‘আর্মেনিয়ায় গণহত্যার অংশীদার ইসরাইল’

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

‘আর্মেনিয়ায় গণহত্যার অংশীদার ইসরাইল’

অনলাইন ডেস্ক

আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে গণহত্যার অংশীদার হিসেবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন নাগোরনো-কারাবাখের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট অ্যারাইক হারুতিইয়ান। এ খবর জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন প্রজাতন্ত্র আর্মেনিয়ানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘গণহত্যা’র জন্য ইসরাইল আংশিক দায়ী।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের এপ্রিলের যুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ শুধু এটা জানত না যে, তারা আজারবাইজানের কাছে যে অস্ত্র বিক্রি করেছে তা প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে নয় বরং আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই অস্ত্রগুলো ইসরাইল থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহার করেছিল।

অ্যারাইক হারুতিইয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানেন না যে, ড্রোনগুলো আজারবাইজান কর্তৃক বেসামরিক নাগরিকের ওপর আক্রমণ চালানোসহ আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, এটি ছিল মিথ্যা অভিনয়।

ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে বিরোধীয় অঞ্চলের এই নেতা বলেন, অবশ্যই তারা জানে, এবং তারা প্রতিনিয়ত অস্ত্র সরবরাহ করছে। এবং ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যারা নিজেরাই একটি গণহত্যা থেকে বেঁচে গেছে, তারা এই (কারাবাগ) গণহত্যার জন্যও দায়ী।

তিনি বলেন, কেবল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষই নয়, অন্যান্য দেশের লোকেরাও জানেন যে কী চলছে এবং তারা আজারবাইজানকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

একই দিন ইয়েরেভেন ও অস্বীকৃত নাগোরনো-কারাবাখ কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলে যুদ্ধে বাকুকে ইসরাইল ও তুরস্ক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে। তবে আজারবাইজান এটিকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছে। তেলআবিবের সঙ্গে বাকুর ভালো সম্পর্ক নষ্ট করতে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।

এছাড়া একই দিন আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্টসরুন হোভহাননিসইয়ান বলেছেন, মানবিক সহায়তার আড়ালে তুরস্ক ও ইসরাইল থেকে আজারবাইজানকে হামলার জন্য ড্রোন সরবরাহ করা হচ্ছে।

২৭ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়। পরবর্তীতে শুক্রবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

এতে উভয় পক্ষ মানবিক কারণে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এ যুদ্ধবিরতিতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবন্দিসহ অন্যান্য বন্দি বিনিময় ও মৃতদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়।

শনিবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরস্পরকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘেনের জন্য অভিযুক্ত করে।

কারাবাখ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত। তবে ওই অঞ্চলটি জাতিগত আর্মেনীয়রা ১৯৯০’র দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই দশকেই আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ