অর্থআত্মসাত মামলায় ব্যবসায়ী জাফর কিবরিয়া সুজন কারাগারে

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২১

অর্থআত্মসাত মামলায় ব্যবসায়ী জাফর কিবরিয়া সুজন কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
অর্থ আত্মসাত মামলায় ব্যবসায়ী জাফর কিবরিয়া সুজনের (৪৫) জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মামলায় আরো তিন জনের জামিন না মঞ্জুর করা হলেও আগাম জামিন থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন নগরের শাহজালাল (র.) দরগাহ গেইট হোটেল স্টার প্যাসিফিকে অবস্থিত শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক মোস্তফা রাজ্জাক মোল্লা ওরফে রানা (৪৫), প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপক অনুপ কুমার দাস (৪৩) ও প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ট্রেডিং এন্ড বিজনেস ডেভেলাপমেন্ট ফারহানা বেগম ওরফে ফারহানা আফরোজ (৩৭)।
সোমবার (০৪ জানুয়ারি) সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেন তাদের জামিন না মঞ্জুর করেন।
মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, নগরের আখালিয়া ওয়াপদা গেইট এলাকার কিবরিয়া ভবনের মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে মামুন কিবরিয়া সুমন ২০১৯ সালের ২৬ জুন ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা শেয়ার ব্যবসা থেকে আত্মসাতের দায়ে জাফর কিবরিয়া সুজন (৪৫)সহ ৭ জনের নামোল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। জামিন নামঞ্জুর হওয়া ৪ জন ছাড়া মামলার আসামিরা হলেন, এসসিসি ব্যাংক নগরের কুমারপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুর রহমান, ওই ব্যাংকের সহকারি ব্যবস্থাপক ও সিলেটের বিশ্বনাথের শাখারীকোনা গ্রামের রইছ আলীর ছেলে আফজাল হাবিব মঈন (৪০)।
মামলায় মামুন কিবরিয়া সুমন উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজ এন্ড ষ্টিল করপোরেশনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের শ্রমেঘামে অর্জিত অর্থ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে ২০১৩ সালের ৮ জুলাই বি/ও একাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু মামলার ১নং আসামি তার বড় ভাই ২ ও ৪ নং বিবাদীর যোগসাজসে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে উপরোক্ত বিও একাউন্টে থাকা তার ছবি ও নাম ঠিকানা বহাল রেখে স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে না পেরে হিসাব খোলাকালীন স্বাক্ষরযুক্ত ফরম পরিবর্তন করেন। এরপর জাল স্বাক্ষর দিয়ে বিও হিসাব থেকে ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকার শেয়ার বিক্রি করে আত্মসাত করেন। বিগত ২০১৭ সালের ২২ মে তারিখের উক্ত টাকার চেক ২ ও ৪ নং বিবাদির যোগসাজসে তার নামে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় ১নং বিবাদি নিজেকে নমিনি হিসেবে রেখে নিজের স্বাক্ষর ও ছবি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৩ মে উপরোক্ত চেকখানা ৫ ও ৬ নং বিবাদির এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড কুমারপাড়া শাখায় ১নং বিবাদি কর্তৃক খোলা জাল হিসাব নাম্বারে জমা প্রদান করেন এবং সৃজনকৃত উপরোক্ত জাল হিসাব থেকে উত্তোলিত ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ১নং বিবাদি জাফর কিবরিয়া সুজন তার নামীয় বিভিন্ন একাউন্টে হস্তান্তর করে নেন। পরবর্তীতে জাল-জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে ব্যবসায়ী মহলকে অবহিত করেন মামলার বাদি।
মামলাটি তদন্তকালে তিনজন কর্মকর্তার হাত বদল হয়। অবশেষে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি’র সিলেট জোনের এসআই রিপন কুমার দে তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে এজাহার বহি:ভূত আসামিরা হলেন সিলেটের কুমারপাড়া এনসিসি ব্যাংকের ডাটা এন্টি জুনিয়র অফিসার সুমন্ত গুপ্ত (৩৬), উক্ত ব্যাংকের জেনারেল ব্যাংকিং হিসাব কর্মকর্তা পম্পা পাল চৌধুরী, আইডিসিএলসি ইনভেস্টমেন্টস’র অফিসার নাবিল মোহাম্মদ মোশারফ (৩২) ও আ হ ম নাজমুল হাসান (৪৪) ও নাফিসা রেজওয়ান। তদন্তে সত্যতা পেয়ে ৫ থেকে ১১ নং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুর জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া তদন্তকালে দেখতে পান, ১নং আসামি জাফর কিবরিয়া সুজন সুজন জালিয়াতির মাধ্যমে বিও একাউন্ট ফরমে তার মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করেন, যাতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষুদে বার্তা একাউন্টের আসল মালিক বাদি মামুন কিবরিয়ার মোবাইলে না যায়।
মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিসবাউর রহমান জানান, জাফর কিবরিয়া সুজন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে ফরম জালিয়াতি করে ৬ কোটি ৩ লাখ ৩৩ হ্জাার টাকার শেয়ার বিক্রি করেন। ওই টাকার চেক নিয়ে এনসিসি ব্যাংক সিলেটের কুমারপাড়া শাখায় জমা দেন। সেখানেও মামুন কিবরিয়া সুমনের নামে ভুয়া একাউন্ট খুলে ১নং বিবাদি অথরিটি থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরস্পর যোগসাজসে অর্থ আত্মসাত করেন। ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের পর সোমবার শোনানীর প্রথম দিনেই ৪ জনের জামিন নামঞ্জুর হয়। এরমধ্যে ৩ জনের আগাম জামিন থাকায় কেবল জাফর কিবরিয়া সুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ