আজমিরীগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে বালু উত্তোলন

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

আজমিরীগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে বালু উত্তোলন

অনলাইন ডেস্ক ::
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে বদলপুর ইউনিয়নে বালুখেকো চক্র দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরো বেপরেয়া। সরকারি নির্দেশনা, উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায়শই চলছে বালু উত্তোলন। বার বার সংবাদ প্রকাশ করার পরও ঐ চক্রের বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে সরকার যেমন হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব অপরদিকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী হারাচ্ছে তার নিজস্ব নব্যতা। সাথে যোগ হয়েছে ঐ এলাকার নদী ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গনের ফলে ইউনিয়নের মাহমুদপুর, মাটিয়াকাড়া, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ ভুমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ইতিমধ্যেই।

মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা রনজিত সরকার, রাবেল রায় এবং পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল মিয়া জানান-একটি চক্র প্রতি বৎসর নদী থেকে বালু উত্তোলন করে, আমরা গ্রামবাসী বাধা দিলে বাধা মানে না। এতে আমাদের গ্রামের অনেক বাড়ি ঘর, জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা যায়, বিগত কয়েক দিন পুর্বে পাহাড়পুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৪০টির মতো দোকানঘর পুড়ে যায়। নতুন ঘর তৈরির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উক্ত বালু খেকো চক্র আবার হয়েছে সক্রিয়। গত ৩/৪ দিন যাবত নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করে যাচ্ছে ঐ চক্র।

এ ব্যাপারে প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবাগত করা হলেও উনারা পাহাড়পুরে তহশীলদার সালাম মিয়ার মাধ্যমে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন না করার নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু কথায় আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি। বদলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি অরুন তালুকদার তহশীলদার সালামকে ম্যানেজ করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যহত রাখেন। ড্রেজার চলার বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য নিতে গেলে অরুন তালুকদার সাংবাদিকদেরকে তার দলীয় প্রভাব দেখিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলেন।

অরুন তালুকদার বলেন, ‘আজমিরীগঞ্জে কেউ ড্রেজার বন্ধ করতে পারবে না। আমার নেতা সব সামাল দিবেন।’

স্থানীয় আরেকটি সূত্রে জানা যায়, তহশীলদার সালামের সহযোগীতায় অরুন তালুকদার তার সহযোগী দিপঙ্কর চৌধুরী, হরিদাস, গেপাল দাসসহ আরো বেশজনকে নিয়ে এলাকায় খাস জায়গা দখল, ড্রেজারে বালু উত্তোলনের বানিজ্য করে অল্পদিনেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।

রাতের আধারে মদ খেয়ে মাতলামি, সরকারী খাস জায়গা দখল করে বিক্রি, বাজারের সবজি শেড দখল করে ভাড়া দিয়ে টাকা তুলার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চলার কারনে স্থানীয় নিরীহ লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করেন না।

এ বিষয়ে যুবলীগের সভাপতি অরুন কুমার তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ‘পাহাড়পুর বাজারে কোন ড্রেজার মেশিন চলেনি, আর যদি চলেও আমি অবগত নই।’

বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি )উত্তম কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি, যারা আমাদের নির্দেশ অমান্য করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে তারা যতবড় প্রভাবশালীই হোক না কেনো তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ