করবেন।

২.বক্তব্য গ্রহণ:

ধরুন দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন কর্মী নিহত হলেন। এক্ষেত্রে ঘটনার বর্ণনা শেষ করে উভয় পক্ষের বক্তব্য এখানে ’কোট’ করতে হবে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যও ’কোট’ করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাও নেয়া যেতে পারে। এ ধরনের সংবাদে নিজের কোন বক্তব্য কিংবা মতামত দেয়া যাবেনা।

৩. ধর্মীয় পরিচয়:

সমাজে ধর্মীয় কারণ ছাড়াও অন্য নানা কারণে হত্যা ধর্ষণ এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। এই সব ঘটনার শিকার যে-কোন ধর্মবিশ্বাসের মানুষ হতে পারে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য না দেয়াই উত্তম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জায়গা জমি এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে ধর্মীয় কারণ কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধ্যান্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। যেমন-’কুড়িগ্রামে হিন্দু যুবক খুন’ অথবা ’কুলাউড়ায় খ্রিষ্টান যুবতীকে ধর্ষণ’ ইত্যাদি।

এ ধরনের শিরোনামের কারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। এটাকে একটি উসকানিমূলক সংবাদ হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে। সুতরাং আপনার নিউজটি সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে হতে হবে।

’কুড়িগ্রামে হিন্দু যুবক খুন’ এই শিরোনামটি এভাবে হতে হবে- ’কুড়িগ্রামে যুবক খুন’ এবং ’কুলাউড়ায় খ্রিষ্টান যুবতীকে ধর্ষণ’ -এর পরিবর্তে লিখতে হবে- ’কুলাউড়ায় এক যুবতী ধর্ষণের শিকার।

৪. ভিকটিমের নাম ও পরিচয়:

নির্যাতনের শিকার, ধর্ষণের শিকার, অপহরণের শিকার-কোন মেয়ে শিশু,যুবতি এবং নারীর নাম ও পরিচয় সংবাদে প্রকাশ করা যাবেনা। এক্ষেত্রে সংবাদেও সৌন্দর্য বৃদ্ধিও জন্য ছদ্মনাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫.সততা:

একজন সাংবাদিককে সবসময় তার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। তাই প্রথমেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন পক্ষে যাবেন?

নিজেকে যদি সৎ এবং নিরপেক্ষ রাখতে না পারেন, তাহলে সাংবাদিকতার এই মহান পেশায় আপনার প্রয়োজন নেই। এই পেশাকে কলঙ্কিত করার অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি।

৬.মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা:

কোন অবস্থায় আপনার লেখা সংবাদ যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বিপক্ষে না যায় এ দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন বির্তকিত ইতিহাস কিংবা বির্তকিত তথ্যও পরিবেশন করা যাবেনা।

৭.জঙ্গিবাদ:

কোনো রাজনৈতিক কিংবা সাংগঠনিক মতাদর্শকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া এবং সে লক্ষে মানুষকে হত্যা করার নামই জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদ দেশের অগ্রগতি,সুনাম,শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করা হয়-এমন কোন সংবাদ অনলাইনে প্রকাশ করা যাবেনা।

৮. আদালত সম্পর্কিত:

আদালত সম্পর্কিত নিউজ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন বুঝে এবং জেনে করতে হবে।তা না হলে আদালত অবমাননাসহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

৯.কপি পেস্ট:

অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোন সংবাদ অন্য পোর্টাল থেকে কপি করে এনে পেস্ট করা হয়। যদিও এটি কপিরাইট আইনের পরিপন্থি। তবে এক্ষেত্রে সংবাদের শেষে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের নাম এবং সূত্র উল্লেখ করা আবশ্যক।

তবে সূত্র উল্লেখ করার পরও সংবাদটি যদি আপত্তিকর কিংবা উসকানীমূলক হয়, তবে এটি আপনার নিউজপোর্টালে আপলোড করার জন্য আপনিও সমান অপরাধী।

১০. নিউজ কিল:

একটি সংবাদ আপডেট করার পর যদি জানা যায় সংবাদটিতে ব্যবহৃত তথ্য ভুল। সংবাদটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত করছে, সামাজিক এবং ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণœ করছে – এমন সংবাদকে তাৎক্ষনিকভাবে কিল করতে হবে। অর্থাৎ সংবাদটি অনলাইন থেকে মুছে দিতে হবে। এ ধরনের কাজকে ’নিউজ কিল’ বলা হয়।

১১. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন:

একজন অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীকে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। তাহলে বুঝতে পারবেন, কোন সংবাদ প্রকাশ করা উচিত এবং কোনটি উচিৎ নয়।

লেখক:

সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাতা,

সম্পাদক

দৈনিকসিলেটডটকম

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ