আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী সফল হোক-এস এম সুজন

প্রকাশিত: ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী সফল হোক-এস এম সুজন

 

গৌরব-ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন, উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন। পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার দায়ের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী,শামসুল হক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এই সংগঠনের নাম ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থাকলেও পরবর্তীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়।৫২র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে।’ ৬২ সালে গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬’র ৬ দফার আন্দোলন, ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। ‘৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ৭১র ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকনিদেশনা দেন ২৫শে মার্চ রাতে গ্রেফতারের পূর্বমূহুর্তে শ্বাধীনতা ঘোষনা করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বীর বাঙ্গালীরা যুদ্ধে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম লাল সবুজের বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে উপহার দেয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা-উত্তর সাড়ে তিন বছর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই কুচক্রী মহল, স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে সংগঠনটিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নব উদ্যমে সংগঠিত হয়।স্বৈরাচার, বিভিন্ন গণতন্ত্রীক আন্দোলন ৯০ এর গণ-অদ্ভুথান সংসদীয় সরকার ব্যবস্হা সহ অপশক্তি বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা ১৯৯৬’র সরকার গঠন করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠন করে ‘ভিশন ২০২১’-এর আলোকে মধ্যম আয়ের সুখী-সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখান এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০৪১’-এর আলোকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্টাবার্ষিকী,বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।

আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনকেই নয়, এটি হচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সমাজ-রাজনীতির ধারাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।প্রতিস্টার সময় থেকে আমার আদর্শ্যের মহান শিক্ষক জাতির প্রতিস্টাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করেন।এরই ধারা-বাহিকতায় আমার আদর্শ্যের নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা বঙ্গরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক সুখি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।প্রতিস্টাবাষির্কী সফল হোক,স্বার্থক হোক।
বৈশ্বিক মহামারীর দিন সকলের প্রতি অনুরোধ রাস্ট্রের নীতিমালা মেনে চলুন,আপনার পরিবার প্রতিবেশী সমাজ জাতি ও দেশকে সুস্থ রাখুন।আমরা অনেক আপনজন ,রাস্ট্র অনেক গুনিজনকে হারিয়েছে।সকলের আত্নার শান্তি কামনা করি।আল-গফূরু,আমাদের ক্ষমা করুন,হসপিটাল সহ বিভিন্ন জায়গায় অসুস্থ সকলের সুস্থতা দান করুন ।মহামারীকে আসমানে উটাইয়া নেও মহাপ্রভূ ! মহান আল্লাহ আমাদের সহায়হোন।জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।দীর্ঘস্হায়ী হোক আমার জন্ম ভুমি।
লেখকঃ এস এম সুজন
শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক
যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ