আত্মহত্যা মহাপাপ

প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২১

আত্মহত্যা মহাপাপ

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানি

আত্মহত্যা একটি সামাজিক সমস্যা। চলমান সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। তুচ্ছ কারণেও অনেকে বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। মহামূল্যবান জীবনটাকে খেলনার মতো বিলীন করে দিচ্ছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হত্যা আত্মহত্যা মহাপাপ। জীবনের মূল্য অনেক বেশি। নিজের জীবন ও অপরের জীবনে কোনো ব্যবধান নেই। মহান প্রভু ঘোষণা করেন, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করিও না’ (সুরা বাকারা-১৯৫)। অপর আয়াতে বলেন, ‘তোমরা একে অপরকে হত্যা করিও না’ (সুরা নিসা-২৯)। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করে তাকে দোজখের মধ্যে এভাবেই লোহার মাধ্যমে অনবরত নিজেকে হত্যা করার শাস্তি প্রদান করা হবে। যে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে তাকে অনবরত বিষ পান এবং যে পাহাড় থেকে পড়ে আত্মহত্যা করে তাকে এভাবেই দোজখে অনবরত শাস্তি প্রদান করা হবে (সহিহ বুখারি)। সাহাবি জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, জিহাদের মাঠে জনৈক ব্যক্তি আহত হয়ে অধৈর্য অবস্থায় আত্মহত্যা করার ফলে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার বান্দা তাড়াহুড়া করেছে। আমি তার জন্য বেহেশত হারাম করে দিয়েছি (সহিহ বুখারি)। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো মানুষকে হত্যা করা যেমন দন্ডনীয় অপরাধ, তেমনি আত্মহত্যা করাও দন্ডনীয় অপরাধ ও মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত। কেননা প্রতিটি জীবনের প্রকৃত মালিক সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতায়ালা। জীবন একমাত্র আল্লাহর অনুদান। প্রকৃত জীবন হলো পরকালের জীবন। এই পার্থিব জীবন শুধু পরকালের প্রস্তুতিমূলক কর্ম সম্পাদনের জন্য। তাই এ জীবনের মূল্যায়ন পরকালে প্রতিদান প্রাপ্তির সহায়ক গণ্য হবে। অতএব, পরিপূর্ণ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে জীবনকে পরম সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই মহান প্রভুর অনুমতি ও নির্দেশনা ব্যতীত এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা বৈধ হবে না (ফাতহুল বারী)। আত্মহত্যার বড় অংশই তুচ্ছ কিছুকে ভিত্তি করে সংঘটিত হচ্ছে। মোবাইল আসক্তিতে প্রতিবন্ধকতা, অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বারণ করা অথবা অবান্তর চাহিদায় ব্যর্থ হওয়ার কারণেও কেউ বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। বিশেষজ্ঞদের মতে যান্ত্রিক জীবনযাপনের পরিণতিতে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে বিচ্ছিন্নতা। হারিয়ে যাচ্ছে মানসিক বাস্তবতা। হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখগুলো অনেককে আবেগতাড়িত করছে। দেখা দিচ্ছে একাকিত্বের ক্ষোভ, যা আত্মহত্যায় মদদ জোগাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবক, মাতা-পিতা এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী সবাই আত্মহত্যা প্রবণতার কারণ নির্ণয় ও প্রতিকারের উদ্যোগ নিতে হবে।

লেখক : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ