অন্তিম শ্রদ্ধা মাশুক ভাই , আল্লাহ আপনাকে বেহেশত নসিব করুন

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

অন্তিম শ্রদ্ধা মাশুক ভাই , আল্লাহ আপনাকে বেহেশত নসিব করুন

শেখ মেহেদী হাসান :: ষাট দশকের শেষ ভাগের কবি ও সাংবাদিক মাশুক চৌধুরী (নভেম্বর ১৬, ১৯৪৯-জুন ২৪, ২০২০) দিবাগত রাত দেড়টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। তার পিতা আলতাফুর রহমান চৌধুরী, মা মীর আয়েশা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। একাজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে একাধিক পত্রিকায় কাজ করেছেন। সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে।

অসাধারণ কবিতা লিখলেও ব্যক্তিগতভাবে নিভৃতচারী ছিলেন তিনি। প্রচারবিমুখ। সম্প্রতি তিনি কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছেন। দুটো প্রকাশিত হয়েছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত ‘নতুন দিগন্ত’ পত্রিকায়। আল মাহমুদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‌‌’কবি মাশুক চৌধুরীর কবিতা আমার একটি পুলক সৃষ্টির বিষয়-আশয়। কবিতার মধ্যেই একজন কবি চোখ বুজে লুকিয়ে থাকেন। আমার অধিকার জন্মেছিল সেখানে গিয়ে ‌’মাশুক-মাশুক’ বলে ডাক দেয়ার।’

তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা, রুচি, নিখুঁত সম্পাদনা প্রভৃতি আমাকে আকর্ষণ করত। সহকর্মী হিসেবে তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল নিবিড়। নির্মল হৃদয়ের অধিকারী এই মানুষটির সঙ্গে আড্ডা হয়েছে বহু। মনে পড়ছে, কয়েক বছর আগে তিনি অফিসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্রদ্ধেয় সম্পাদক নঈম নিজাম ভাইয়ের তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে অ্যাপলো হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে রাসেল, সালাউদ্দিন, আসলাম ও আমি গভীর উদ্বেগে পায়চারি করছি। পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। রাত সাড়ে ১১টায় চিকিৎসক জানালেন, যে কোনো একজন পরিবার সদস্য দরকার। জরুরী। বিষয়টি সম্পাদক ও মাহমুদ হাসান ভাইকে জানালে দুজনই দ্রুত চলে এলেন হাসপাতালে। পরিবারের পক্ষে আমি দায়িত্বপূর্ণ একটি স্বাক্ষর করলাম। রাত পৌনে একটায় ভাবী, তাঁর ডাক্তার কন্যা ও জামাতা এলেন। একজন পারিবারিক বন্ধুও এলেন। চিকিৎসক জানালেন, তাঁর শরীরের এক সাইট প্যারালাইসিস হয়ে গেছে।

কয়েক মাস পর তিনি সুস্থ হয়ে অফিস শুরু করলেন। আগের মতই তাজা, উদার, আন্তরিক, আধুনিক। আর আমি হয়ে গেলাম তাঁর পারিবারিক সদস্য। প্রতিদিন অফিসে ঢুকে আমার টেবিলে একবার ঢু মারতেন। নির্মোহভাবে সহযোগিতা করতেন। তাঁর কাছে অনেক কিছু শিখেছি। কবি সোহরাব হাসান, রায়হান চৌধুরী ও আমার তিন বছরের তাগাদা ও চেষ্টায় তাঁর ‘নির্বাচিত কবিতা’র বই প্রকাশ করে মাওলা ব্রাদার্স।

গত সপ্তাহে তিনি অফিসে এসেছিলেন। সন্ধ্যায় ফিরবার সময় দেখি তিনি অফিসের নিচে বসে আছেন। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি জানালেন, শরীরটা খারাপ লাগছে। একটি সিএনজি ডেকে দিন। আধা ঘন্টা পার করেও সিএনজি পেলাম না। এর মাঝে শুনলাম, তাঁর অফিসের গাড়ি আসছে। আমি চলে গেলাম বাসায় উদ্দেশ্যে।

আজ সকালে ঘুম ভাঙলে মোবাইল চেক করে দেখি, রায়হান ভাইয়ের ক্ষুদেবার্তা, মাশুক ভাই ইজ নো মোর। মন খারাপ হয়ে গেল। কয়েকজন সহকর্মীকে বিষয়টি জানালাম। আমাকে ফোন করলেন কবি মোহন রায়হান, ময়মনসিংহ থেকে কবি সোহরাব পাশা প্রমুখ। সবাই শোকাহত। অন্তিম শ্রদ্ধা মাশুক ভাই। আপনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ আপনাকে বেহেশত নসিব করুন।

ছবি : রাফিয়া আহমেদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ