অভিযানেও থেমে নেই লাল মিয়ার জুয়ার আসর

প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯

অভিযানেও থেমে নেই লাল মিয়ার জুয়ার আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক :: র‌্যাবের অভিযানে ২৫ জুয়ারীকে আটক করার পরও থেমে নেই সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজিরবাজারে শিলং তীর, ঝান্ডমান্ডসহ বিভিন্ন নামীয় একাধিক জুয়ার আসর। নির্বিঘ্নে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন এই জুয়ার আসর। ফলে ধ্বংসের পথে এলাকার যুবসামাজ ও ছাত্র সমাজ। আর এই জুয়া আসরের প্রধান হোতা হলেন যুবলীগ পরিচয়দানকারী লাল মিয়া। তার আস্তাভাজন সহযোগী হলেন সেলিম। তিনি রশিদপুরে হোটেল শেখ মহলে বসে লিখেন তীরের নাম্বার। নাজির বাজারের ৬ ভাই হোটেলে বসে নাম্বার লিখেন ম্যানেজার আবদাল। শীর্ষ জুয়ারী লাল মিয়ার বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তবুও চলছে সেই জুয়ার রমরমা ব্যবসা।

জানা যায়,  গত ২ আগষ্ট শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় র‍্যাপিড ব্যাটালিয়ন-৯, স্পেশাল কোম্পানী (সিলেট ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চলে লাল মিয়ার জুয়ার আসরে। অভিযান চলে দক্ষিণ সুরমার নাজির বাজারস্থ আপ্তাব আলীর ছেলে ও এ জুয়ার আসরের মূল হোতা লাল মিয়ার ছয়ভাই রেষ্টুরেন্ট এবং এর পার্শ্ববর্তী আধাপাকা ঘরে। এ সময় এ ঘরে জুয়াড়িরা খেলারত অবস্থায় ছিলো। র‌্যাব-৯ এর চৌকস দলের অভিযানে তারা আর পালিয়ে যেতে পারেনি। এ সময় ২৫ জুয়াড়িকে আটক করে র‌্যাব। তবে এসময় এ জুয়ার আসরের মূল হোতা লাল মিয়া সেখানে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি লাল মিয়ার জুয়ার আসর।

প্রশ্ন হলো, দেশব্যাপী প্রশাসন যখন মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে, তখন লাল মিয়া নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে জুয়ার আসর, তাই লালের খুটির জোর কোথায় ? এদিকে এলাকার যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ছয় ভাই রেষ্টুরেন্টে মদ, জুয়া, তীর খেলাসহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবীতে গত বৃহস্পতিবার সিলেট পুলিশ কমিশনারের হাতে শতাধিক এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। এলাকাবাসীরা এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

অভিযোগ প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বদরুল ইসলাম, এখলাছ আলী, জফর আলী, মোশাহিদ আলী, ইসমাইল আলী, মামুন মিয়া, আরিফ আলী, মোতাহির আলী, জহুর আলী, চেরাগ আলী প্রমুখ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অত্র এলাকার ছয় ভাই রেষ্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী কালিরগাঁও গ্রামের লাল মিয়া ও তার আপন ছোট ভাই ছুনু মিয়ার নেতৃত্বে রেস্টুরেন্টে দিন-রাত তীর খেলা, মদ, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করা হয়। রেষ্টুরেন্টে সামনে রয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা রেস্টুরেন্টের সামন দিয়ে যাওয়াত করে। প্রায় সময় মাদকসেবীরা শিক্ষার্থীদের ওত্যক্ত করে থাকে। এলাকায় লাল মিয়া ও ছুনু মিয়ার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সময় এলাকায় ত্রাসে সৃষ্টি করে যাচ্ছে তারা। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সব অপকর্ম। লাল মিয়া ও ছুনু মিয়াগংদের বিরুদ্ধে অত্র এলাকার মশাহিদ আলী, এমরান ও মামুন প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ রেষ্টুরেন্ট থেকে র‌্যাব-৯ অভিযানে ২৬ জন জুয়ারীকে আটক করে। অভিযানে চুনু মিয়াও আটক হন।

দুই একদিন বন্ধ থাকলেও পুণরায় সেখানে মদ, জোয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ আবারো চালু হয়ে যায়। এসব অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে ও এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে লাল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রকার বক্তব্য রাজি হননি। তিনি কখনো নিজেকে যুবলীগ নেতা আবার কখনো নিজেকে জামায়াত নেতা পরিচিয় দেন।

সৌজন্যে : দৈনিক সিলেটের দিনকাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ