আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য : দখল হচ্ছে হিন্দু আলী দীঘি

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য :  দখল হচ্ছে হিন্দু আলী দীঘি

নিজস্ব প্রতিবেদক : উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধাঁরে মাঠি ভরাট করে দখল হচ্ছে সৈয়দানীবাগের হিন্দু আলী দীঘির পাড়। গত ১৪ জুলাই আদালত এই হিন্দু আলী দীঘির পাড়ের জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করান সৈয়দ তাজিদুল হোসেন বাবুল গং। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই জমিতে স্থিতাবস্থা জারি থাকবে আদেশ করেছেন উচ্চ আদালত। স্থিতাবস্থার ফলে এই জমি যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থায় থাকার কথা থাকলেও একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র তা মানতে নারাজ! তারা আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২৭ অক্টোবর রোববার রাত থেকে এই জমির দীঘির পাড়ের গাছ কর্তন, মাটি ভরাট, বাশেঁর বেড়া দেয়া এমনকি সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ালও নির্মান করছেন। কলোনী ব্যবসায়ী সৈয়দ আফজাল, সৈয়দ সমু, সৈয়দ মাহতাব ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সৈয়দ সাব্বির উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন।

এদিকে, এই দীঘির পাড়ের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে কারনে সৈয়দ নয়ন নামে একজন অংশিদারকে টাকার বিনিময়ে ফিটিং মামলায় ফাসানোর অভিযোগ উঠেছে ওই সঙ্গবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাতে হযরত শাহপরাণ (র.) থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন। এ সময় পুলিশ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা জানান জমির বাদী-বিবাদীকে। পরবর্তিতে আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত জমির কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না বলে পুলিশ তাও জানায় তাদের।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীঘির পাড়ের গাছপালা কাটা ও দীঘি ভরাট করছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। গত এক সপ্তাহ ধরে দ্রুত গতিতে চলছে দীঘি ভরাট ও গাছপালা নিধন।

বুধবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিন্দু আলী দীঘির পাড়ে মাটি ভরাট, বাশেঁর বেড়া দেয়া এমনকি সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ালও নির্মান করছেন করা হচ্ছে।

এই জমির মালিক দাবিদার কলোনী ব্যবসায়ী সৈয়দ আফজাল, সৈয়দ সমু, সৈয়দ মাহতাব ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সৈয়দ সাব্বির। তবে রাতের আধাঁরে কেনো এমন করছেন প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।

উচ্চ আদালতে মামালার বাদী সৈয়দ তাজিদুল হোসেন বাবুল বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমির দীঘির পাড়ের গাছ কর্তন, মাটি ভরাট, বাশেঁর বেড়া দেয়া এমনকি সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ালও নির্মান করছেন কলোনী ব্যবসায়ী সৈয়দ আফজাল, সৈয়দ সমু, সৈয়দ মাহতাব ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী সৈয়দ সাব্বির।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, ব্রিটিশ আমলে খনন করা এ দীঘিটি সাদীপুর দ্বিতীয়খন্ড মৌজার জেএল ৯৮ এ পড়েছে। হিন্দু আলী পুকুর সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য বলে রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় এই প্রভাবশালীরা তা না মেনে দীঘিটি দখলে উঠেপড়ে লেগেছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শাহপরান (রহ.) থানার ওসি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে এবং বাদী-বিবাদীকে আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত জমির কোনো ধরনের পরিবর্তন না করা থেকে বিরত থাকার জন্য দীঘির পাড়ের জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ