অবহেলায় মাতৃগর্ভে শিশুর মৃত্যু, আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন দরিদ্র পিতা

প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২১

অবহেলায় মাতৃগর্ভে শিশুর মৃত্যু, আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন দরিদ্র পিতা

স্বপন দেব, নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বিলাপ করছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তানিয়া আক্তার (১৯)। নিজের প্রথম সন্তানের মুখ দেখার কথা ছিল তার। তাই খুঁজছেন নিজের সদ্যোজাত শিশুটিকে। কোন ভাবেই সান্তনা দেয়া যাচ্ছে না তানিয়াকে। সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়েছেন পেশায় গ্রাম পুলিশ স্বামী সরাফত আলী। প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে সিজারিয়ান সন্তান প্রসব করানোর সামর্থ্য ছিল না সরাফত আলীর। তাই নিয়ে গিয়েছিলেন জেলা শহরের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে। এই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা শহরের ছোট-বড় প্রাইভেট ক্লিনিকে অর্থের বিনিময়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু সেই সরকারি সেবা কেন্দ্রেই মৃত সন্তান প্রসব করতে হয়েছে তানিয়া আক্তারকে। এ দায় আসলে কার? নিজের অসামর্থতার নাকি সেখানকার স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের! এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো অজানাই থেকে যাবে। তবুও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে মাতৃগর্ভে সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ এনে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তানিয়া আক্তারের স্বামী গ্রামপুলিশ সরাফত আলী।

সরাফত আলীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ হামিদপুর গ্রামের মো. সরাফত আলী তার গর্ভবতী স্ত্রীকে সন্তান প্রসবের জন্য গত ২১ নভেম্বর ভর্তি করান মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে। এর আগে কয়েকবার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলেও ভর্তির সাথে সাথে আবারো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে হয় তানিয়াকে। রিপোর্টে সন্তান সুস্থ আছে বলেই জানান কর্তব্যরত নার্স-চিকিৎসক। এদিকে তানিয়া আক্তারের প্রসবকালীন ব্যথা বাড়তে থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলেন সরাফত আলী। কিন্তু তানিয়ার অস্ত্রোপাচার বা স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়নি। তাদের বলা হয়- ‘চিকিৎসা চলছে, আমরা জানি কী করতে হবে। অপেক্ষা করুন।’

এভাবে ২২ নভেম্বর চলে যায়। ২৩ নভেম্বর আবারো সকালে চিকিৎসক এসে ফের আরেকবার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে বলেন। তবে এবার আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট দেখে তানিয়ার গর্ভের বাচ্চা মৃত বলে জানানো হয়।

সরাফত আলী অভিযোগে আরও জানান, বারবার অনুরোধ করার পরও তার স্ত্রীর অপারেশন না করে কিংবা অন্যত্র চিকিৎসার সুযোগ না দেয়া হয়নি। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. সরাফত আলী প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা বারবার তাদের ডেলিভারির ব্যবস্থা করার জন্য বলেছি কিন্তু তারা কথা শুনেননি। তাদের অবহেলায় আমার বাচ্চাটি মারা গেল। অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু এতে যে কিছু হবে তা মনে হয় না। আমরা গরীব মানুষ, আমরা বিচার পাবো না। আমি আল্লাহর কাছেই বিচার চেয়েছি।’

এ অভিযোগের ব্যাপারে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক চিকিৎসক হুমায়ূন করীর বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ঢাকায় একটি ট্রেনিংয়ে আছি। কাল (রবিবার) পৌঁছানোর পর এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ