আন্তর্জাতিক নারী দিবস “প্রণমি তোমায় জননী “

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২১

আন্তর্জাতিক নারী দিবস “প্রণমি তোমায় জননী “

::: অজয় পাল :::
পিতা-মাতার সংসারে আট সন্তানের জন্মদাত্রী আমাদের মমতাময়ী মা । জন্ম দিলেই তো মায়েদের কর্ম শেষ হয়ে যায় না , একেকজনকে খাটুনি দিয়ে গড়ে তোলার লড়াইটা-ই মায়েদের বড় কর্ম । আমাদের মাও ছিলেন অদম্য লড়াকু । এ লড়াইয়ে সব মায়েরাই হারতে নারাজ । দুষ্প্রাপ্যতা ছিলো বলেই সিলেটে তখন কাজের লোক পাওয়া সহজ সাধ্য ছিলো না । এ সময় কাজের মানুষ থাকলে; খাটুনি কমতো মায়ের ।
দম ফেলার সুযোগ পেতেন । কিন্তু সেই কপাল ছিলোনা এই জন্মদায়িনীর । সন্তান আর সংসার সংসার করে শেষমেষ জীবনটাই শেষ করে দিয়ে ধরাধামের সাথে সকল সংশ্রব ছিন্ন করলেন ।
অথচ কি আশ্চর্য , জীবদ্দশায় মা-জননীকে কখনো রোগ – বালাই নিয়ে টুকটাক ছাড়া খুব একটা ধূকতে দেখিনি । ধূকলেন তখনই , সন্তানদের সকলেই যখন প্রতিষ্ঠিত , অথচ শয্যাশায়ী মা-কে তখন
সময় দেয়ার আমাদের বড্ড অভাব ! এই অভিযোগে সর্বাগ্রে আমি নিজেকেই অভিযুক্ত করছি নিঃসংকোচে । ক্ষমা চাইছি মাগো ।
জগৎ আলোকিত করতে প্রতিদিন সূর্য ওঠে প্রাতে , আর সংসারে আলো দিতে মা জাগতেন রোজ সূর্যেরও আগে । কি সংগ্রামী ছিলে মা তুমি ! একদিকে ডাকতো ভোরের পাখি , একদিকে মা দুর্গার মতো দশ হাতে তুমি সংসার কর্মে ব্যস্ত । ভোর থেকে বেশ রাত অবধি সংসার কর্ম শেষে
যখন ক্লান্ত – পরিশ্রান্ত হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে , তখনো তোমাকে আমরা নিস্তার দিইনি । আমরা জড়ো হতাম তোমার চারপাশে । আমাদের তখন কতো বায়না , কতো আব্দার । তুমি কখনো বিমুখ করোনি , সহাস্যে সব মেনে নিয়েছো , আর আমাদের মাথার চুলে বিলি কেটে কেটে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেছো । আর আমরা , আমরা কখন যে তোমার কর্মক্লান্ত দেহের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে ঘুমিয়ে পড়তাম , কিচ্ছু মনে করতে পারতাম না ।
আমাদের ছেড়ে চলে গেছো আজ কতোগুলো বছর হয়ে গেলো মা । কিন্তু তোমার দেহ থেকে ভেসে আসা সেই ঘামের আকুল করা ঘ্রাণ এখনো নিরন্তর ফিরে ফিরে আসে । মনে হয় , এখনও ঘুমিয়ে আছি তোমার
পাশেই । এখনো তুমি দু’বাহু বাড়িয়ে আছো আমাদের দিকে । অনন্তকাল তুমি এভাবেই থেকো মা । থেকো , আমাদের সমস্ত সত্তার সাথে জড়িয়ে । কেবল আন্তর্জাতিক নারী কিংবা বিশ্ব মা দিবসেই তোমাকে স্মরণে এনে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে চাইনা । চাই , প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্তে তুমি আমাদের অস্তিত্বের
সাথে জড়িয়ে থাকো। ” প্রণমি তোমায় জননী” ।
আমাদের মা এবং সাথে পরিবারের পাঁচ ভাই (দুই বোন ও এক ভাইয়ের অনুপস্থিতির কারণে ছবিটি পূর্ণতা পেলোনা ) সহ কয়েকজন সদস্য ( সুমন ,রাজন , টুটুল , সুপ্তী , সজিব , জ্যোতি , অন্তু ও দীপ ) ।
লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক, গীতিকার-ছড়াকার ও সংস্কৃতিকর্মী

আমাদের ফেইসবুক পেইজ