অভিভাবক হারিয়ে এনায়েতপুরে শোকের ছায়া

প্রকাশিত: ৩:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

অভিভাবক হারিয়ে এনায়েতপুরে শোকের ছায়া

অনলাইন ডেস্ক :; আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন অভিভাবক হারিয়ে জেলাবাসী চরম হতাশায় পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গত ১ জুন জ্বর-কাশিসহ করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। রাতে করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়।

সফল অস্ত্রোপচার হলেও তার মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। স্ট্রোকের পর থেকে গত ৮ দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টেই ছিলেন।

জানা যায়, চৌহালী, শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলার আঞ্চলিকসহ পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে ২০০১ সালের ১৪ জুন এনায়েতপুর থানা উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ নাসিম।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম এলাকার আইনশৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে এনায়েতপুরে এসে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে থানার উদ্বোধন করেন।

এ সময় স্থান জটিলতাসহ নানা বিষয়ে কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও তিনি এলাকার উন্নয়নে অবিচল ছিলেন। রাজপথ থেকে ওঠে আসা কর্মীবান্ধব এই সাহসী নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জেলাজুড়ে শোকে মুহ্যমান। শহর থেকে গ্রাম দলমত নির্বিশেষে সবাই একজন জাতীয় নেতার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ছে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট জ্যোর্তির বিজ্ঞানী এফ আর সরকার জানান, অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাত্র এক বছরের প্রচেষ্টায় মোহাম্মদ নাসিম এনায়েতপুর থানা উদ্বোধন করেছিলেন। এর পর থেকে এনায়েতপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করার জন্য যখনই গিয়েছি তার সুপরামর্শ পেয়েছি। অত্যন্ত বিনয়ী ও উন্নয়ন ভাবনার নেতা ছিলেন তিনি।

এনায়েতপুর নিয়ে তার উন্নয়ন চিন্তা ও সহযোগিতার কথা কখনও ভুলবো না।

এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, আমার সৌভাগ্য তিনি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন পুলিশ বাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেছি। এরপর তার এলাকা কাজীপুরের নাটুয়াপাড়া দায়িত্বে থাকাকালীন আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে নিমমিত খোঁজ খবর ও পরামর্শ দিতেন।

বর্তমানে তার হাতে প্রতিষ্ঠিত এনায়েতপুর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে এনায়েতপুর থানা পুলিশের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি আবদুল মজিদ মণ্ডল, দলের প্রবীণ নেতা অধ্যক্ষ বজুলর রশিদ ও আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু জানান, মোহাম্মদ নাসিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র এক দিন আগে এনায়েতপুর থানা উদ্বোধন করেন।

তিনি হয়রত খাজা এনায়েতপুরী (রহ.) একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। নানা ব্যস্ততার মাঝেও প্রায়ই তিনি ছুটে আসতেন এনায়েতপুরে। এবারও নির্বাচনের আগে তিনি দরবার শরীফ জিয়ারত করে এনায়েতপুরের উন্নয়নে নিজেকে একজন খাদেম হিসেবে ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আবদুল মমিন মণ্ডল জানান, শহীদ এম মনছুর আলী যেমন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোদ্ধা ছিল, তেমনি প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় সহযোদ্ধা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। তার মৃত্যু সিরাজগঞ্জবাসী নয় গোটা দেশের জন্য একটি বিরাট ক্ষতির কারণ। তার মৃত্যুতে বেলকুচি-চৌহালীবাসীর পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
      1
3031     
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ